ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

নেত্রকোনা জেলা

জয়-পরাজয় নির্ভর করবে প্রার্থীর যোগ্যতার ওপর

সঞ্জয় সরকার, নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ০০:৫৭, ২৮ নভেম্বর ২০২৩

জয়-পরাজয় নির্ভর করবে প্রার্থীর যোগ্যতার ওপর

হাওড়-বাঁওড় আর গারো পাহাড়ের নেত্রকোনায় সংসদীয় আসন পাঁচটি

হাওড়-বাঁওড় আর গারো পাহাড়ের নেত্রকোনায় সংসদীয় আসন পাঁচটি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে দলীয় নেতারা বাদ্য বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব আসনের প্রার্থীরা রীতিমতো দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এ দৌড়ে এগিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। অন্যদিকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। যদিও তৃণমূলের সমর্থন এবং ভোটের হিসাবে তাদের ভিত্তিও বেশ মজবুত। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি (জাপা), জামায়াতে ইসলামী, সিপিবিসহ অন্য দলগুলো এখানে নামসর্বস্ব।

কাজেই বিএনপি অংশ না নেওয়ায় এখানকার নির্বাচন হবে একমুখী। তবে আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ালে কোথাও কোথাও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে পারে। আর যদি বিএনপি শেষ পর্যন্ত অংশ নেয়, তবে সব আসনেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জয়-পরাজয় নির্ভর করবে উভয় দলের জুতসই প্রার্থী মনোনয়নের ওপর।
বর্তমান সংসদে পাঁচটি আসনই আওয়ামী লীগের দখলে। দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় তাদের টানা তিনবারের শাসনামলে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন কর্মকা- হয়েছে। এক সময়ের অবহেলিত এ জনপদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শেখ হাসিনা বিশ^বিদ্যালয়, নেত্রকোনা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল, শেখ কামাল আইটি পার্ক, শৈলজারঞ্জন সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। মোহনগঞ্জ থেকে কমলাপুর পর্যন্ত চালু হয়েছে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন। তা ছাড়া রাস্তাঘাট এবং গ্রামীণ অবকাঠামোরও হয়েছে দৃশ্যমান উন্নয়ন। পাশাপাশি বেড়েছে তরুণ প্রজন্মের নেতাকর্মী এবং সমর্থক ভোটারও। তাদের ধারণা, ভোটাররা নিশ্চয়ই এসব উন্নয়ন কর্মকা- বিবেচনা করবেন।
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) ॥ ভারত সীমান্ত-ঘেঁষা ও আদিবাসী অধ্যুষিত এ আসনের বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও প্রতিরোধ যোদ্ধা মানু মজুমদার। এক সময় তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ছিলেন। নানা বিতর্কে তিনি এবার বাদ পড়েছেন। দলের মনোনয়ন পেয়েছেন নবম সংসদে নির্বাচিত আনন্দমোহন কলেজের সাবেক ভিপি মোশতাক আহমেদ রুহী, যদিও ২২ জন সংগ্রহ করেছিলেন মনোনয়নপত্র। অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রার্থী রুহীর একটা নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী আছে। তবে গত দুই নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’র তকমা পরেছিলেন তিনি। অতীতের কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার রেকর্ড থাকায় এবারও তেমনটি ঘটবে কি নাÑ তা নিয়ে আলোচনা চলছে আসনটির অন্তর্ভুক্ত এলাকায়।
এদিকে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে দলের ভিত মজবুত হলেও বরাবরই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলার আইনজীবী হিসেবেও ভূমিকা রাখছেন তিনি। বেশিরভাগ সময় কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, দল নির্বাচনে এলে তার মনোনয়ন মোটামুটি নিশ্চিত। ইতোপূর্বেও দুবার মনোনয়ন পেয়েছেন কায়সার। এই আসনে জাপা থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি গোলাম রব্বানী।
নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) ॥ আওয়ামী লীগের শাসনামলে এ জেলায় শেখ হাসিনা বিশ^বিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও বাইপাস সড়কসহ যত বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, তার বেশিরভাগই হয়েছে নেত্রকোনা-২ আসনের আওতাভুক্ত এলাকায়। বিএনপির আমলে কয়েকবার হাতছাড়া হলেও আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গোটা জেলার রাজনীতি এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। আর প্রধান প্রধান দলগুলো থেকে যারা মনোনয়ন পান, তারাও বাছাই হন জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে। গত নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু। তিনি নবম সংসদেও এমপি ছিলেন।

