ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

খুলনায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের প্রচার

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস

প্রকাশিত: ০০:০২, ২ জুন ২০২৩

খুলনায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের প্রচার

ভোটারদের মন জয় করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খুলনা সিটি

ভোটারদের মন জয় করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খুলনা সিটি করপোরেশনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। নগরাবাসীর জন্য নতুন নতুন কি করা যায় তা নিয়েও চলছে ভোটারদের সঙ্গে নানা সমীকরণ। নৌকার প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, ব্যবসায়ীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি এবং আগামীতেও থাকব। তবে লাঙ্গলের মেয়রপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু বলেছেন, মানুষ যদি সঠিকভবে ভোট দিতে পারে, তা হলে নতুন এক নগরপিতা পাবে সকলে। আওয়ামী লীগের (নৌকা) মেয়রপ্রার্থী ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক বৃহস্পতিবার গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর বড়বাজার এলাকা থেকে শুরু করে মহেন্দ্র দাসের মোড়, তুলাপট্টি, মসলাপট্টি, কদমতলা রোড ও রেল স্টেশন রোড এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের ঘামে অর্জিত অর্থে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে। ব্যবসায়ীরা একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখে। বিগত দিনে ব্যবসায়ীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। পুনরায় বিজয়ী হলে অসমাপ্ত কাজ শেষ করে একটি স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
এদিকে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেছেন জাতীয় পার্টির (নৌকা) মেয়রপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তিনি মহানগরীর টুটপাড়া কবরখানা, টুটপাড়া বাজার, বৌবাজারসহ ২৮, ৩০ ও ৩১নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এ সময় তিনি বলেন, বিগত সময়ে কেসিসি মেয়র যারা ছিল তাদের উন্নয়ন কাজে অনেক ব্যর্থতা রয়েছে। এখনো জলাবদ্ধতায় ভুগছে নগরবাসী। নগরীর অনেক রাস্তা পড়ে আছে উন্নয়নের ব্যার্থতায়। এই সব থেকে মুক্তি পেতে চায় নগরবাসী। আগামী ১২ জুন মানুষ যদি সুষ্ঠু ভাবে ভোট দিতে পারে তা হলে নগরীতে নতুন এক নগর পিতা আসবে।
আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) মেয়র প্রার্থী আব্দুল আউয়াল বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট হওয়া সত্ত্বেও সিটি করপোরেশনে কাক্সিক্ষত মানের উন্নয়ন হচ্ছে না। কাম্যমানের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে না। এ থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বারবার সিদ্ধান্তে ভুল করছেন। যারা উন্নয়নের নামে অর্থ অপচয় করেছে তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তিনি সকাল থেকে নগরীর সদর থানার রূপসা মাছ বাজার, নতুন বাজার, পিটিআই মোড়, জোড়াকল বাজার, রূপসা ট্রাফিক মোড়, নতুন বাজার লঞ্চঘাট, ১নং কাস্টমস ঘাট, সাউথ সেন্ট্রাল রোড এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
এ ছাড়া টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী শফিকুর রহমান মুশফিক নগরীর খালিশপুরের বিভিন্ন এলাকায় এবং জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের প্রার্থী এস এম সাব্বির হোসেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ করেছেন। গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে ১৩৬ জন ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডের এবং ৩৯ জন সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রায় অর্ধেকই মামলার আসামি ॥ কেসিসি নির্বাচনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৩৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। যাদের প্রায় অর্ধেকের নামে আছে হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা, নাশকতা, ডাকাতি, নারী নির্যাতন, চেক ডিজঅনার, প্রতারণাসহ একাধিক মামলা। ১৮ থেকে ২৫টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে একজন প্রার্থীর নামে। এসবের বেশিরভাগ মামলাই হেয় প্রতিপন্ন ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে জানিয়েছেন প্রার্থীরা। আর বিশিষ্টজনদের মতে সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররা।
প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামার তথ্যমতে, মামলা চলমান রয়েছে ৩৬ জন প্রার্থীর, মামলা থেকে খালাস এবং অব্যাহতি পেয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে ১নং ওয়ার্ডের জামায়াতপন্থি কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম আজিজুর রহমান স্বপনের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা চলমান, একটি মামলায় অব্যাহতি এবং একটিতে খালাস পেয়েছেন। ২নং ওয়ার্ডের এসএম মনিরুজ্জামানের দু’টি চেক ডিজঅনার মামলা বিচারাধীন। ৩নং ওয়ার্ডের কাজী ইব্রাহিম মার্শালের একটি ডাকাতি মামলা বিচারাধীন। ৪নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনের প্ররোচণাসহ দুই মামলা চলমান।

