ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

হেলিকপ্টারে চড়িয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রবাসী ছেলে

সংবাদদাতা, বোয়ালমারী, ফরিদপুর 

প্রকাশিত: ২২:০৬, ১৬ মার্চ ২০২৩

হেলিকপ্টারে চড়িয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রবাসী ছেলে

হেলিকপ্টার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বৃদ্ধ বাবাকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করলেন মরিশাস প্রবাসী ছেলে আকাশ মিয়া। বিদেশে যাওয়ার আগে হেলিকপ্টারে বাবা জাকির মিয়াকে নিয়ে গ্রাম থেকে ঢাকায় যান ছেলে আকাশ মিয়া।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) বিকেল পাঁচটার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম এম এম মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে হেলিকপ্টারে চড়েন বাবা ও ছেলে।

হেলিকপ্টার ও বাবা-ছেলের দৃশ্যটি দেখতে গ্রামবাসী জড়ো হন বিদ্যালয়ের মাঠে। বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে উঠার আগে প্রবাসী আকাশ মিয়াকে গ্রামের মানুষ ও তাদের আত্মীয় স্বজনেরা বিদায় দেন। এ সময় তাদের সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিলেন, প্রবাসী আকাশ মিয়ার ছেলে জাহিদ মিয়া ও সমাজসেবক আশিকুর রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আকাশ মিয়া (৩৯) আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার জাকির মিয়ার ছেলে। প্রায় ২০ বছরেরও অধিক সময় ধরে মরিশাসে থাকেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার মরিশাস থেকে দেশে আসেন। বাবা জাকির মিয়ার (৬৪)দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো হেলিকপ্টারে চড়া। 

বৃদ্ধ বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে হেলিকপ্টার ভাড়া করে নিজ গ্রাম থেকে ঢাকা ফিরে যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবার প্রবাস জীবনে ফিরে যাবেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মিয়া রাকিবুল বলেন, গ্রাম থেকে প্রথম হেলিকপ্টারে গিয়েছেন আকাশ মিয়া। সেই সঙ্গে বাবার স্বপ্ন পূরণে তাকেও সঙ্গে নিয়েছেন। যা বাবার প্রতি ছেলের অন্যরকম ভালোবাসা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবক আশিকুর রহমান বলেন, আকাশ মিয়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি শুরু হলে মরিশাসের আসমোক কোম্পানী লিমিটেডের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকার মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন গুণীজনের মাধ্যমে প্রবাসে থেকেও পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারের নামের তালিকা তৈরি 

এরপর তাদের খাদ্য সহায়তা নামক কার্ড তৈরি করে প্রায় দুই বছর ধরে প্রতি মাসে পাঁচ কেজি করে চাল দেন। ঈদের সময় সেমাই-চিনি থেকে শুরু করে গরুর মাংস পর্যন্ত বিতরণ করেন। সেইসাথে নতুন পোশাকও উপহার দেন। 

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনুদান ছাড়াও খেলার সরঞ্জাম, চিকিৎসা ও ঘর তৈরি করে দেন। শুধু তাই নয়; খাদ্য সহায়তা নিতে আসা হতদরিদ্রদের যাতায়াতে ভাড়াও দিয়ে দেন। এসব মানবিক কর্মকাণ্ড পালন করে সর্ব মহলে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

প্রবাসী আকাশ মিয়া বলেন, আমার বাবার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল হেলিকপ্টারে চড়া। বাবার প্রতি ভালোবাসা এবং তার স্বপ্ন পুরণ করতেই আমার এ উদ্যোগ। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে নিজের কাছেও বেশ ভালো লেগেছে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান বলেন, প্রবাসী আকাশ মিয়া একজন মানবিক গুণাবলির মানুষ। বাবার স্বপ্ন পুরণ করা প্রত্যেক ছেলের কর্তব্য। আকাশ মিয়া তার বাবার স্বপ্ন পূরণে এমন উদ্যোগ নেন। 
 

এসআর

×