ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

সাত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

প্রকাশিত: ২২:২৩, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

সাত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী

আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, তালুকদার মোঃ ইউনুস, রাশেদ খান মেনন, গোলাম কিবরিয়া টিপু, মনিরুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন, শামসুল আলম

জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে থাকা ৪৫ প্রার্থীর মধ্যে ২৩ জনই হলেন ব্যবসায়ী। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে দাখিলকৃত হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে মঙ্গলবার দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাচাই-বাছাইয়ে প্রাথমিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা অধিকাংশ প্রার্থী আপিল করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন বরিশাল-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী ড. শাম্মী আহমেদ ও বরিশাল-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আলম চুন্নু।
জানা গেছে, বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে সাতজনই হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এর মধ্যে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার। এ ছাড়া অপর বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থীরা হলেনÑ বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু, বরিশাল-২ ও ৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ওয়ার্র্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী খান আফতাফ হোসেন ভুলু এবং ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন বাতিলের পর আপিল করা স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আলম চুন্নু। এসব বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থীরা আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে পারলে তারা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে থাকা ৪৫ প্রার্থীর মধ্যে ২৩ জনই হলেন ব্যবসায়ী। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে দাখিলকৃত হলফনামায় এ তথ্য জানা গেছে। 
সূত্রমতে, ২৩ ব্যবসায়ী প্রার্থী ব্যতীত পাঁচজন রাজনীতিবিদ, চারজন আইনজীবী, দুইজন বেসরকারি চাকরিজীবী, দুইজন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, দুইজন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, একজন সাংবাদিক ও লেখক, একজন পেশাদার সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার, একজন কবি ও লেখক, একজন পরামর্শক, একজন কৃষি ও মৎস্য চাষ এবং একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজেদের পেশার কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

রংপুর বিভাগে দলীয় প্রার্থীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
তাহমিন হক ববী, নীলফামারী ॥ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চৌদ্দ দলের আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্তে রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩ আসনের দলীয় প্রার্থীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। এ অঞ্চলের আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ চৌদ্দ দলের অন্যান্য শরিক দলের দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৩৩টি আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি প্রতি আসনে দলীয় প্রার্থী দিলেও অন্য শরিক দলগুলো সব আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগিতে রংপুর অঞ্চলের ৩৩ আসনের মধ্যে নয়টি আসন পেয়েছিল জাতীয় পার্টি। বাকি ২৪টি আসন ছিল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের দখলে। সূত্রমতে, ওই সময় আসন ভাগাভাগিতে শরিকদের অন্য কোনো দল এ অঞ্চলে আসন ভাগে পাননি। 
একাদশ সংসদ নির্বাচনের হিসাবে দেখা যায়, যে ২৪টি আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন, সেগুলো হলো পঞ্চগড় জেলার দুটি আসনের দুটিই, ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি আসনের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর আসন, দিনাজপুরের ছয়টি আসনই, নীলফামারীর চারটির মধ্যে দুটি ১ ও ২ নম্বর আসন, লালমনিরহাটের তিনটি মধ্যে ১ ও ২ আসন, রংপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটি ২, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসন, কুড়িগ্রামের চারটির মধ্যে তিনটি ১, ৩ ও ৪ নম্বর আসন ও গাইবান্ধার পাঁচটির মধ্যে চারটি ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর আসন। জাতীয় পার্টির নয়টি আসনের মধ্যে রয়েছে- ঠাকুরগাঁওয়ের ৩ নম্বর আসন, নীলফামারীর ৩ ও ৪ নম্বর আসন, লালমনিরহাটের ৩ নম্বর আসন, রংপুরের ১ ও ৩ নম্বর আসন, কুড়িগ্রামের ২ নম্বর আসন ও গাইবান্ধার ১ নম্বর আসন।

এদিকে বিভিন্ন সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টি বাদেও এবার চৌদ্দ দলের শরিক হিসেবে জাসদ ইনু নীলফামারী-৩ আসন, জাতীয় পার্টি জেপি নীলফামারী-১ আসন চাইতে পারে। এই দুটি আসনের মধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে নীলফামারী-১ আওয়ামী লীগ ও নীলফামারী-৩ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। লালমনিরহাট-৩ আসনটির সংসদ সদস্য ছিলেন জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি এবার এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। তিনি রংপুর-৩ ও ঢাকার একটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তার বদলে সেখানে জাতীয় পার্টির লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদককে মনোনয়ন দিয়েছেন। এই আসনে দীর্ঘ আন্দোলন ও দাবির পর আওয়ামী লীগ এবার প্রার্থী দিয়েছে।