একই ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. কবির হোসেন কবু মোল্যা হত্যা প্রচেষ্টা ও ভীতিপ্রদর্শনের দুই মামলা চলমান এবং গোলাম রব্বানীর হত্যা মামলাসহ দুই মামলা বিচারাধীন। ৫নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. ফিরোজ আলমের নামে মাদকের মামলা বিচারাধীন এবং একই ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা শেখ সাজ্জাদ হোসেন তোতনের দুই মামলা ঘাড়ে। ৬নং ওয়ার্ডের মো. শামসুল আলম মিল্টনের হত্যা প্রচেষ্টাসহ দুই মামলা রয়েছে। 
৭নং ওয়ার্ডের মো. সুলতান মাহামুদের হত্যা মামলা তদন্তাধীন। আর ৯নং ওয়ার্ডের কাজি ফজলুল কবির টিটো হত্যা মামলাসহ ১৫টি এবং মো. মাহফুজ পারভেজ মুন্না একটি মামলা চলমান। ১০নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম লিটনের হত্যা প্রচেষ্টাসহ তিনটি মামলা চলমান, কাজী তালাত হোসেনের মামলা থাকলেও বিস্তারিত হলফনামায় উল্লেখ করেননি এবং এ, এসএম সায়েম মিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা চলমান রয়েছে। ১২নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. শফিকুল আলমের হত্যা প্রচেষ্টাসহ ১৩টি মামলা চলমান।

১৪নং ওয়ার্ডের শেখ মাহফুজুর রহমানের হত্যা প্রচেষ্টা মামলা বিচারাধীন; আলী সিদ্দিক ও একই ওয়ার্ডের মো. নাসির সরদারের দুই মামলা চলমান। ১৭নং ওয়ার্ডের ইউসুফ আলী খান, শামীম পারভেজ, ১৮নং ওয়ার্ডের মাশিউর রহমান, ইমরান হোসেন, জাকির হোসেন, ১৯নং ওয়ার্ডের মো. মনিরুল ইসলামের ১৮টি মামলা। আর জাকির হোসেন বিপ্লব ও বিএনপিপন্থি প্রার্থী আশফাকুর রহমান কাকনের নামে দুই হত্যা প্রচেষ্টা মামলা চলমান। ২০নং ওয়ার্ডের শেখ মো. গাউসুল আজমের বিস্ফোরক মামলাসহ চারটি মামলা বিচারাধীন। ২১নং ওয়ার্ডের মো. ইমরুল হাসান দুই মামলা চলমান।

২২নং ওয়ার্ডের মো. মাহবুব কায়সারের হত্যা প্রচেষ্টাসহ ৩টি মামলা চলমান এবং শেখ মো. আনোয়ারুল কবির ফিরোজের বিদ্যুৎ আইনে চারটি মামলা রয়েছে। ২৬নং ওয়ার্ডের গোলাম মাওলা শানুর মামলা থাকলেও হলফনামায় ধারাগুলো উল্লেখ নেই। ৩১নং ওয়ার্ডের  প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের নামে ২৫টি মামলা চলমান। এ ছাড়া একই ওয়ার্ডের আলহাজ মো. পিটু মোল্লার নামে প্রতারণা মামলা, মো. আরিফ হোসেনের নামে একটি এবং মো. হাছান চাঁনের ডিজিটাল নিরাপত্তা মামলা চলমান।
এ বিষয়ে কথা হয় মামলা থাকা একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে, তারা জানান, রাজনৈতিক ভাবে দমনপীড়ন করার জন্য মামলা শিকার হতে হয়েছে। আবার প্রতিপক্ষ সুবিধা নিতে দিয়েছেন মামলা। শত্রুতামূলকও মামলা হয় বলেন কেউ কেউ। তবে সকলের বক্তব্য এতে কাউন্সিলর নির্বাচনে অসুবিধা হবে না। কারও কারও মতে এভাবেই চলে আসছে।
বরিশালে প্রচ- গরমেও প্রার্থীদের জমজমাট প্রচার ॥ স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল  থেকে জানান, অসহনীয় ভ্যাপসা গরমও প্রচার কার্যক্রম থামাতে পারেনি বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের তীব্রতা যেমন বাড়ে, তেমনি প্রার্থীদের প্রচারও বাড়তে থাকে নগরীজুড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর ১২ নম্বর ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের (নৌকা) মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। এ সময় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল গড়িয়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রচ- গরমে সবাই ক্লান্ত হলেও প্রচারে কোনো ক্লান্তি ছিল না নৌকার প্রার্থী ও তার সমর্থকদের মধ্যে।
এদিকে নগরীর পোর্ট রোড এলাকায় গণসংযোগ করেন টেবিল ঘড়ি মার্কার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বিএনপি ঘরানার কামরুল আহসান রূপন। জিলা স্কুল এলাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) মেয়র প্রাার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম গণসংযোগ করেছেন। জাতীয় পার্টির (লাঙল) মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে গণসংযোগে নেমেছেন। হাতপাখার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম গণসংযোগকালে নিরাপদ শহরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মামা ও বাবার মতো সেবা করতে চাই ॥ নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বগুড়া রোডস্থ চৈতন্য স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌকার প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত বলেছেন, আমার মামা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাবা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের মতো সৎপথে থেকে তাদের আদর্শ ধারণ করে নগরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। সমাজ সেবক আনিচ উদ্দিন শহিদ উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। অপরদিকে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ ও তার সকল সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে খোকন সেরনিয়াবাত বলেন, নগরবাসী দীর্ঘদিন নিজ শহরে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।

