ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বদলে গেছে রাজশাহী

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী

প্রকাশিত: ২৩:০৪, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩

বদলে গেছে রাজশাহী

রাজশাহীর বিলসিমলা রেলক্রসিং থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত সড়কে লাগানো প্রজাপতি সড়কবাতি সৌন্দর্য বাড়িয়েছে

শুধু পরিছন্ন-পরিপাটি কিংবা বায়ু দূূষণমুক্তই নয়, দেশের নান্দনিক শহর হিসেবে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে উত্তরের বিভাগীয় শহর পদ্মাপারের রাজশাহীর। অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে আলোকায়ন সবকিছুই যেন এক জাদুুর কাঠির ছোঁয়ায় আধুনিক ও স্মার্ট নগরীতে রূপ নিয়েছে রাজশাহী মহানগরী। বাইরের কোনো মানুষ রাজশাহীতে পা রাখলেই এ শহরের উন্নয়ন ও বদলে যাওয়া রূপ দেখে চমকে ওঠেন, অভিভূত হন। 
বর্তমান সরকারের আমলে এতসব উন্নয়নের পেছনে একজন নেপথ্যের কারিগর আছেন, তিনি হলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তার আধুনিক পরিকল্পনা ও সরকারের সহযোগিতার কারণেই এক সময়ের অপেক্ষাকৃত উন্নয়ন অবহেলিত রাজশাহী নগরী সেজে উঠেছে অপরূপ সৌন্দর্যে। এ শহরের আরও কিছু উন্নয়ন কাজ চলামান রয়েছে- এসব বাস্তবায়ন হলে রাজশাহীই হবে দেশের প্রথম স্মার্ট নগরী। 
রাজশাহী নগর এখন অনেকটা ছবির মতো। অবকাঠামো থেকে সেবা, সৌন্দর্য ও উন্নয়নে আমূল বদলে যাওয়া এক স্বপ্নীল নগরী রাজশাহী। কেন্দ্রের চাওয়া আর প্রান্তের সঠিক বাস্তবায়নে প্রাচীন শিক্ষা নগরী পদ্মাপারের এই জনপদ এখন আধুনিক নগরের প্রতিচ্ছবি। পাঁচ বছর পর আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী সফরে এসে ৩১ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
দেশের উত্তরাঞ্চলের পদ্মাপারের প্রাচীন নগরী রাজশাহী। প্রায় ৯৭ বর্গকিলোমিটারের এই জনপদে ১২ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯ থেকে টানা ১৪ বছরে দীর্ঘ-মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে মূলত: বদলে গেছে নগরীর চিত্র। প্রশস্ত সড়ক, নির্মল বাতাস, নান্দনিক সড়কবাতি, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পিত বাস্তবায়নে পরতে পরতে যেন শোভা মেলে ধরছে।
মূলত ব্রিটিশ আমলের আগ থেকেই রেশম নগরী হিসেবে রাজশাহী নগরীর খ্যাতি ছিল সারা বাংলায়। এরপর দেশ স্বাধীনের পর গড়ে উঠতে শুরু করে একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ জন্য শিক্ষানগরী হিসেবেও রাজশাহী খ্যাতি অর্জন করে। কিন্তু বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন অবহেলায় ক্রমেই হারাতে বসে এ নগরীর খ্যাতি। 
তবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করে এ নগরী। বিশেষ করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এ নগরী নিজের পরিকল্পনায় সাজাতে শুরু করেন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তার ঐকান্তিক  প্রচেষ্টায় গত দুুই  মেয়াদে এ নগর হয়ে ওঠে নান্দনিক। 
সুপ্রশস্ত সড়ক ও দৃষ্টিনন্দন সড়ক বাতি দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় এ নগরীকে করেছে সম্পূর্ণ আলাদা। এরমধ্যে সরকারের অসংখ্য অবকাঠামো কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এখন পরিপাটি নগরীতে রূপ নিয়েছে রাজশাহী নগরী। সম্প্রতি ২ হাজার ৯শ’ ৩১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী নগরীর সমন্বিত অবকাঠামো বদলে দিয়েছে রাজশাহী নগরীকে। প্রশস্ত রাস্তা, বর্জ্য ব্যবস্থা, স্থাপনায় আধুনিকায়ন, নান্দনিক সড়কবাতি, বিনোদন কেন্দ্রের আধুনিকায়ন, এখন রাজশাহীকে দিয়েছে অন্য রূপ। 
শুধুু তাই নয়, দেশের সর্ববৃৃহৎ বঙ্গবন্ধু মুর‌্যাল তৈরি করা হয়েছে এ নগরে। তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক এবং মডেল মসজিদ এ নগরীকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। নগরীজুড়ে প্রায় ২০ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক সুদৃশ্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সড়ক বাতি এখন পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। 
বিশেষ করে গত ৫ বছরের ব্যবধানে বদলে গেছে রাজশাহী নগরীর রূপ। ভোরের আলো ফোটার আগেই ঝকঝকে হয়ে ফুটে ওঠে রাজশাহী নগরী। কয়েক বছর আগেও নগরীর বিভিন্ন সড়কে সকালে হাঁটতে দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চাপাতে হতো মানুষকে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে পাল্টে গেছে সেদিন। এখন চারদিকে সবুজে ¯িœগ্ধ এক অপরূপা নগরী রাজশাহী।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নতুন রাস্তাঘাট, নগরীতে জেনারেল ও স্পেশালাইজ হাসপাতাল, হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও টেকনিক্যাল সুবিধা বৃদ্ধি, নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, গণপরিবহন, রাস্তার আলোকায়ন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভার প্রকল্প নিয়েছে সিটি করপোরেশন। ৫০ বছরের মহাপরিকল্পনা আর এসব প্রকল্পের অগ্রগতিতে  বদলে যাচ্ছে সবুজনগরী রাজশাহী। 
