ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১ আশ্বিন ১৪৩০

মাটি কাটায় তিন ফসলি জমি পরিণত হচ্ছে জলাশয়ে

সংবাদদাতা, ধামরাই, ঢাকা

প্রকাশিত: ০১:১৩, ২৬ জানুয়ারি ২০২৩

মাটি কাটায় তিন ফসলি জমি পরিণত হচ্ছে জলাশয়ে

তিন ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করায় জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে আবাদি মাঠ 

অবৈধভাবে চলছে তিন ফসলি জমির মাটি কাটার কাজ। প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে কোনো প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই এ সব মাটি যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাঁটিতে। জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে করছে এ মাটি ব্যবসা। আবার বড় বড় নেতাদের পরিচয় দিয়ে তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা করছে এই ব্যবসা। অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে কৃষি আবাদ কমে যাচ্ছে - ফসলি জমি পরিণত হচ্ছে জলাশয়ে। দেখা যায়, উপজেলার নান্নার, আমতা, বালিয়া, সানোড়া, ভাড়ারিয়া, গাংগুটিয়া, কুল্লা, সুতিপাড়া ইউনিয়েনের এসব মাটি বিক্রির মহাৎসব চলছে।

দেখা যায় মাটি ব্যবসায়ীরা প্রায় ১৫- ২০ ফুট গর্ত করে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়, এতে পাশের ফসলি জমি ভেঙে পড়ছে। আবার কোনো ব্যবসায়ী কৃষকের রোপণকৃত ফসলি ক্ষেতের উপর দিয়ে নিচ্ছে রাস্তা। এতে ক্ষতি হচ্ছে ফসল, প্রতিবাদ করলে হয়তো ক্ষতিপূরণ নয়তো মামলা দেওয়ার হুমকি। এলাকাবাসী জানায়, এসব মাটি ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষমতাশালী, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তার মামলা হামলার হুমকি দেয়। আর ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়ার সময় রাস্তার ধুলায় রাস্তার পাশে থাকা ফসলের মধ্যে ধুলার প্রলেপ পড়ে যায়, শুধু তাই নয়, ধুলা ঢুকে যাচ্ছে বাড়িঘরের ভেতর।
ধামরাই উপজেলা কৃষি অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, জমির টপ সয়েল কেটে ফেলার কারণে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ভাটা থেকে নিসৃত কার্বনের কারণে ফসল ও আশপাশে থাকা গাছপালারও ক্ষতি হয়। মাটি কাটার জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি প্রয়োজন, অন্যথায় মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন  মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, ধামরাইয়ে অধিকাংশ ইটভাঁটির  কোনো অনুমোদন নেই। তবু আমাদের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে চালানো হচ্ছে ইটভাঁটি। এ ছাড়া এরা কৃষি জমি কেটে ভাটায় ব্যবহার করছে। এতে কৃষি জমির পরিমাণ ও ধান-চালের আবাদ কমে যাচ্ছে।