ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

মাঠ গোছাচ্ছে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, তৎপরতা নেই বিএনপির 

নিজস্ব সংবাদদাতা, রংপুর

প্রকাশিত: ১০:২৮, ২৪ মে ২০২৩; আপডেট: ১০:৩৭, ২৪ মে ২০২৩

মাঠ গোছাচ্ছে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, তৎপরতা নেই বিএনপির 

লোগো

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর-৪ আসনে শুরু হয়েছে নির্বাচনী তৎপরতা । জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে দল গোছানো ও নির্বাচনী মতবিনিময় শুরু করেছেন। তবে বিএনপির সম্ভাব্য কোনো প্রার্থী এখনো সেভাবে মাঠে নামেননি। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে কিনা বা তা না হলে দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা এমন দ্বিধাদ্বন্দ্বে দিন কাটছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের। ফলে মাঠে নেই তাদের তেমন কোনো কর্মকাণ্ড। এবারে বর্তমান সংসদ সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী ছাড়াও আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী লবিং করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। 

এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন আওয়ামী লীগ নেতা এবং রংপুর জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খন্দকার মো. রফিক হাছনাইন। ২০১৮ সালে এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এবারও দলীয় টিকেট চাইবেন তিনি। দল চাইলে কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাউনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শিল্পপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

নির্বাচনী মাঠে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন পীরগাছা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পরাজিত প্রার্থী জাপা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক শিল্পপতি মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল জাপার মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি আশা করছেন।

অপরদিকে, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা এবং বিএনপির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফসার আলীর নাম শোনা যাচ্ছে।

এক সময়ে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি বলা হলেও এখন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা সুসংগঠিত হওয়ায় আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে এসেছে। যার ফলে গত ৩টি নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হন আওয়ামীলীগ প্রার্থী টিপু মুন্শি। একাদশ সংসদে রংপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিত্ব করছে। এ আসনের সংসদ সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের বানিজ্যমন্ত্রী। 
আসন্ন নির্বাচনে আবারও যাতে এই আসনে বিজয়ী হন সেই টার্গেট নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন তিনি। এই আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা মজবুত। জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থাও আওয়ামী লীগের সমানে সমান। বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা তেমন মজবুত নয়। তবে জামায়াত ইসলামীর প্রচুর নিরব ভোট রয়েছে যা বিএনপিতেই  যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেদিক থেকে বলা যায়, নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ২২ নম্বর আসন রংপুর-৪ এ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির মধ্যে ত্রিমূখী লড়াই হবে। 

আওয়ামী লীগ প্রার্থী বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো আমি এই আসনের সংসদ সদস্য। এই দীর্ঘ সময়ে এ এলাকার যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্ম সংসস্থান সৃষ্টিসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। উন্নয়ন করেছি বলেই জনগণ আমাকে বারবার নির্বাচিত করেছে। আগামী নির্বাচনেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। 
অপরদিকে, আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রার্থী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খন্দকার মোঃ রফিক হাছনাইন বলেন, টিপু মুনশি’র আমলে এলাকায় যেসব উন্নয়ন হয়েছে তার কৃতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। টিপু মুনশি এলাকায় আসেন কালে-ভদ্রে। প্রয়োজনে এলাকার মানুষ এমপি’র দেখা পায় না। তাদের সমস্যা, সূখ-দুঃখের কথা বলতে পারে না। 

এই আসনের মানুষ এবারে একজন স্থানীয় নেতাকে এমপি হিসেবে দেখতে চায়। পীরগাছা আমার নাড়ীপোতা জায়গা। পীরগাছার মানুষের সাথে আমার শৈশব-কৈশর-যৌবনের নিবিড় সম্পর্ক। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এবারও চাইব। দল বিবেচনা করে আমাকে দলীয় টিকেট দিলে আমি বিপুল ভোটে বিজয় নিশ্চিত করব। 

