ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০

স্বীকৃতি পায়নি গণকবর

উপেক্ষায় অবহেলায় একাত্তরের স্মৃতিচিহ্ন!

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল

প্রকাশিত: ০১:২৫, ৩১ মার্চ ২০২৩

উপেক্ষায় অবহেলায় একাত্তরের স্মৃতিচিহ্ন!

স্বাধীনতার ৫২ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি বরিশালের দশ উপজেলার ৩১টি গণকবর

বরিশাল
স্বাধীনতার ৫২ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি বরিশালের দশ উপজেলার ৩১টি গণকবর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। স্থানীয় রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিবাহিনীর সহায়তায় প্রায় অর্ধলাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের মরদেহ ফেলা হয়েছিল নদী, খাল থেকে শুরু করে ডোবার মধ্যে। কোথাও গণহত্যার পর মরদেহগুলো একত্রিত করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জেলার দশ উপজেলায় ৩১টি বধ্যভূমি রয়েছে। অধিকাংশ স্থানেই নির্মিত হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ। কিছু এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বধ্যভূমি সংরক্ষণ। তবে বেশিরভাগ বধ্যভূমি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব বধ্যভূমিতে ৫০ হাজারের অধিক লোক গণহত্যার শিকার হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল জেলা সদরে দুইটি, গৌরনদীতে চারটি, আগৈলঝাড়ায় ছয়টি, বাকেরগঞ্জে তিনটি, বানারীপাড়ায় চারটি, বাবুগঞ্জে দুইটি, উজিরপুরে পাঁচটি, মুলাদীতে দুইটি ও মেহেন্দীগঞ্জে তিনটি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। সম্প্রতি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর উদ্যোগে বিভাগীয় শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের এলাকার ভেতরে থাকা বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। 
দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ বধ্যভূমি কেতনার বিল ॥ স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা গ্রামের কেতনার বিলে পাক সেনাদের নির্মম বুলেটে প্রায় দুই সহ¯্রাধিক নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হয়েছিলেন। স্বাধীনতার ৫২ বছরে এসে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ বধ্যভূমি কেতনার বিল এলাকায় সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ওই স্মৃতিস্তম্ভের স্থানে যেতে কোনো রাস্তা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রাংতা গ্রামের শহীদ কাশীনাথ পাত্রের ছেলে জগদীশ পাত্র (৬৮) বলেন, ঘটনার দিন পহেলা  জ্যৈষ্ঠ প্রাণ বাঁচাতে পালাতে গিয়ে পাকবাহিনীর গুলিতে এলাকার প্রায় দুই হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর কেতনার বিলে শহীদ হয়েছেন। ওই সময় তার বাবার সঙ্গে পালাতে গিয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার বাবার শরীরে পাঁচটি গুলি বিদ্ধ হওয়ায় পর ঘটনাস্থলেই তিনি শহীদ হন। যখন পাকসেনারা পূর্বদিক থেকে পশ্চিমদিকে আসতে থাকে তখন তাদের দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পাক সেনাদের ব্রাশ ফায়ারে কেতনার বিলে প্রায় দুই হাজার লোক ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।

সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী বর্তমানে আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, অনেক লাশ শিয়াল, কুকুরে ছিঁড়ে খেয়েছে। পরেরদিন এলাকাবাসীর সহায়তায় পাত্রবাড়ির বিভিন্ন স্থানে ৫/৬টি গর্ত করে অসংখ্য লাশ মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।
অধিকাংশ গণকবর অরক্ষিত ॥ স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকবাহিনী ও স্থানীয় রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের বর্বর নির্যাতনে নিহত শহীদদের গণকবরের স্মৃতি রক্ষার্থে এখনো বরিশালের অধিকাংশস্থানে নির্মিত হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ। যেসব স্থানে সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে তাও অযন্ত-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে দীর্ঘ ৫২ বছরেও গণকবরগুলো শনাক্ত করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ না করায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

১৩৫ শহীদের বধ্যভূমি অরক্ষিত ॥ স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫২ বছরে এসেও সেদিনের লোমহর্ষক ঘটনা আজও ভুলতে পারেননি পাকসেনাদের গুলিতে প্রাণ হারানো ১৩৫ শহীদের নির্মম মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর হরহর গ্রামের শহীদ পরিবারের সন্তান মৃত অনিল চন্দ্র দাসের ছেলে মনোতোষ দাস (৬৫)। ১৯৭১ সালের ১৫ মে পাকসেনাদের নির্মম গুলিতে সেদিন শহীদ হয়েছিলেন মনোতোষ দাসের ঠাকুর দাদা অশ্বিনী কুমার দাস।