অপরদিকে নীলফামারী ৩ ও  ৪ নম্বর আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য থাকলেও এখানেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নীলফামারী-১ আসনেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।  বিশেষ করে জাতীয় পার্টির দখলে যে নয়টি আসনে সংসদ সদস্য রয়েছে, আসন ভাগাভাগির বিষয়ে ওই সকল আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

পরিবেশ নষ্ট করলে ক্ষতি প্রধানমন্ত্রীরই ॥ তৈমূর 
নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ॥ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচন বিতর্কিত করলে ক্ষতি যা হবার প্রধানমন্ত্রীরই হবেন। যার মূল ভুক্তভোগী তিনিই হবেন বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল বিএনপি মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের এমপি প্রার্থী  ড. তৈমূর আলম খন্দকার। তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর মঙ্গলবার সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকার রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবেন  জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে এমপি গাজীর কাছে জিম্মি জনসাধারণ; তার অত্যাচারে পারিবারিক অনুষ্ঠানও করা যায়নি।

হামলার শিকার হতে হয়েছে তার অস্ত্রধারীদের হাতে। এ সময় স্থানীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের বরাদ দিয়ে তার নির্বাচনী প্রতিপক্ষ গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক এমপির করা মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, গাজী সাহেব আমাকে ভিত্তিহীন বলেছেন, তাকে নিয়ে মন্তব্য করে আমি নাকি নিজের অস্তিত্ব রাখছি। এ ধরনের কথা বলে তিনি নিজের গত ১৫ বছরের দুঃশাসন ঢাকতে চাচ্ছেন। তাই কে দোষী আর কে নির্দোষী তা প্রমাণ করতে উন্মুক্ত আলোচনায় বসার ব্যবস্থা করেন। সেখানে তৈমূর দোষী হলে আপনারা শাস্তি দিবেন। তিনি আরও বলেন, আমি একজন আইনজীবী। প্রমাণ ছাড়া কোনো কথা বলি না। 
 এ সময় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক, জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দেয় কেউ চুরি করার সুযোগ পাবে না। এ সময় তৃণমূল বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে প্রার্থীরা ঘর গোছাচ্ছেন
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর ॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। প্রতীক পাওয়ার আগে নির্বাচনী প্রচার করা যাবে নাÑ এ রকম বিধিবিধান থাকার কারণে ফরিদপুরে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারছেন না, তবে প্রার্থীরা বসে নেই। তারা ঘর গোছাতে শুরু করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে বেশিসংখ্যক নেতাকর্মীকে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন দলছুট কিংবা অন্য দলের নেতাকর্র্মীদের নিজ দলে ভেড়াতে শুরু করেছেন প্রার্র্থীরা। মঙ্গলবার সকালে ফরিদপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্র্র্থী শামীম হকের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হুসাইন আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। 
মঙ্গলবার দুপুর বারোটার দিকে সদর উপজেলাধীন মাচ্চর ইউনিয়নের ধুলদি গ্রামে শামীম হকের বাসভবনে সদর উপজেলাধীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফুল দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলতাফ হুসাইন নির্বাচিত হলেও তার প্রতি বিএনপির সমর্থন ছিল। জনপ্রিয় এই চেয়ারম্যানকে নিজ দলে ভিড়িয়ে শামীম হক নিজের প্রতি আরও জনসমর্থন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। কারণ কানাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা বেলায়েত হোসেন ফকির এবার প্রকাশ্যেই ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য একে আজাদের নির্বাচন করছেন।
ফরিদপুর-১ আসনে গত কয়েক সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্র্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফর এবার দল পাল্টিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে (বিএনএম) যোগ দিয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনি এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনএম থেকে ফরিদপুর-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনের আলফাডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ আলী বাশার আওয়ামী লীগ ছেড়ে শাহ জাফরের হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে (বিএনএম) যোগ দিয়েছেন ।  
শনিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ফরিদপুর-১ আসনে বিএনএমের দলীয় প্রার্থী শাহ্ মো. আবু জাফরের সঙ্গে সমর্থকদের নিয়ে যোগদান করেন সৈয়দ আশরাফ আলী বাশার। এ সময় বিএনএমের দলীয় প্রার্থী শাহ্ মো. আবু জাফরের আলফাডাঙ্গায় আগমনে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া মধুখালী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুনসুর নান্নু ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম দল ছেড়ে শাহ জাফরের দলে যোগদান করেছেন। বিএনপি অবশ্য তাদের বহিষ্কার করেছে।
ফরিদপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়া। এ আসনের অন্তর্গত সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন এতদিন ফরিদপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহাদাব আকবর চৌধুরীর পক্ষে থাকলেও এখন তিনি কাজ করছেন জামাল হোসেন মিয়ার পক্ষে। দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। তার একটি প্রভাব এই আসনে রয়েছে। তার এই পক্ষ পরিবর্তন জামাল হোসেনকে কিছুটা হলেও সুবিধা এনে দেবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রাসেলের সঙ্গে দুই প্রার্থী লড়ছেন
নিজস্ব সংবাদদাতা, টঙ্গী ॥ এবারের ‘ওপেন’ সংসদ নির্বাচনে টঙ্গী-গাজীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের আরও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকায় আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনীত প্রার্থী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলীম উদ্দিন বুদ্দিন এবং গাজীপুর মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় এখন সুবিধায় রয়েছেন নৌকার প্রার্থী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। রাজনীতিতে রাজপথ কাঁপানো আলীম উদ্দিন বুদ্দিন ছিলেন গাজীপুরের চেনামুখ রাজনীতির গাজীপুর কিং।

