ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

টেকনাফে হাতের কবজি কেটে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার 

প্রকাশিত: ১৮:৫১, ৪ জুন ২০২৩

টেকনাফে হাতের কবজি কেটে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

টেকনাফ মডেল থানা।

টেকনাফের আলীখালী ক্যাম্প থেকে পাঁচ রোহিঙ্গাকে গত শুক্রবার রাতে অপহরণ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক রোহিঙ্গা কিশোরের হাতের কবজি কেটে তাকে ছেড়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। 

মুক্তিপণের টাকা না দিলে অপর চারজনের পরিণতি আরও খারাপ হবে বুঝাতে এ কাজ ঘটিয়েছে সন্ত্রাসীরা। অপর চারজনের পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। 

জাহাঙ্গীর আলম টেকনাফের হ্নীলা আলীখালীর ২৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সামসুল আলমের ছেলে। তার একটি হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
এর আগে শুক্রবার (২ জুন) রাতে আলীখালী ক্যাম্প থেকে জাহাঙ্গীরসহ পাঁচ রোহিঙ্গাকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মক্তিপণ দিলে ছাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা চারজন হলেন- একই ক্যাম্পের নুর হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস, মোহাম্মদ রফিকের ছেলে মোহাম্মদ সুলতান, আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ ও মোহাম্মদ সৈয়দের ছেলে আনোয়ার ইসলাম। 

২৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা (মাঝি) নুরুল আমিন বলেন, ‘শুক্রবার রাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাঁচ রোহিঙ্গাকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পের কাঁটাতারের পাশের পাহাড়ে জাহাঙ্গীরের বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন ফেলে রেখে যায় তারা। খবর পেয়ে ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা তাকে উদ্ধার করে এনজিও হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’ 

তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে অপহৃত অপর চার জনের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ করে ২০ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে অপহরণকারী চক্র। টাকা দিলে ছেড়ে দেবে, না দিলে হত্যার হুমকি দিয়েছে তারা।’ 

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘শনিবার রাতে বাঁ হাতের কবজি কাটা অবস্থায় এক রোহিঙ্গাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার হাতের কবজি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই কিশোর।’

টেকনাফ থানার ওসি মো. আবদুল হালিম বলেন, ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও পুলিশের একাধিক টিম অপহৃতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, ‘পাঁচ রোহিঙ্গাকে অপহরণের কথা শোনার পর থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে হাতের কবজি কেটে একজনকে ফেলে গেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফের পাহাড়গুলোতে আস্তানা গেড়েছে একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। গত আট মাসে টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দা ৬৫ জনকে এসব গোষ্ঠীর ক্যাডাররা  অপহরণ করে পৃথক মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়। গত ২৮ এপ্রিল পাত্রী দেখতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন সদরের চৌফলদণ্ডী উত্তরপাড়ার মোহাম্মদ আলমের ছেলে জমির হোসেন রুবেল, তার দুই বন্ধু ঈদগাঁও জালালাবাদ সওদাগর পাড়ার মোহাম্মদ ইউসুফ ও শহরের নুনিয়াছড়ার ইমরান হোসেন। ২৪ মে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চার সন্ত্রাসী স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দি দিয়েছে আদালতে। 
 

এমএইচ

×