এখানে বাড়ির প্ল্যানতো দূরের কথা গভীর নলকূপ পর্যন্ত বসাতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে সিটি করপোরেশনের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নগরবাসী একটি স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন। নগরবাসীর যে কোনো প্রয়োজনে আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ স ম জহিরুল হক খোকন উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
এ ছাড়া জেলা ও মহানগর ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেম ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নৌকার প্রার্থী বলেছেন, যে সব দল ধর্মের কথা বলে, তারা ইসলামের জন্য কী করেছে? একযুগের অধিক সময় ধরে তারা নগরীসংলগ্ন একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়েও সেখানে কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। তাহলে তারা মেয়র নির্বাচিত হয়ে বরিশাল নগরীর কী উন্নয়ন করবেন? 
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের পর বিকেল তিনটায় নৌকার প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের জেলা ও মহানগরের প্রতিনিধি সভায় শিল্পকলা একাডেমিতে অংশগ্রহণ করেন। বিকেল চারটায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ আরজুমনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। সন্ধ্যা ছয়টায় জেলা ও মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের আয়োজনে ক্রাউন কমিউনিটি হলের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যা সাতটায় ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বান্দ রোডস্থ ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী উঠান বৈঠক এবং রাত নয়টায় আমানগঞ্জস্থ মাহাবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রমের বাসভবনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে নৌকার প্রার্থী বক্তব্য রাখেন।

স্বামীর পক্ষে স্ত্রীর গণসংযোগ ॥ আওয়ামী লীগের (নৌকা) মেয়র প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের সহধর্মিণী লুনা আব্দুল্লাহ এবং জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের সহধর্মিণী ইসমত আরা ইকবাল প্রচারে মাঠে। পৃথকভাবে তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে বরিশাল নগরীকে একটি তিলোত্তমা শহর প্রতিষ্ঠার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন লুনা আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আমার স্বামী খোকন সেরনিয়াবাতকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করা হলে বরিশালে আর কেউ অবহেলিত থাকবে না। অপরদিকে আধুনিক ও উৎপাদনমুখী নগরী বিনির্মাণে লাঙল মার্কায় ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেছেন ইসমত আরা ইকবাল।
নারীবান্ধব গণপরিবহন চালু করা হবে ॥ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, সাধারণ গণপরিবহনে আমাদের মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই আমি মেয়র নির্বাচিত হলে সেদিকে লক্ষ্য রেখে নারীদের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় নগরীতে নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন সার্ভিস ব্যবস্থা করে নারীদের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করব। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর জিলা স্কুল মোড় এলাকায় গণসংযোগকালে কথাগুলো বলেছেন হাতপাখা মার্কার প্রার্থী। একই দিন বিকেলে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারুইজজার হাট, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের শোলনা বাজার, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর বাজার এবং কাউনিয়া এলাকায় গণসংযোগ করেন।
বাবার পক্ষে অর্থনীতিবিদ ছেলের গণসংযোগ ॥ বাবা নৌকার প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে বৃহস্পতিবার নগরীতে গণসংযোগ করেছেন ছেলে অর্থনীতিবিদ আবিদুর রহমান সেরনিয়াবাত। দুপুরে তিনি সরকারি বিএম কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি তার বাবার জন্য সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও ভোট প্রার্থনা করেন।
কাউন্সিলর পদে স্বামী-স্ত্রী ॥ নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও জাগুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ও নাজনীন আক্তার লিনা কবির দম্পতি ভোটের মাঠে লড়াই করছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট ভিক্ষা চাচ্ছেন। তবে একে অপরের জন্য নয়; শুধু নিজের জন্য। এ নির্বাচনে বর্তমান কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নের জন্য ভোটের মাঠে লড়াই করছেন। অপরদিকে ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত-৯ আসনের কাউন্সিলর পদে লড়াই করছেন হুমায়ুন কবিরের সহধর্মিণী নাজনীন আক্তার লিনা কবির।

×