ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

টিকিট ছাড়া পার্কে শিশুরা, পানিতে দাঁড় করে শাস্তি দিলেন ইউএনও

প্রকাশিত: ১৮:৩৫, ১৬ এপ্রিল ২০২৪; আপডেট: ২০:১২, ১৬ এপ্রিল ২০২৪

টিকিট ছাড়া পার্কে শিশুরা, পানিতে দাঁড় করে শাস্তি দিলেন ইউএনও

টিকিট ছাড়া পার্কে প্রবেশ করায় শিশুদের কান ধরিয়ে রাখা হয়। ছবি: সংগৃহীত

প্রশাসন পরিচালিত একটি পার্কে টিকিট ছাড়া প্রবেশ করায় ৫ শিশুকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে শরীয়তপুরে জেলায়। অভিযোগ উঠেছে,  শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাইনউদ্দিনের নির্দেশে দুজন গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাহারায় শিশুদের তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর পার্ক থেকে তাদের আটক করেন গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। পরে তাদের ওই শাস্তি দেওয়া হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন পরিচালিত পার্কটি ঈদের দিন চালু করা হয়েছে। পার্কের দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন ইউএনও মো. মাইনউদ্দিন। সীমানা প্রাচীর দিয়ে পার্কটির চারপাশ আটকে একটি প্রবেশদ্বার রাখা হয়েছে। পার্কের ভেতরে শিশুদের খেলার জন্য বসানো হয়েছে ১৫-১৬টি বিভিন্ন রাইড। এছাড়া পার্কে প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা।

সোমবার সন্ধ্যায় পৌর এলাকার হাতিরকান্দি, তুলাসার ও স্বর্ণঘোষ এলাকার ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী কয়েকজন শিশু পার্কের আশপাশে খেলাধুলা করছিল। এ সময় তারা নিরাপত্তা প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পার্কে প্রবেশ করে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাদের মধ্যে ৫ জনকে আটক করেন।

অভিযোগ উঠেছে, সেখানে উপস্থিত হয়ে ইউএনও মো. মাইনউদ্দিন ওই শিশুদের মধ্যে চারজনকে কানে হাত দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। ওই ঘটনার সময় পার্কে উপস্থিত অনেক দর্শনার্থী মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলেন ও ভিডিও ধারণ করেন।

পার্কে দায়িত্বে থাকা প্রহরী জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারী জানান, দেয়াল টপকে কিছু ছেলে পার্কে প্রবেশ করে। পরে তাদের ধরে শাস্তি দেওয়ার জন্য পানিতে দাঁড় করে রাখা হয়। কানে ধরার বিষয়টি আমি জানি না।

ভুক্তভোগী এক শিশু বলে, আমার কাছে কোনো টাকা ছিল না। আমার সঙ্গে থাকা অনেকে পার্কেল ভেতরে ঢুকছে, তাই আমিও ওদের সাথে ঢুকছি। পরে আনসাররা মিলে আমাকে সন্ধ্যা থেকে ৯টা পর্যন্ত আটকে রাখছে। ইউএনও এসে আমাকে কান ধরে রাখতে বলছে। পার্ক বন্ধ হওয়া পর্যন্ত আটকে রাখতে বলছে।

ভুক্তভোগী আরেক শিশু বলে, আমরা বুঝতে পারলে ঢুকতাম না। আমাদের অনেকক্ষণ দাঁড় করাইয়া রাখায় পা ব্যথা হয়ে গিয়েছিল। ওনারা অনেক রাগারাগি করছে। আমরা আর কখনো পার্কে যাব না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাইনউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েকজন দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকলে গ্রাম পুলিশ ও দায়িত্বরত যারা ছিলেন তারা ওদেরকে ধরে আটকে রাখেন। আমি গিয়ে কাউন্সিলিং করে ছেড়ে দিই। ওরা দুয়েকজন হয়তো ভয়ে কানে হাত দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, স্থানীয়দের সহযোগিতায় শরীয়তপুর জেলা শহরে সদর হাসপাতালের সামনে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির পাশে পার্ক নির্মাণ করেছে জেলা প্রশাসন। 'শরীয়তপুর পার্ক' নামকরণ করা পার্কটি ঈদের দিন চালু করা হয়। পার্কটিতে শিশুদের খেলার জন্য ১৫-১৬টি বিভিন্ন রাইড বসানো হয়েছে। পার্কের প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা।

এসআর

×