ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

ঘোষণা দিয়েও রাসেলস ভাইপার ধরার পুরস্কারের টাকা দিল না আ.লীগ নেতা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

প্রকাশিত: ২২:২০, ২৩ জুন ২০২৪

ঘোষণা দিয়েও রাসেলস ভাইপার ধরার পুরস্কারের টাকা দিল না আ.লীগ নেতা

রাসেলস ভাইপার ও কৃষক।

সারাদেশে রাসেলস ভাইপার নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দিয়েছিলেন এই সাপ মারতে পারলেই ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। ২০ জুন এ ঘোষণার পর সমালোচনা হওয়ায় ২১ জুন জেলা আওয়ামী লীগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নিজে সুরক্ষিত থেকে জীবিত রাসেলস ভাইপার ধরে বন বিভাগে জমা দেওয়া হলে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

এরপর থেকেই সমগ্র ফরিদপুর জুড়ে শুরু হয়েছে জীবিত রাসেলস ভাইপার ধরার জন্য কসরত। রবিবার (২৩ জুন) পর্যন্ত তিনটি রাসেলস ভাইপারের বাচ্চা জমা দেওয়া হয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এগুলো সদরের গোলডাংগী, অম্বিকাপুর ও আলীয়াবাদ থেকে ধরা হয়। 

শহরের গোলডাংগী থেকে একটি সাপ ধরেছেন কৃষক শাহজাহান বিশ্বাস (৫২)। তিনি জানান, নিজ জমিতে গতকাল শনিবার কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় বিকালে সাপটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সাপটিকে প্লাস্টিকের কন্টেনারে ভরে ফেলেন। সাপটি প্রায় দেড় ফুট লম্বা। আজ রবিবার সকালে তিনি বন বিভাগে সাপটি জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র নিয়ে আসেন। পুরস্কারের আশাতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি সাপটি ধরেছেন।

বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘সাপ জমা এবং এ সংক্রান্ত কোন প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফোন করে ধরা সাপ জমা রাখার নির্দেশ দিলে তিনি তা জমা রাখেন। যে সাপ তিনটি জমা পড়েছে, তা বাচ্চা।  আমার মনে হয় পুরস্কারের আশায় সাপ তিনটি ধরা হয়। জীবিত সাপ জমা দেওয়া হয়েছে এ মর্মে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক প্রত্যয়নপত্র চাওয়ায় যাঁরা সাপ জমা দিয়েছেন, তাদের প্রত্যয়নপত্র দিতে হয়েছে। সাপের বাচ্চাগুলো কাঁচের বয়ামে, প্লাস্টিকের পাত্রে কিংবা অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এ তিনটি সাপ কোথায় অবমুক্ত করা হবে, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জেলা আওয়ামী লীগের ঘোষণা প্রত্যাহার না করা হলে বিপদ বাড়বে। কেননা, সাপ বা সাপের বাচ্চা সবার দাতেই বিষ আছে, যার কামড়ে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।’

ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে করে একটি রাসেলস ভাইপারের বাচ্চা বন বিভাগে জমা দিয়ে কাগজ নিয়ে এসেছি। সরকারের দলের লোকেরা ঘোষণা দিয়েছিলেন যে জীবিত সাপ ধরে আনতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। এ জন্য আমি জীবনের রিস্ক নিয়ে সাপটি ধরে আনি। টাকার কথা শুইনা এ রিস্ক নিচ্ছি।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক বলেন, ‘আমাদের ঘোষণায় সাপ ধরার ঘটনা ঘটছে। বন বিভাগ বলেছে, সাপ ধরার বিধান আইনবহির্ভূত। আমরা আমাদের পুরস্কার সম্পর্কিত এ ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেব। এ সাপ থেকে সতর্ক ও নিরাপদ থাকার জন্য নতুন করে ঘোষণা দেওয়া হবে।’

এম হাসান

×