জানা যায়, রাজশাহী নগরীর পরিবেশ উন্নয়ন এবং পৌরসেবা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন ২০০৯ সালের ১ জুলাই থেকে  নৈশকালীন আবর্জনা অপসারণ চালু করে। এরপর থেকে সারাদিনের ময়লা-আবর্জনা রাতের মধ্যে পরিষ্কার করা হয়। ফলে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠেই নগরীর রাস্তাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ঝকঝকে দেখা যায়। দেশে প্রথম এই কার্যক্রমটি চালু করেন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, প্রতি অর্থবছর পরিচ্ছন্নতা খাতে সিটি করপোরেশন প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় করে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ১২ সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। কর্মীরা বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করে সেখানে জমা করে। এরপর ট্রাকে করে সেই ময়লা নিয়ে ভাগাড়ে ফেলা হয়।
রাসিক সূত্রে জানা যায়, নগরীর যানজট মোকাবিলা ও নগরবাসীর যাতায়াত নির্বিঘেœ করতে ১৫টি সড়ক নিয়ে প্রথম পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর আওতায় প্রতিটি সড়ক ৪২ মিটার চওড়া করা হয়। নগরীর সড়কগুলোকে ঢেলে সাজানো হয়। ফলে রাজশাহী এখন চির সবুজ আর হরেক ফুলের সৌন্দর্যে ভরা ¯িœগ্ধ শহর। 
রাজশাহী মহানগরীতে বৃক্ষরোপণে একরকম বিপ্লব হয়েছে গত এক দশকে। বিশেষ করে প্রকৃতিপ্রেমী মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ছোঁয়ায় এখন সবুজের ছোঁয়ামাখা এক অনন্য নগরে রূপ পেয়েছে বিভাগীয় শহর রাজশাহী। ফলে সবুজ নগরীতে পরিণত হয়েছে। রাজশাহী পেয়েছে বিশ^ স্বীকৃতিও। সিটি করপোরেশনের প্রতিটি প্রকল্পে সবুজকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ কারণে রাজশাহীতে এখন শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব ঋতুতেই ফোটে ফুল।  
রাজশাহী মহানগরীর রাস্তার মাঝে সারি সারি গাছ। সবুজের আভা সড়কজুড়ে। তাতে আছে নানা রকম ফুল। রাজশাহী মহানগরীর এমন সবুজ কাছে টানে সব বয়সী মানুষকে। শুধু তাই নয়, রাজশাহীর পদ্মাপারের নৈসর্গিক পরিবেশের আড্ডা, মেঘের সঙ্গে সূর্যের লুকোচুরি, সবুজের মেলবন্ধন সবকিছুই এখন মুগ্ধ করছে সবাইকে। ২০১৬ সালে রাজশাহী প্রথমবারের মতো পরিবেশ দূষণ রোধে বিশে^ প্রথম হয়েছিল। ২০০৬, ২০০৯ ও ২০১২ সালে দেশে বৃক্ষরোপণে প্রথম হয়। 
এখন গ্রীষ্মের নিষ্প্রাণ রুক্ষ্মতা ছাপিয়ে প্রকৃতিতে হাজারো ফুল পাপড়ি মেলে ধরে আপন মহিমায়। রঙিন ফুলের পশরা বসে এখন পুরো নগরীজুড়ে। আর সবুজের ¯িœগ্ধতা ছড়াচ্ছে সারিবদ্ধ সবুজ ছাতিম। 
রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ২০০৯ সালে বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া আধুনিক করার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনে নাগরিকদেরও একটা অভ্যাস গড়ে উঠেছে। কয়েকটি এলাকা বাদে নগরীর অন্যসব এলাকার বাসিন্দারা গাড়ি ছাড়া বাইরে বর্জ্য ফেলেন না। ইতিমধ্যে ১২টি এসটিএস নির্মাণ করা হয়েছে। বাকিগুলো হয়ে গেলে বাইরে থেকে আর কোনো আবর্জনা দেখা যাবে না।
দৃশ্যমান এখন বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্কের পর রাজশাহীতে নির্মাণাধীন সবচেয়ে বড় স্থাপনা বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারও এখন দৃশ্যমান হয়েছে। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশনের কাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের মার্চেই এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন রাজশাহী বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 
রাজশাহী নগরীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের সম্মুখ অংশে দুই দশমিক তিন শূন্য একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠছে এই নভোথিয়েটার। ইতিমধ্যে অবকাঠামো কাজ শেষ হওয়ায় মাথা তুলেছে নভোথিয়েটার।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্মাণাধীন এ নভোথিয়েটারে আধুনিক প্রযুক্তির ডিজিটাল প্রজেক্টর সিস্টেমযুক্ত প্ল্যানেটরিয়াম, ৯-ডি, ৫-ডি হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্নার, সাইন্টিফিক লাইব্রেরি, টেলিস্কোপ, কম্পিউটারাইজড টিকেটিং অ্যান্ড ডেকোরেটিং সিস্টেমসহ নানা সুবিধা থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১২ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগেই প্রকল্পটি গ্রহণ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

