ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সড়ক অবরোধ, ৯ দফা দাবি

দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চুয়েট উত্তাল

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশিত: ২২:২১, ২৩ এপ্রিল ২০২৪

দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চুয়েট উত্তাল

দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে চুয়েট ছাত্রদের সড়ক অবরোধ

বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় উত্তাল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (চুয়েট)। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাস্তায় নেমে আসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা টায়ার ও বাসের সিট পুড়িয়ে সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঘাতক বাস চালককে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এ সকল দাবি মেনে নেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা এদিন ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন। 
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কের সেলিমা কাদের কলেজ এলাকায় বেপরোয়া গতিতে আসা শাহ আমানত পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় চুয়েটের দুই শিক্ষার্থীর। তারা হলেন তৌফিক হোসেন ও শান্ত সাহা। এ দুই শিক্ষার্থী মোটরবাইকযোগে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে আসতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা থেকে তারা সড়ক অবরোধ করে। সেখানে তিনটি বাস আটক করে একটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এরপর বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের আশ্বাসে রাতে তারা সড়ক থেকে সরে যান। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার ফের সড়কে নেমে আসেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। 
মঙ্গলবার সকাল থেকে সাধারন শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি ছিল বেশ কঠোর। তারা সড়কে গাছ ফেলে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এরফলে দুপাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি হয়ে যায়। যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রচ- গরমের মধ্যে প্রখর রোদে শিক্ষার্থীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করেন। সেখান থেকে তারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক বাস চালককে গ্রেপ্তার ও মালিক পক্ষের শাস্তি দাবি করেন। তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয় ৯ দফা দাবি। 
চুয়েট সাধারণ ছাত্রদের পক্ষ থেকে তুলে ধরা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পলাতক আসামী খুন চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। শাহ আমানত বাস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত শিক্ষার্থীর সকল চিকিৎসার দায়িত্ব বাস মালিক কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়ক দ্রুত প্রশস্তকরণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। দূর পাল্লার বাস ব্যতীত লাইসেন্সবিহীন সকল যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে।

সে সঙ্গে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের সকল প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, এক্স-রে ও ইসিজি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে এ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা কম হওয়ায়  শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন থেকে ৪টি অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করার দাবি জানান। 
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়কেই নিহত শিক্ষার্থী তৌফিক হোসেনের গায়েবানা জানাজা করেন। এতে চুয়েট উপাচার্য, শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় শান্ত সাহার জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। 
দুই শিক্ষার্থীর পরিবার পাবে ১০ লাখ টাকা ॥  সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে ১০ লাখ টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে চুয়েট কর্তৃপক্ষ, চুয়েট ছাত্র প্রতিনিধি, বাস মালিক সমিতি এবং পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান  জানান, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুই পরিবারকে মোট ১০ লাখ টাকা প্রদানের জন্য বলেছেন। এছাড়া যে শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন তার চিকিৎসার জন্য প্রদান করা হবে ৩ লাখ টাকা। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আরও জানান, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়ক দ্রুত সম্প্রসারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এ ব্যাপারে আশ^স্ত করেছেন।

×