নির্বাচনী এলাকায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি কলেজসহ পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এবার ১৯ প্রার্থী দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। নানা জল্পনা-কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত খসরুকেই বেছে নিয়েছেন দলের হাইকমান্ড। আসনটিতে আওয়ামী লীগের কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন কি না তা নিয়ে এখনো কেউ মুখ না খুললেও নাম ঘোষণার পর থেকে ভেতরে ভেতরে ‘টুনটুনানি’ শুরু হয়ে গেছে। তবে খসরু ও তার সমর্থকরা তাদের জয়ের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদী।
তবে আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবম সংসদের যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। জয়ের একটা নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী আছে। এ ছাড়া তার পরিবারেরও রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব। সাবেক এই তারকা ফুটবলারের সমর্থকরা ইতোমধ্যে মিছিল-শোডাউনও শুরু করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরও এক প্রার্থীর নাম ব্যাপক আলোচনায় আসছে। তিনি হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি শামছুর রহমান লিটন। ভিপি লিটন হিসেবে পরিচিত এই নেতা গত বছরের ২৯ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ পোড়খাওয়া নেতাকে ডিঙ্গিয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচনী এলাকায় তারও একটি সমর্থক গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। গত দুই-তিনটি নির্বাচনেও মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা এবং গণসংযোগ করেছেন অপেক্ষাকৃত তরুণ এ প্রার্থী। সোমবার তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। আরিফ খান জয় এবং ভিপি লিটন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে নৌকার প্রার্থী আশরাফ আলী খান খসরুর সঙ্গে তুমল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জয় ও লিটন জনকণ্ঠকে বলেন, ‘নেত্রী (শেখ হাসিনা) প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য নির্বাচন উন্মুক্ত করে দেওয়ায় আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক। বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত এ নেতা দলটির গত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি আবারও মনোনয়ন চাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। বিএনপির আরেক শক্তিশালী প্রার্থী হলেন জেলা কমিটির দুইবারের সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান।

এখানে ডা. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের সঙ্গে আশরাফ উদ্দিন খানের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের বিরোধ রয়েছে। এ ছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফা জেসমিন নাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি, ড্যাবের বিএসএমএমইউ শাখার সহসভাপতি ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেলোয়ার হোসেন টিটো এবং জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম মনিরুজ্জামান দুদু।
এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রহিমা আক্তার আসমা সুলতানা (আসমা আশরাফ)। তিনি জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক কাস্টমস্ কর্মকর্তা ফকির আশরাফের দ্বিতীয় স্ত্রী। এর আগে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদেও লড়েছেন তিনি। 
নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) ॥ গত নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ’৯০-এর গণআন্দোলনের নেতা অসীম কুমার উকিল। তার পাঁচ বছরে জনগুরুত্বপূর্ণ নেত্রকোনা-কেন্দুয়া সড়ক ছাড়াও দুই উপজেলার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, সংস্কার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে।
দলের ১৬ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে এবারও অসীম কুমার উকিলের  মনোনয়ন বহাল রয়েছে। তার স্ত্রী যুব মহিলা লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিলও সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে। অসীম জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
এদিকে আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে বিএনপির অবস্থানও সুদৃঢ়। একাদশ ও নবম সংসদ নির্বাচনে এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ড. রফিকুল ইসলাম খান হিলালী। তিনি আবারও মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী। এদিকে বিএনপির আরেক শক্তিশালী প্রার্থী হলেন দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে কেন্দুয়া পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাড়াও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। হিলালী ও দুলালের নেতৃত্বে থাকা কেন্দুয়ার নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে দুটি গ্রুপে বিভক্ত। দলীয় কর্মসূচিগুলোও তারা আলাদা পালন করেন। দলটির নিরপেক্ষ নেতাকর্মীরা মনে করেন এ দ্বিধাবিভক্তি নির্বাচনী পরিবেশের জন্য কাল হতে পারে। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা জসিমউদ্দিন ভূঁইয়া। গত নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।
নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরী) ॥ আসনটি এক সময় আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুল মমিনের ভোটদুর্গ ছিল। জোট সরকারের আমলে সেই দুর্গের একচ্ছত্র অধিপতি হন আলোচিত সাবেক স¦রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। পরবর্তীতে আব্দুল মমিনের মৃত্যু এবং ওয়ান ইলেভেনের পর বাবরের পতন ঘটলে আব্দুল মমিনের আসনটিতে নৌকার হাল ধরেন তার স্ত্রী রেবেকা মমিন। অষ্টম সংসদ থেকে একাদশ সংসদ পর্যন্ত টানা তিনবার নির্বাচিত হন তিনি। পরিচিত ছিলেন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে।

