ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

আইবিএফবির সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী

সুদের হার কমিয়ে বিনিয়োগে সহায়তা করুন

প্রকাশিত: ০৪:৪৫, ২১ ডিসেম্বর ২০১৫

সুদের হার কমিয়ে বিনিয়োগে সহায়তা করুন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে দেশে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ হচ্ছে না। ব্যাংকে এ মুহূর্তে তারল্য সঙ্কট নেই। ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ায় ব্যাংকে জমছে অলস টাকা। কিন্তু উচ্চ সুদের কারণে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকমুখী হচ্ছেন না। ফলে বেসরকারী খাতের বিনিয়োগও বাড়ছে না। গত কয়েক বছর ধরে উদ্যোক্তারা সিঙ্গেল ডিজিট সুদ হার নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে সুদহার কিছুটা কমলেও এখন তা দুই অঙ্কের ঘরে রয়েছে। এ নিয়ে তাই আক্ষেপ রয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের। তাই তিনিও ঋণের সুদকে বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সুদের হার কমিয়ে ব্যাংকগুলোকে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রবিবার ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগের বড় বাধা হচ্ছে ঋণের সুদহার। ব্যাংকগুলো নিজেরাই সুদ হার নির্ধারণ করছে। শুধু তাই নয়, ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) উন্নয়নে সেইভাবে সহায়তা করে না। জাতীয় অর্থনীতিতে এসএমই উদ্যোক্তাদের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে মুহিত বলেন, শিল্পোৎপাদনের প্রায় ৯৩ থেকে ৯৫ শতাংশ হচ্ছে এসব উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে বলব, এসএমই খাতকে সহায়তা করতে। সেইভাবে সুদ হার নির্ধারণ করতে হবে যাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসেন। ওই অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া উদ্যোক্তারাও ঋণের সুদ হার কমানোর দাবি জানান। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জি এম নূর ইসলাম রনি নামের একজন উদ্যোক্তা আক্ষেপ করে বলেন, আমরা আরও ভাল করতে পারতাম, যদি সহজে ও সুলভে মূলধন পাওয়া যেত। কিন্তু ব্যাংকে ঋণের জন্য গেলে তারা নানাভাবে নিরুৎসাহিত করে। অবাক হই, তাহলে ব্যাংক কি কাজ করতে চায়? আবার ঋণ পাওয়া গেলেও তার সুদ হার চড়া। বছরের পর বছর ঘুরেও ঋণ পাওয়া যায় না। আর ঋণ মিললেও সুদের সঙ্গে দিতে হচ্ছে সার্ভিস চার্জ। এসএমই শিল্প বিকাশে এটা একটা বড় বাধা বলে তিনি মনে করেন। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর শেষে ব্যাংক খাতে ঋণের গড় সুদ হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সার্ভিস চার্জসহ এই সুদ আরও বেশি। এই সুদ দিয়ে বিনিয়োগ সম্ভব নয় বলে মনে করেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই থেকে ইতোমধ্যে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার দাবি করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা। তিনি জানান, এত সুদ দিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব নয়। বিনিয়োগের জন্য অবশ্যই সুদ হার কমাতে হবে। সরকারের কাছে সুদ হার ৯ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য দাবি করা হয়েছে। আশা করছি, ব্যাংক ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসবে। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায়ীরা সুদ হার কমানোর জন্য চিৎকার করছে। সরকারের সদিচ্ছার কারণে সুদ হার কিছুটা কমছে। তবে এই কমায়ও বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট নয়। এটি অবশ্যই ৯ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত। অথচ এই খাতে ব্যাংকগুলো সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে না। জামানতবিহীন ঋণ পাওয়া যায় না। অথচ দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতি এগিয়ে নিতে এসএমই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে দেশের এসএমই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
monarchmart
monarchmart