মনোতোষ দাস বলেন, সেদিন পাকসেনাদের গুলিতে ১৩৫ নর-নারী ও শিশু একইস্থানে নির্মম হত্যার শিকার হয়েছিলেন। পরে দুয়েকজনের স্বজনরা কয়েকটি লাশ এখান থেকে নিয়ে গেলেও সিংহভাগ একইস্থানে পড়েছিল। তখন নির্জন এ জঙ্গলে শহীদদের লাশ শেয়াল-কুকুরে ছিঁড়ে খেয়েছে। বেশ কয়েকদিন পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এখানে এসে লাশগুলো একটি ডোবার মধ্যে রেখে মাটিচাপা দিয়েছিলেন।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাত হোসেন রাসু বলেন, পাকসেনাদের ভয়ে হরহর গ্রামের নন্দিপাড়ার বনজঙ্গল বেষ্টিত জলাভূমিতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন আশপাশ এলাকার কয়েকশ’ হিন্দু পরিবারের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশু। বিষয়টি জানতে পারে পাকবাহিনীর দোসর বাটাজোর ক্যাম্পের রাজাকাররা। তারা পাকসেনাদের নিয়ে সেদিন দুপুরে বনজঙ্গল ঘেরা ওইস্থানে আক্রমণ চালায়। হানাদাররা নিরীহ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে।

এতে ১৩৫ ব্যক্তি শহীদ হন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সরদার বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫২ বছর পরও বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর এলাকার ১৩৫ শহীদের স্মৃতিবিজড়িত মরার ভিটায় নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ। বাটাজোর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কাদের হাওলাদার বলেন, সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হওয়া এক মায়ের দুগ্ধ পান করা অবস্থায় সাত মাস বয়সের এক শিশু ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। যা ছিল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।

মুক্তিযোদ্ধা, এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবারের স্বজনরা দ্রুত জীবিত যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শহীদ পরিবারের স্বীকৃতিসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে মরার ভিটার বধ্যভূমির স্মৃতি রক্ষায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ ও যাতায়াতের মাটির রাস্তাটি নির্মাণের জোর দাবি করেছেন। স্থানীয় অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সেদিন পাক সেনাদের সঙ্গে উপস্থিত থেকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার আদম আলী মাস্টার, তার সহযোগী মানিক রাঢ়ী, খাদেম সরদার, জব্বার সরদার, আক্কাস আলী বেপারীসহ তাদের অন্যান্য সহযোগী।
কলসকাঠী বধ্যভূমি ॥ দৈনিক জনকণ্ঠের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিজস্ব সংবাদদাতা জিয়াউল হক আকনের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদশা মিয়া বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ মে কলসকাঠীতে পাকহানাদার বাহিনী আক্রমণ করে। ওইদিন পাকবাহিনী কলসকাঠী বাজার সংলগ্ন খালের পাড়ে ২৮০ জনকে হত্যা করে। যার অধিকাংশই ছিল হিন্দু ধর্মের মানুষ। 
অসংখ্য নারীর ইজ্জত হরণ করে শত শত বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া কলসকাঠীর বেবাজ গ্রামে পাক হানাদার বাহিনীর আক্রমণে অনেকেই শহীদ হন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, পাক সেনাদের নির্মম বুলেটে শহীদ হবার পর কলসকাঠী বধ্যভূমিতে চার শতাধিক, বেবাজ বধ্যভূমিতে দুই শতাধিক এবং শ্যামপুর বধ্যভূমিতে প্রায় ৪০ জনকে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরে হলেও ব্যক্তি উদ্যোগে ২০০৫ সালে কলসকাঠী এলাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন থেকে তা অযতœ ও অবহেলার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া অন্য বধ্যভূমিগুলো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল অঞ্চলের বধ্যভূমির তালিকার মধ্যে রয়েছে- বরিশাল সদরের পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর তীরে সরকারিভাবে স্তম্ভ নির্মিত বধ্যভূমি (চিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয় এক থেকে দেড় হাজার মানুষকে। তালতলী বধ্যভূমি বেসরকারিভাবে ফলক নির্মিত (চিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয় অর্ধশতাধিক লোক। চরকাউয়া মোসলেম মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন খালের পাড় বধ্যভূমি (অচিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয় প্রায় ৪০ জনকে।
বরিশাল নগরীর ১নং সিএন্ডবি পুল বধ্যভূমি (অচিহ্নিত) এখানে গণহত্যার শিকার হয় প্রায় ১০ জন। গৌরনদীর বাটাজোর হরহর এলাকার মরার ভিটার বধ্যভূমি (অচিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয় ১৩৫ জনকে। গৌরনদীর পালরদী নদীর তীরে সহকারী পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে বধ্যভূমি (অচিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয় দুই থেকে তিন শতাধিক মানুষকে। গৌরনদী গয়নাঘাটা পুল বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় দুই থেকে তিন শতাধিক লোক। গৌরনদী কলেজ সংলগ্ন হাতেম পিয়নের বাড়ির ঘাটলা বধ্যভূমি (অচিহ্নিত) এখানে গণহত্যা করা হয় চার থেকে পাঁচ শতাধিক মানুষকে।