আওয়ামী লীগের সাথে নির্বাচনী জোট না হলে এ আসনটি আবার ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে কাজ করবে জাতীয় পার্টি। পীরগাছা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান বলেন, “এই আসনটি জাতীয় পার্টির ঘাঁটি। জোটের খাতিরে বিগত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এ আসনে আওয়ামীলীগকে অনেকটা ছাড় দিয়েছে। সেকারণে আওয়ামীলীগ প্রার্থী এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। 

এবারে আমরা ছাড় দিতে রাজী না। তিনবারের এমপি থাকার পরও বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এলাকার জন্য তেমন কিছুই করেন নি। নির্বাচনের আগে তিনি ভোটারদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি মন্ত্রী হবেন। এই এলাকায় শিল্প-কারখানা স্থাপন করবেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি কথা রাখেন নি।” জাতীয় পার্টির অপর প্রার্থী মোস্তফা সেলিম বেঙ্গলের দলীয় টিকেট পাওয়ার সম্ভবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “সেলিম বেঙ্গল এখন জাতীয় পার্টিতে নিস্ক্রিয়। দলে তার কোন গ্রহনযোগ্যতা নেই। গত নির্বাচনে তিনি যে ভোট পেয়েছেন তাতে তাকে দলের টিকেট দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমিই জাপা একক প্রার্থী।”

এই জাপা প্রার্থী আরও বলেন, আমার বাবা শাহ মো. মিজানুর রহমান উপজেলা জাতীয় পার্টির আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন এবং তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং এলাকার মাটি ও মানুষের সাথে আমাদের একটা নিবিড় সম্পর্কের কারণে আমার গ্রহনযোগ্যতা অনেক বেশী । ছাড়া, অন্য প্রধান দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় বাস করেন না। আমি নির্বাচনী এলাকায় বাস করি। এলাকাবাসী সূখে-দুখে সব সময় পাশে আছি। আমার বাবাও এই এলাকায় প্রচুর স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করেছেন। আমিও আমার বাবার মতোই এলাকবাসীর কল্যাণে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই, মনোনয়ন পেলে আমার বিজয় নিশ্চিত ইনশাল্লাহ। 

কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা বলেন, শেষ পর্যন্ত দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে আমিই থাকব। তবে, কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত আমি নিশ্চিত নই ভোটে যাব কিনা। কারণ, বর্তমান ভোটচোর সরকারের অধিনে ভোটে অংশ নিয়ে লাভ নেই। নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন হলে অবশ্য নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবো এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো। কারণ, এ সরকার জনসমর্থন হারিয়েছে। আওয়ামীলীগ প্রার্থী যেমন রংপুর সিটি নির্বাচনে জামানত হারিয়েছে, তেমনি এখানেও জামানত হারাবে।

নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী রংপুর-৪ সংসদীয় আসনটি একটি পৌরসভা(হারাগাছ) ও দুটি উপজেলা পীরগাছা এবং কাউনিয়া নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ২২ নাম্বার আসন। এর মধ্যে কাউনিয়া উপজেলায় রয়েছে ১টি পৌরসভা (হারাগাছ পৌরসভা), ইউনিয়ন রয়েছে ৯টি। পীরগাছা উপজেলায় রয়েছে ৫টি ইউনিয়ন। সবমিলে এই আসনের পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ৬২২ জন এবং নারীর ভোটার সংখ্যা ২লাখ ৩০ হাজার ৮৯ জন এবং হিজড়া ২ জন। নারী, পুরুষ ও হিজড়া মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭১৩ জন। 

প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন : ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি রংপুর-২২ নামে পরিচিত ছিল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তোফাজ্জল হোসেন সরকার  বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৩৭ হাজার ৬ শত ৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান সরকার । তিনি পান ৫ হাজার ৭ শত ৯ ভোট।

দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৭৯ সালের ১৮ই ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি পরিচিতি হয় রংপুর-১১ নামে। বিএনপির খন্দকার গোলাম মোস্তফা বিজয়ী হন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১৯ হাজার ৮ শত ৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের হামিদুজ্জামান। তিনি পান ১৫ হাজার  ৩ শত ৩১ ভোট।

তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৮৬ সালের ৭মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয়  সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১১ আসনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়, রংপুর-৪। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক  বিজয়ী হন। তিনি পান ৩৬ হাজার ৭শত ১১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উদ্দিন ভরসা ।  তিনি পান ২৯ হাজার ৭ শত ৫৪ ভোট। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন: ১৯৮৮ সালের ৩রা মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করেনি। প্রতিদ্ব›দ্বীবিহীন এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির শাহ আলম বিজয়ী হন। লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ৯৮ হাজার ৬শত ২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাদ সরকার। তিনি পান ২৪ হাজার ৪২ ভোট।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন: ১৯৯১ সালের ২৭ই ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির  শাহ আলম বিজয়ী হন। লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ৭৬ হাজার ২ শত ৫৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন আ.লীগ প্রার্থী শাহ আব্দুর রাজ্জাক। নৌকা  প্রতীকে তিনি পান ৩৯ হাজার ৩ শত ২৫ ভোট।

৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারি ৬ষ্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির শাসনামলে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপি, ফ্রিডম পার্টি এবং কিছু নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দল, অখ্যাত ব্যক্তি প্রতিদ্ব›দ্বী করেন। তত্ত¡াবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ সব বিরোধী দল শুধু নির্বাচন বর্জন করে ক্ষান্ত হয়নি, প্রতিরোধও করে। ফলে রংপুর-৪ আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ফলে ৬ষ্ঠ জাতীয় সংদ নির্বাচনে এই আসনে কেউ প্রতিনিধিত্ব করেনি। বিরোধী দলের অসহযোগ আন্দোলনের মুখে বিএনপি  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়। তত্ত¡াবধায়ক সরকার বিল পাশ  হওয়ার পরপরই সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এই সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ দিন!

সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির করিম উদ্দিন ভরসা বিজয়ী হন। লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ৮৪ হাজার ৩ শত ৭৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের মহসীন আলী বেঙ্গল। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৪০ হাজার ৭৬  ভোট।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২০০১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির করিম উদ্দিন ভরসা বিজয়ী হন। লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ৯৩ হাজার ৬ শত ৩১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন তারই সহোদর বিএনপির রহিম উদ্দিন ভরসা। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৮৩ হাজার ৮ শত ২৫ ভোট।

নবম জাতীয় সংসদ  নির্বাচন: ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ  নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ২৭ হাজার ৩ শত ৭১ জন । ভোট প্রদান করেন ২ লাখ ৯২ হাজার ৪ শত ৩৬ জন। নির্বাচনে  আওয়ামী লীগের টিপু মুনশি বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীকে  তিনি পান ১ লাখ ১৮ হাজার ৯ শত ৫০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন  জাতীয় পার্টির করিম উদ্দিন ভরসা। লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ২ হাজার ৮ শত ৪২ ভোট।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৮৯ জন ভোট দেন ১ লাখ ২০ হাজার ১ শত ৫৪জন । নির্বাচনে  আওয়ামী লীগের টিপু মুনশি বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ১৩ হাজার ৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির করিম উদ্দিন ভরসা। লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ৫ হাজার ৯ শত ৮৬ ভোট। তত্ত¡াবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর- ৪ আসনে ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ১২ হাজার ৯ শত ৯০ জন। ভোট প্রদান করেন ৩ লাখ ২৩  হাজার ৪ শত ৭৩  জন।  প্রার্থী ছিলেন ৬ জন।

নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের টিপু মুনশি, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল, মই প্রতীকে বাসদের সাদেক আলী, গোলাপফুল প্রতীকে জাকের পার্টির আঞ্জুমান আরা, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বদিউজ্জামান প্রতিদ্ব›দ্বীতা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিপু মুনশি তৃতীয় বারের মতো বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯শত ৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৪ হাজার ১ শত ৭৭ ভোট। কারচুপির অভিযোগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রংপুর-৪ আসনে প্রথম, তৃতীয়, নবম, দশম ও একাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ, দ্বিতীয় সংসদে বিএনপি,  চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম সংসদে জাতীয় পার্টির  প্রার্থীরা বিজয়ী হন।

 এসআর

×