ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

তীব্র গরমে গলে যাচ্ছে বাগেরহাটের বিভিন্ন সড়কের পিচ

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট

প্রকাশিত: ১৮:১৭, ২১ এপ্রিল ২০২৪

তীব্র গরমে গলে যাচ্ছে বাগেরহাটের বিভিন্ন সড়কের পিচ

গলে গেছে রাস্তার পিচ।

তীব্র দাবদাগে আক্ষরিক অর্থে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট পুড়ছে। সর্বস্তরের মানুষ হাঁসফাঁস করছে। দাবদাহে গলে যাচ্ছে এ জেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের পিচ (বিটুমিন)। এর আগে এ জেলায় এমন দেখা যায়নি। গরমে পিচ গলে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে। এখানে হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। দুর্বিসহ গরমে ঘরের মধ্যেও স্বস্তি নেই। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশী থাকায় দরদর করে ঘামছে মানুষ। 

রবিবার (২১ এপ্রিল) বাগেরহাট জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় অতিরিক্ত তাপ প্রবাহের কারণে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রচার প্রচারণা চালানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন।
  
মোংলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, রবিবার এ জেলায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্র ছিল। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। বাতাসের আর্দ্রতা ৩৮ শতাংশ। বেশি আদ্রতা থাকায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। তাপমাত্রায় গলে যাচ্ছে বাগেরহাটের বিভিন্ন সড়কের বিটুমিন (পিচ)। বিটুমিন গলে পিচ উঠে যাওয়ায় সড়ক সুরক্ষার জন্য সওজ এবং এলজিইডি চেষ্টা করছে। তারা গলে যাওয়া পিচের উপরে সিলেট বালি দিচ্ছে। যাতে গলে যাওয়া পিচ আবার পূর্বের অবস্থায় থাকে।

বাগেরহাট-রূপসা পুরাতন সড়কে কাড়াপাড়া এলাকার অটোচালক সোহরাব হোসেন বলেন, রোদ গরমে দুপুর থেকে রাস্তার পিচ গলতে শুরু করে। দুপুর গড়ানোর পর রাস্তার পিচ বলতে গেলে কাদায় পরিণত হয়। ফলে অটো বা রিকশার চাকা রাস্তায় আটকে যায়। এতে চলাচল করতে কষ্ট হয়। 

স্থানীয় মুদি দোকানী আব্দুস ছালাম বলেন, ‘রাস্তায় হাঁটতে গেলে জুতা স্যান্ডেল পিচে আটকে যাচ্ছে। তাছাড়া দুপুর হতে না হতেই রাস্তা-ঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। বেচাবিক্রি খুব কম। তার ভাষায়, অসহ্য গরমে সবদিক দিয়ে বেকায়দায় আছি।’

বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ অধিদরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, ‘সাধারণত সড়কে যে পিচ ব্যবহার করা হয় তা ৬০-৭০ গ্রেডের। এর গলনাঙ্ক (সফটেনিং পয়েন্ট) ৪৯ থেকে ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ তাপমাত্রা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠলে পিচ গলতে পারে। কিন্তু ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পিচ গলে যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি থাকলেও বাতাসের আর্দ্রতার কারণে গরম বেশি অনুভূত হয়। সড়কের পিচের উপরে এই তাপমাত্রা আরো প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকে। আর কালো হওয়ায় পিচ সূর্যের তাপও বেশী শোষণ করে। এ ছাড়া, সড়কে চাকার ঘর্ষণের ফলে অতিরিক্ত তাপ যুক্ত হওয়ায় পিচ গলে যেতে পারে। তবে সড়কের কাজের মান যথাযথ আছে বলে তিনি দাবি করেন। বাগেরহাট সড়ক বিভাগের বিভিন্ন সড়কের পিচ গলে যাওয়া স্থানে তাৎক্ষণিক সিলেট-বালি দেওয়ার জন্য অধিনস্থ প্রকৌশলীদের জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।’

অপরদিকে, শত চেষ্টা করেও প্রখর তাপের কারণে চিংড়ি ঘেরের মাছ রক্ষা করতে পারছেনা চাষিরা। আজ রবিবারও অনেক গেরের মাছ মরে যাওয়ার খরব পাওয়া গেছে। পোট্রি ফার্মের মুরগী মরছে দেদার। জয়গাছি গ্রামের আসীম দাস বলেন, ‘গত ৩ দিনে তার ফামের প্রায় আড়াই শত মুরগী অতিরিক্ত গরমের কারনে মরে গেছে।’

শহরে দশানী এলাকার সুমন দাস ও কামরুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘এমন গরম জীবনে দেখিনি, সব যেন পুড়ে যাচ্ছে। ঘরের মধ্যেও স্বস্তিতে থাকতে পারতেছিনা। রাতে ঘুমাতে পারছিনা, গরমে দম যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অত্যাধিক কষ্ট হচ্ছে।’

স্কুল শিক্ষিকা লায়লা বেগম ও সুনয়না রায় সোমা বলেন, ‘সকাল-দুপুর-রাত সমানে গরম পড়ছে। রান্নাবান্না করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ঘরে থাকার পরেও শরীর থেকে দরদর করে ঘাম বের হচ্ছে, পরণের কাপড়-চোপড় সব সময় ভিজে থাকছে। দিনেরমধ্যে ২/৩ বার গোসল করেও লাভ হচ্ছেনা, শরীর আরও খারাপ লাগছে।’

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. জালাল উদ্দিন ও ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক অসীম কুমার সমদ্দার জনকণ্ঠকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়াসহ পেটেরপীড়ায় আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে। যার অধিকাং শিশু ও বৃদ্ধ।’ অকারণে ঘর থেকে বাইরে না যাওয়া এবং কোমল পানীয় ও ফলমূল বেশী খাওয়াসহ স্বাস্থ্য সচেতনতায় মাংকিং করা হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

 

এম হাসান

×