আগৈলঝাড়ার কাঠিরা ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংলগ্ন বধ্যভূমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ফলক নির্মিত (চিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয় ৪৫ জনকে। কেতনার বিল বধ্যভূমিতে (চিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় প্রায় দুই সহ¯্রাধিক নীরিহ গ্রামবাসীকে। রাজিহার ফ্রান্সিস হালদারের বাড়ির বধ্যভূমি ব্যক্তিগতভাবে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত (চিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয় সাতজনকে। পতিহার গ্রাম বধ্যভূমি (অচিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয় ২০ জনকে। দক্ষিণ শিহিপাশা গ্রামের বধ্যভূমি (অচিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয়েছিল প্রায় ৩০ জনকে।

বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী বধ্যভূমি ব্যক্তিগতভাবে ফলক নির্মিত (চিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয় চার শতাধিক ব্যক্তিকে। বেবাজ বধ্যভূমি, এখানে গণহত্যা করা হয় দুই শতাধিক (অচিহ্নিত)। শ্যামপুর বধ্যভূমিতে গণহত্যা করা হয় ৪০ জনকে (অচিহ্নিত)। বানারীপাড়ার দক্ষিণ গাভা নরেরকাঠী বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় শতাধিক ব্যক্তিকে।
গাভা বাজার বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয়েছে ৩০ জনকে। গাভা বিল্ববাড়ি বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় সাতজনকে। গাভা পূর্ববেড় মহল বাওনেরহাট বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত), গণহত্যা করা হয় ৪০ জনকে। গাভা রাম চন্দ্রপুর মহল (অচিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয়েছে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে। বাবুগঞ্জের ক্যাডেট কলেজ বধ্যভূমি (অচিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে। উজিরপুর বড়াকোঠা দরগাবাড়ি বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় শতাধিক লোককে। উত্তর বড়াকোঠা মল্লিক বাড়ি বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় ১০জনকে।

বড়াকোঠা মুক্তিযুদ্ধের মিলন কেন্দ্র সংলগ্ন বধ্যভূমি (অচিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয়েছিল অর্ধশত ব্যক্তিকে। খাটিয়ালপাড়া বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় ১৫ থেকে ২০জনকে। বড়াকোঠা চন্দ্র কান্ত হালদার বাড়ি বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় ১০জনকে। উজিরপুরের নারায়ণপুর বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় প্রায় অর্ধশতাধিক লোককে। মুলাদীর পাতারচর গ্রাম বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় ৫০ জনকে। মুলাদী নদীর দক্ষিণপাড় বেলতলা বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় ২০জনকে।

মেহেন্দীগঞ্জ থানা সংলগ্ন বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় আড়াই থেকে তিন শতাধিক মানুষকে। পাতারহাট গার্লস স্কুলের দক্ষিণপাড়ের খলিল মোল্লার বাড়ির বধ্যভূমিতে (চিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় ১২ মুক্তিযোদ্ধাকে। পাতারহাট গার্লস স্কুল সংলগ্ন ব্রিজের গোড়ার বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় শতাধিক ব্যক্তিকে। ঝালকাঠী জেলার নলছিটি সুগন্ধা নদীর তীরের বধ্যভূমি (অচিহ্নিত), এখানে গণহত্যা করা হয় ১৩ জনকে। নলছিটি মানপাশা ঋষিপাড়া বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় অর্ধশতাধিক গ্রামবাসীকে।

স্বরূপকাঠি কুড়িয়ানা খালের বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় প্রায় একহাজার জনকে। কুড়িয়ানা জয়দেব হালদারের বাড়ির বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে। পূর্বজল্লাবাড়ি খালপাড় বধ্যভূমিতে (অচিহ্নিত) গণহত্যা করা হয় দুইশতাধিক ব্যক্তিকে। উল্লেখ্য, ঝালকাঠী জেলার নলছিটি, পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী ও কুড়িয়ানা ১৯৭১ সালে বরিশাল জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
-খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল

×