কিন্তু চলতি বছরের ১১ জুলাই তিনি মারা যান। পরে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন সাবেক গণপরিষদ সদস্য প্রয়াত ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদের ছেলে সাজ্জাদুল হাসান। জনপ্রশাসনের সাবেক এই আমলা দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, সিনিয়র সচিব ও অবসরগ্রহণের পর বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে রীতিমতো বাজিমাত করেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তিনি। তা ছাড়া সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়দুল হাসান তার বড় ভাই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থাকাকালে তিনি নিজ উপজেলা মোহনগঞ্জ ছাড়াও গোটা জেলার দৃশ্যমান উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখেন। দলের অপর পাঁচ প্রার্থীকে টেক্কা দিয়ে পেয়েছেন চূড়ান্ত মনোনয়ন। সাজ্জাদের সমর্থকরা মনে করেন, এবার বিজয়ী হলে তিনি বড় কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন।

এদিকে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তার সমর্থকদের সঙ্গে রেবেকা মমিনের সমর্থকদের বিরোধের সূত্রপাত ঘটলেও রেবেকার মৃত্যুর পর তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। সঙ্গত কারণেই তিনি হেভিওয়েট প্রার্থী। এই আসনে আওয়ামী লীগের আরেক আলোচিত প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও ’৯০-এর গণআন্দোলনের নেতা শফী আহমেদ। দীর্ঘকাল ধরে তিনি ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের পরিচিত মুখ। আসনটির রাজনীতিতে সবসময় আলোচনায় থাকেন তিনি। কিন্তু বারবার মনোনয়ন বঞ্চনার কারণে এবার এই প্রার্থী দলের মনোনয়নই চাননি।

দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দলের যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন- এমন ঘোষণা দেয়ায় শফী আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন। এরই মধ্যে মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছেন তিনি। শফী প্রার্থী হলে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবেÑ এটি মোটামুটি নিশ্চিত।
বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর আদালতে দ-িত হওয়ার পর থেকে এ আসনে প্রার্থী সংকটে ভুগছে দলটি। গত নির্বাচনে বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। এবারও তার নাম শোনা যাচ্ছিল। তবে নির্বাচন সামনে রেখে কখনো শ্রাবণীর দেখা পাননি ভোটাররা। বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, কারান্তরীণ বাবরের জনপ্রিয়তা এবং ভোটারদের সহানুভূতিকে পুঁজি করে শ্রাবণী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে সক্ষম হবেন। এই আসনে জাপার মনোনয়ন পেয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী লিয়াকত আলী খান। 
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) ॥ এ আসনের বর্তমান এমপি কর্নেল তাহেরের ভাই ও পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতীক। এ পর্যন্ত টানা তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার তিনবারে এলাকার রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশ উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় নির্বাচনী এলাকায় তার উপস্থিতি আগের মতো নেই। ব্যক্তিগত বিষয়ে কিছুটা বিতর্কেও জড়িয়েছেন তিনি। তবে এবার তিনি মনোনয়ন চাননি। তার বড় ভাই সাবেক উপাচার্য ও জাসদ নেতা ড. আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু পাননি।

নয়জন প্রার্থীকে পাশ কাটিয়ে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের পাঁচবারের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ হোসেন। আরও কয়েক নির্বাচন আগে থেকে মনোনয়ন চেয়ে আসছিলেন তিনি। গত নির্বাচনে তার স্ত্রী সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী জাকিয়া পারভীন খানম মনিকে সংরক্ষিত আসনের এমপি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে খুশি করেছিলেন। তবে এবার তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। জাপার মনোনয়নের চেষ্টা করছেন উপজেলা শাখার সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান তালুকদার আজাদ।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার। বিএনপি নির্বাচনে এলে এবারও তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করেন। তার পাশপাশি বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন সাবেক এমপি ডা. মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী এবং সাবেক ছাত্রনেতা শহীদুল্লাহ ইমরান। তবে আসনটিতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত অনেকটাই দুর্বল। জাপার মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান তালুকদার আজাদ।

×