ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

নীলফামারীর এক গ্রামেই তিনশত বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী

প্রকাশিত: ১৫:৪৫, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

নীলফামারীর এক গ্রামেই তিনশত বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ

দিগন্তজুড়ে বিছানো যেন হলুদরঙা কার্পেট।

ভোজ্য তেলের ঘাটতি মোকাবিলায় নীলফামারী জেলায় সরিষার আবাদ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর দুই হাজার হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে সরিষার। ফসলি সবুজ মাঠের বুকে দিগন্তজুড়ে বিছানো যেন হলুদরঙা কার্পেট। 

শীত আর সরিষাফুল যেন একে অন্যের পরিপূরক। মাঘ মাসের কুয়াশা রোদমাখা চোখে পড়বে এক ঝাক পাখিদের কিচিরমিচির ও ওড়াউড়ির হলুদ-সবুজের নয়নাভিরাম দৃশ্যপট। সরিষা ফুলের ঘ্রাণ ফুসফুসের উপকার হয় বলে মানুষজন ক্ষেতজুড়ে ঘ্রাণ নিতেও ছুটে যান। সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকরা।বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারী) নীলফামারী সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের কাচারিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার  ১৪০ জন কৃষক প্রায় ৪১ হেক্টর অর্থাৎ ৩০০ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। সরিষা চাষে সেই গ্রামের চিত্র বদলে গেছে। এলাকা পরিদর্শনে আসছেন কৃষি কর্মকর্তাগণ। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর এ জেলায় সরিষা আবাদ হয়েছিল সারে চার হাজার হেক্টর জমিতে। এবার আবাদ হয়েছে ছয় হাজার ৭৭৭ হেক্টরে। এই পরিমাণ জমিতে ৯১০০ টন সরিষায় ৩৬ লাখ ৪০ হাজার লিটার তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কাচারীপাড়া গ্রামে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি জমির ওপর নির্ভর করে এক একজন কৃষক দুই বিঘা থেকে শুরু করে পাঁচ বিঘা পর্যন্ত সরিষা লাগিয়েছেন। তারা সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় অনেকে পেয়েছেন সার ও বীজ। কৃষি বিভাগের পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরিষা করেছেন কৃষকরা। 

কৃষি বিভাগ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয় কৃষকদের। সেখানকার কৃষকরা জানায় আমন মৌসুমে বিগত বছরগুলোয় জমিতে ধান চাষ করতেন। এরপর আবার বোরো আবাদ করতেন। এর মাঝে কিছু সময় জমি পতিত থাকত, কিন্তু এবার তারা উন্নত জাতের সরিষা আবাদ করছে। এতে আমনে বেশি ফলন পাওয়ার পাশাপাশি সরিষা চাষের কারণে আর্থিকভাবেও তারা  লাভবান হবেন।

কৃষক জাহাঙ্গীর এ বছর নিজের তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আগে আমি শুধু আমন ও বোরো করতাম। এবারই প্রথম সরিষা চাষ করেছি। আগে দুই ফসল পেতাম, কিন্তু জাত পরিবর্তনের ফলে এবার তিন ফসল পাচ্ছি। 

তিনি জানান, আমাদেরকে সরিষা চাষের জন্য সরকারিভাবে বীজ দেয়া হয়েছে। সার দেয়া হয়েছে। সরকারিভাবে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। 

সরিষা চাষি হারুন উর রশিদ জানান, তিনি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। গতবার যেখানে করেছিলেন তিন বিঘা জমিতে। 

আরেক কৃষক আলমগীর ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে এই সময়ে সরিষা করেছি। সরিষাতে খরচ চার হাজার টাকার মতো বিঘা প্রতি। ফলন ভালো হয়, দামও ভালো পাওয়া যায়। পাশাপাশি সরিষার টাকা দিয়ে বোরো আবাদ উঠি যায়। সরিষার কোনো কিছু ফেলা যায় না, গাছ খড়ি এবং খৈল গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অনেক লাভ সরিষাত। আর ১৫ দিন পরই সরিষা কাটাই মাড়াই শুরু হবে। গতবার আবাদ একটু কম হলেও এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারও ভালো।

কাচারী পাড়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রশিদুল ইসলাম জানান, কৃষকদের নিয়ে আলোচনা করে এবং পরামর্শ দিয়ে সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এতে এখন ১৪০ জন কৃষক সরিষা করছেন। এই গ্রাম এখন সরিষা গ্রামে পরিণত হয়েছে। বিঘা প্রতি পাঁচ মণ উৎপাদন হবে সরিষা, যেখানে চার হাজার টাকা মণ বিক্রি হবে। 

কুন্দপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরিষার চাষে সরকারের প্রণোদনা সফল হয়েছে। দিন দিন সরিষার চাষির সংখ্যা আরও বাড়বে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন,  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে এগিয়ে এসেছেন এ এলাকার কৃষকরা। এখন আর পতিত থাকছে না কোনো জমি।আগামী তিন বছরের মধ্যে সরকারের দেয়া ভোজ্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ ভাগ পূরণ করা হবে। ইতোমধ্যে শতকরা ১৪ ভাগ উৎপাদন হচ্ছে।

এমএইচ

×