ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

খুলনায় চার প্রার্থীর সহজ জয় ॥ অবাক করলেন কামাল-রশীদ

প্রবীর বিশ্বাস, খুলনা অফিস

প্রকাশিত: ২১:৪১, ৯ জানুয়ারি ২০২৪

খুলনায় চার প্রার্থীর সহজ জয় ॥ অবাক করলেন কামাল-রশীদ

ননী গোপাল, শেখ সালাহউদ্দিন, এস এম কামাল, সালাম মুর্শেদী, নারায়ণ চন্দ্র ও রশিদুজ্জামান

এবারের নির্বাচনেও খুলনা জেলার ছয়টি আসনেই ধারাবাহিক জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রত্যেকেই বিপুল ভোটে পার হয়েছেন বৈতরণী। এই ধারায় ৩৩ বছর পার করেছে খুলনা-১ আসন। এ ছাড়া টানা তৃতীয়বারের মতো জয় পেয়েছে জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২-আসনে। আর ৩, ৪, ৫ ও ৬ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা একটানা জিতেছেন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে।

হিসেব মতে, প্রথমবারের মতো নৌকার প্রার্থী চমক দেখিয়েছেন খুলনা-৩ আসনে এসএম কামাল হোসেন ও খুলনা-৬ আসনে রশীদুজ্জামান। এর মধ্যে খুলনা-৩ আসনে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পর পর তিনবারের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে হটিয়ে এবার দলীয় মনোনয়ন পান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল। বলতে গেলে জাদু আছে এই প্রার্থীর মধ্যে। মনোনয়ন পেয়েই দলীয় নেতাকর্মীদের অতিপ্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন তিনি। আর ভোটারা দিয়েছেন যোগ্য লোকের যোগ্য সম্মান। আর খুলনা-৬ আসনের এমপিদের কড়াইতে যেন কালি জমছেই না।

২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে প্রতিবারই নতুন প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে এবারও নতুন মুখ রশীদুজ্জামান বিপুল ভোটে জয়লাভ করে বাজিমাত করেছেন। অপরদিকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় খুলনা-১ আসনের নৌকার মাঝি ননী গোপাল ম-ল ও খুলনা-২ আসনে সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল হেসে-খেলেই জয় পেয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দাপট থাকলেও খুলনা-৪ আসনের আব্দুস সালাম মূর্শেদী ও খুলনা-৫ আসনে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ধারাবাহিক জয় পেয়েছেন।

জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সর্বশেষ বিএনপির প্রফুল্ল কুমার ম-ল খুলনা-১ আসনে জয় পান। তবে ওই বছরের জুনের নির্বাচনে শেখ হাসিনা বিজয়ী হন। পরে সেপ্টেম্বরের উপনির্বাচনে পঞ্চানন বিশ্বাস জয় পেয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। খুলনা-২ আসনে ২০০৮ সালে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু জয় পেয়েছিলেন। এরপর ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান মিজান দীর্ঘকালের আঠা ছাড়িয়ে দেন।

সেই থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে। খুলনা-৩ আসনে বেগম মন্নুজান সুফিয়ান ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পরপর নির্বাচিত হয়ে হ্যাট্রিক জয় এনে দেয় আওয়ামী লীগের ঘরে। এবার প্রথম কোপেই চলা করে দিলেন এসএম কামাল। এ ছাড়া খুলনা-৪ আসনে ২০০৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের হয়ে মোল্লা জালাল উদ্দিন, এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা ও আব্দুস সালাম মূর্শেদী এমপি হয়েছেন। 
আর খুলনা-৫ আসনে সাবেক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে পরপর চারবার নির্বাচিত হয়ে আরেক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। এই আসনে ২০০১ সালে জামায়াতের মিয়া গোলাম পরওয়ার সবশেষ এমপি হয়েছিলেন। এ ছাড়া খুলনা-৬ আসনে ২০০১ সালে জামায়াতের শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দস সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের হয়ে সোহরাব আলী সানা, ২০১৪ সালে শেখ মো. নুরুল হক এবং ২০১৮ সালে আক্তারুজ্জামান বাবু নির্বাচিত হন। আর এবার রশীদুজ্জামান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নৌকার দীর্ঘদিনের দুর্গে এবারও অন্য কোনো প্রার্থীই বিজয়ী হতে পারেননি। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনা-১ আসনে প্রায় এক লাখ ৩৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ননী গোপাল ম-ল। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৪২ হাজার ৫১৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশান্ত কুমার রায় পেয়েছেন মাত্র পাঁচ হাজার ২৬২ ভোট। খুলনা-২ আসনে সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৮৬৮ ভোট।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির গাউসুল আজম তিন হাজার ৮৫১ ভোট পেয়েছেন। খুলনা-৩ আসনে এস এম কামাল হোসেন পেয়েছেন ৯০ হাজার ৯৯৯ ভোট; জাতীয় পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন পান মাত্র চার হাজার ৯৭৩ ভোট। তবে খুলনা-৫ আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল সবচেয়ে কম ১৭ হাজার ১৪২ ভোটের। এখানে নৌকার প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ পান এক লাখ ১০ হাজার ২১৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন পান ৯৩ হাজার ৭৭ ভোট। 
খুলনা-৪ আসনে ২৫ হাজার ৩০১ ভোটের ব্যবধানে জয় পান নৌকার আব্দুস সালাম মূর্শেদী। তিনি পান ৮৬ হাজার ১৯৪ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সভাপতি এসএম মোর্ত্তজা রশিদী দারা পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৯৩ ভোট। খুলনা-৬ আসনে নৌকা প্রার্থী রশীদুজ্জামান পান এক লাখ ৩ হাজার ৩৩৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ জিএম মাহাবুবুল আলম পান ৫১ হাজার ৪৭৪ ভোট।

×