ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৪ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১

শিগগিরই খুলছে গেদে ও সোনামসজিদ বর্ডার

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী 

প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩; আপডেট: ১৫:০৭, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

শিগগিরই খুলছে গেদে ও সোনামসজিদ বর্ডার

সোনামসজিদ স্থল বন্দর

মহামারি করোনার কারণে দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগের জন্য সোনামসজিদ ও গেদে বর্ডার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 শিগগিরই এ বর্ডার খুলে দেওয়া হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে সোনা মসজিদের আগে গেদে খুলে দেওয়ারও ঈঙ্গিত পাওয়া গেছে।

রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সোনামসজিদ জিরো পয়েন্টে দুই দেশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। এ বৈঠক থেকেই সহসা দুটি সীমান্ত যোগাযোগের জন্য খূলে দেওয়ার আভাস মিলেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষের সুবিধার্থে দ্রুত সব স্থলবন্দর দিয়ে ভিসা চালু হবে। একই সঙ্গে রাজশাহী এবং বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ভারতের আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ বিমানের টিকেট চালুর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীস্থ ভারতের সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার।

তিনি জানান, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগের জন্য সোনা মসজিদ স্থলবন্দর খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব শিগগিরই এটি খুলে দেওয়া হবে। তবে এর আগে গেদেও খুলে দেওয়া হতে পারে।

তিনি জানান, দুটি সীমান্ত রাজশাহী বিভাগের মানুষের সবচেয়ে সুবিধাজনক এবং অর্থনৈতিকভাবেও সুবিধাজনক। এটি বন্ধ হওয়ার কারণে এ দেশের রোগীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। 

সোনামসজিদ স্থলবন্দরটি সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে যাত্রী চলাচল বন্ধ থাকায় আমদানিকারক-রপ্তানিকারকরা তাদের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে উভয় পক্ষের ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে।

এ অবস্থায় নতুন সহকারী হাইকমিশনারের নেওয়া উদ্যোগ তাদের নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় সর্বশেষ বৃৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের আমদানি ও রফতানিকারক প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যবসায়ীদের ৮০ শতাংশের বেশি সমস্যার সমাধান হয়েছে।

রাজশাহী অঞ্চলের ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন রুট দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি চলমান থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৫ মার্চ করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়। করোনা সংক্রমণ কমে আসায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কার্যক্রম শুরু হয়। 

তবে এতে শুধুমাত্র ভারত থেকে পাসপোর্ট যাত্রীরা এই চেকপোস্ট ব্যবহার করে দেশে আসতে পারছেন। কিন্তু এই রুট ব্যবহার করে ভারতে যেতে পারছেন না বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীরা।

স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোনা মসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট বন্ধের কারণে স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। আগে ভারতে গিয়ে মালামাল দেখে আমদানি করা হতো। কিন্তু এখন আর তা হয় না। এতে আমাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন রুটের যাত্রীরা বলছেন, সকালে রাজশাহী থেকে বের হয়ে দুপুরের আগেই ভারতের মালদহ শহরে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে ভারতের যে কোনো জায়গায় যাওয়া সহজ। যোগাযোগ সুবিধার কারণে সোনা মসজিদ-মহদিপুর পথে রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁর যাত্রীরা সহজেই ভারতে আসা-যাওয়া করতেন।

জানা গেছে, এ অঞ্চলের মানুষ বেশীর ভাগ চিকিৎসার জন্য এখন বেনাপোল হয়ে ভারতে যেতে চরম দুর্ভোগে পড়েন। বেনাপোলে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ইমিগ্রেশনে লাইনে দীর্ঘক্ষন দাঁড়াতে হয়। এ অবস্থায় সোনামসজিদ ও গেদে বর্ডার খুলে দিলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে।

মামুন-অর-রশিদ

এসআর

×