৯০ দশক থেকে রাজপথের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম নৌকা চেয়ে না পেয়ে দুজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এদিকে গাজীপুর-২ আসনে নৌকার মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়া গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান নৌকার সঙ্গে রয়েছেন। এদিকে গাজীপুর-২ আসনে ১০ প্রার্থীর ছড়াছড়ির মাঝে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলীম উদ্দিন বুদ্দিন এবং ছাত্র ও যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলামের মধ্যে কেউ একজন যদি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান তাহলে নৌকার প্রার্থী মন্ত্রী রাসেলকে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের ‘ওপেন’ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নৌকার মন্ত্রী রাসেল, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র আলীম উদ্দিন বুদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম তিন প্রার্থীই যদি শেষমেশ নির্বাচনী মাঠে থেকে যান, তাহলে গাজীপুর-২ আসনে নৌকার প্রার্থী জাহিদ আহসান রাসেলের জয় সুনিশ্চিত, এমনটাই বলছেন মাঠ পর্যায়ে থাকা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মাগুরায় চায়ের দোকান সরগরম
নিজস্ব সংবাদদাতা, মাগুরা ॥ মাগুরায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে। চায়ের দোকানগুলো সরগরম। জানা গেছে, মাগুরায় জাতীয় সংসদের দুটি আসন রয়েছে। মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাকিব আল হাসান, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সিরাজুস সায়েফিন সাঈফ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন, জাকের পার্টির মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) কে এম মোতাসিম বিল্লাহ, তৃণমূল বিএনপির সনজয় কুমার রায় রনি, অন্যদিকে মাগুরা-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. শ্রী বীরেন শিকদার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. মুরাদ আলী, জাকের পার্টির মোহাম্মদ আলী হায়দার, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, তৃণমূল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আখিদুল ইসলাম রয়েছেন। সর্বত্র চলছে ভোট নিয়ে আলোচনা।
 
তিন দলের প্রধানই ফটিকছড়ি আসনে এমপি প্রার্থী
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফটিকছড়ি ॥ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনে এমপি পদে মোট ১২ জন মনোনয়নপত্র  দাখিল করলেও যাচাই-বাছাইয়ে চারজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন আটজন। এদিকে বৈধ  হওয়া আট প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই তিন পার্টির প্রধান। তাদের মধ্যে রয়েছেন- তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, অপর প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভা-ারী নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান। পাশাপাশি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন। 

একটি ছবিই বদলে দিতে পারে ভোটের হিসাব
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, পটুয়াখালী ॥ একটি ছবি বদলে দিয়েছে পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশ। আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হাসীব আলম তালুকদারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার একদিন পর অর্থাৎ গত ২৯ নভেম্বর ওই ছবিটি তোলা হয়। হাসীব আলম তালুকদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসনে নির্বাচন করছেন। এভিআর গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসীব আলম তালুকদার এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাবেন- এমন জোরালো গুঞ্জন থাকলেও এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয় আ স ম ফিরোজ এমপিকে। এর আগে আ স ম ফিরোজ এ আসন থেকে সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। জানা গেছে, হাসীব আলম তালুকদারের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবা মরহুম সামসুল আলম তালুকদার ছিলেন ফ্লাইট ক্যাপ্টেন।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য তাকে বীর উত্তম খেতাব দেওয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করেন। হাসীব আলম তালুকদারের এক ফুফু ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছের বান্ধবী। এই সুবাদে দুই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কথিত আছে, হাসীব আলম তালুকদার নৌকার মনোনয়ন না পেলেও গত ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি দেখা করে তার দোয়া নিয়েই প্রার্থী হয়েছেন। সচেতন মহল মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাসীব আলম তালুকদারের ছবিটি তাকে ভোটযুদ্ধে এগিয়ে দিতে পারে।

×