ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

যেন দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র

সবুজ পাহাড়ে পরিচ্ছন্ন বিদ্যাপীঠ

জনকণ্ঠ ফিচার

প্রকাশিত: ২৩:৩২, ৭ জুন ২০২৩

সবুজ পাহাড়ে পরিচ্ছন্ন বিদ্যাপীঠ

বান্দরবানে পাহাড়ের বুকে পরিচ্ছন্ন বিদ্যাপিঠ ছাইঙ্গ্যা প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেন পর্যটন কেন্দ্র

শিক্ষকের আন্তরিকতায় পশ্চাৎপদ পাহাড়ের জরাজীর্ণ এক বিদ্যালয় থেকে বান্দরবান জেলার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারছা ইউনিয়নের ছাইঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মনোরম খেলার মাঠ, ফুল গাছে সজ্জিত সড়ক, চারপাশে ফলদ বাগান, নানা প্রজাতির গাছ ও বিভিন্ন রকমের বাগানে সাজানো গোছানো পুরো বিদ্যালয়টিকে দূর থেকে দেখে মনে হয় দৃষ্টিনন্দন কোন এক পর্যটন কেন্দ্র। এ বিদ্যালয়টি যেমন সুন্দর পরিপাটি, তেমনিভাবে সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করায় শিক্ষার্থীদের পাশের হারও শতভাগ। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান শহরের নামি-দামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। 
সরেজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতায় বিদ্যালয়টিকে মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজিয়েছেন প্রধান শিক্ষক সুনিতি বড়ুয়া, যার ধ্যান-জ্ঞান পুরোটাই বিদ্যালয় ও শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে। সারাক্ষণ তিনি নিজের পরিবারের মতো বিদ্যালয়টিকে সময় দেন, যা পরিপাটিভাবে সাজানো পরিষ্কার পরিছন্ন খেলার মাঠটি দেখলেই বোঝা যায়। কোথাও একটি পাতাও পড়ে থাকতে দেখা যায়নি, খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে বিদ্যালয়টিকে যা জেলার অন্যতম একটি দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়। সরকারিভাবে বরাদ্দ টাকা ও নিজের অর্থ ব্যয় করে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টিকে সাজিয়েছেন এভাবেই। 
জানা যায়, এই বিদ্যালয়টি দেখতে জেলা-উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকম-লী, এলাকার শিক্ষানুরাগী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে বান্দরবানে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও প্রায়ই ছুটে আসেন। এ বিদ্যালয়ে প্রাথমিকে ২০০৯ থেকে ১৯ সাল পর্যন্ত বৃত্তি পেয়েছে ৫৬ জন। তার মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩ জন। আর অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ১ জন, সাধারণ বিভাগে ভিত্তি পেয়েছে ২ জন। পরে করোনা মহামারির কারণে আর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।  
এ বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে বান্দরবান জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং উপজেলা পর্যায়ে অসংখ্যবার বিভিন্ন ক্রীড়া বিষয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শিক্ষার্থীরা। দৃষ্টিনন্দন এই বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ২৫০ জন, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ১০ জন। তার মধ্যে শিক্ষিকা রয়েছেন ৬ জন, শিক্ষক ৪ জন। এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৩ সালে প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালু হলেও বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। সংকট রয়েছে বিজ্ঞানাগার ও প্রশাসনিক ভবনের। 
তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষিকা উম্মে সালমা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে যন্ত্রপাতি না থাকলে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে ধারণা দেওয়া কঠিন। আমাদের বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাপটপ বা ট্যাব দিলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের জন্য সুবিধা হতো। তিনি বলেন, সপ্তম এবং অষ্টম এই দুইটা ক্লাস আমি নিয়ে থাকি। আমাদের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী এবং বিদ্যালয়টিও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা একটি পরিচ্ছন্ন বিদ্যালয়। আমরা চেষ্টা করছি বিদ্যালয়টিকে আরও সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাইঙ্গ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনিতি বড়ুয়া জানিয়ছেন, আমি যখন ২০০৯ সালে এই বিদ্যালয়ে এসেছি তখন এই বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। শিক্ষার পরিবেশ ছিল খুবই নাজুক। ভবনগুলো ছিল ভাঙা। আমি আসার পর থেকে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার পরিবেশ যাতে ভালো করতে পারি সে চেষ্টা করছি অভিভাবকদের সহযোগিতায়।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টি আগে ছিল শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। ২০১৩ সালে সরকার গণশিক্ষা প্রাথমিক মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়টিকে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নিত করেছে। ফলে আমাদের এখানে শিক্ষক স্বল্পতার পাশাপাশি একাডেমিক ভবনের স্বল্পতা রয়েছে। আমার এখানে এলইডি মনিটর ও কম্পিউটার না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রাকটিক্যালে কম্পিউটারের ধারণাগুলো দিতে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য শিক্ষার্থীরা বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারছে না বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শফিউল আলম বলেন, ছাইঙ্গ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বান্দরবান জেলার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্কুল। আমি ওই স্কুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারাও শিশুদের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই স্কুল দেখে উদ্বুদ্ধ হবে বলে আমি মনে করি।

×