শুরুতে ২২২ কোটি তিন লাখ টাকা ব্যয় ধরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, রাজশাহী’ শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল রাসিক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা বিশেষত মহাকাশ সম্পর্কিত জ্ঞান সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় করা, বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট কুসংস্কার দূর করতে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক নাগরিক তৈরিতে বিজ্ঞানের সুযোগ-সুবিধা রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে দেয়াই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
দেশের সবচেয়ে বড় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ॥ এরই মধ্যে রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় প্রতিকৃতি নির্মাণ হয়েছে। এটি দেশের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় প্রতিকৃতি। আজ রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত আওয়ামী লীগের সমাবেশে এই প্রতিকৃতি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে প্রতিকৃতিটি নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। 
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিটির একপাশে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের লোকজ সংস্কৃতির নানা চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অপরদিকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। গ্যালারি ল্যান্ডস্কেপিংয়ে উন্নত গ্রানাইট দিয়ে সজ্জিত করা। উদ্বোধন শেষে সুসজ্জিত বৈদ্যুতিক বাল্ব দিয়ে নাইট ভিশন করা হবে।
রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর ইসলাম বলেন, এই প্রতিকৃতিটি দেশে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় প্রতিকৃতি। এটি নির্মাণ করেছেন আমিরুল ইসলাম। ল্যান্ডস্কেপিং কাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন স্থপতি আবির রহমান। এটির ফাউন্ডেশনে ২২টি পাইলিং করা হয়েছে। বাউন্ডারি ওয়ালের দুই ধারে ৭০০ বর্গফুট টেরাকোটার কাজ করা হয়েছে। 
সবমিলিয়ে বর্তমান সরকরের আমলে অনেকটা ছবির মতোই বদলেছে রাজশাহী। আজ রবিবার রাজশাহী সফরে এসে একগুচ্ছ প্রকল্প সুবিধাভোগীদের হাতে বুঝিয়ে দেবেন শেখ হাসিনা। সবমিলিয়ে ৩১টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি। এর ফলে রাজশাহী হয়ে উঠবে আরও সমৃদ্ধ নগরী।
এই নগর বদলে দেয়ার মূল কারিগর নগরপিতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনও বলেন, লক্ষ্য এখন সিটি করপোরেশনের সেবা আরও সম্প্রসারিত করার। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন, আমরা নতুন করে কোনো কিছু চাইব না, শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাব।’
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আরও বলেন, তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সরকার সহযোগিতা করছে। আগামীতে রাজশাহীর আলাদা রূপ দেয়ার চেষ্টা চলছে।

×