ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

রাজমন্দিরে ২৫১ প্রতিমা নিয়ে পূজার আয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ও নিজস্ব সংবাদদাতা, পিরোজপুর

প্রকাশিত: ২১:০৮, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজমন্দিরে ২৫১ প্রতিমা নিয়ে পূজার আয়োজন

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার কবুতরখালীর রাজমন্দিরে প্রতিমা

ভিন্নধর্মী নানা আয়োজন আর ২৫১টি প্রতিমা নিয়ে গোটা বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার কবুতরখালীর রাজমন্দিরে। ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরিসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শুধু শেষ মুহূর্তে এসে আলোকসজ্জা সম্পন্নসহ খুঁটিনাটি কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, মন্দিরের অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবার দুর্গোৎসবে পাঁচশ’ প্রতিমা তৈরির ইচ্ছে থাকলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ নানা বিষয় চিন্তা করে ২৫১টি প্রতিমা দিয়ে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তবে ধারাবাহিকভাবে আগামীতে প্রতিমার সংখ্যা পাঁচশ’ এবং এক হাজার একটি প্রতিমা করার ইচ্ছা রয়েছে।

এবারের আয়োজনে বিগত বছরের সঙ্গে নতুন অনেক কিছুই যুক্ত হচ্ছে। যেমন- বিগত বছরগুলোর মতো এবারেও দুর্গাপূজা যে কয়দিন চলবে প্রতিদিন ২/৩ হাজার লোকের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হবে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের জন্য খাবারের পাশাপাশি থাকার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। অসহায়, দুস্থ নারীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এবং দরিদ্র-মেধাবী ও কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা-মাতাকে মন্দিরের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
সূত্রমতে, এবারের পূজায় নতুন প্রজন্মের জন্য কবুতরখালীর ডাক্তার বাড়ি ও রাজমন্দির প্রাঙ্গণে অনেক কিছু সংযোজন করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালের পাশাপাশি তাকে (বঙ্গবন্ধু) নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই, তথ্য ও চিত্র নিয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা বইয়ের সংযোজন ঘটিয়ে শেখ হাসিনা কর্নার, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন তথ্য-চিত্র নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার এবং শেখ রাসেল কর্নার করা হয়েছে।
এছাড়া পুরো ডাক্তার বাড়ি ও মন্দির এলাকাকে ঘিরে বিভিন্ন লেখক, মনীষী, বিখ্যাত ব্যক্তিদের বাণীসংবলিত প্ল্যাকার্ড, ছবি, ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিদিন প্রজেক্টরের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধসহ পূর্বের পূজা নিয়ে তৈরি প্রদর্শন করা হবে।
রাজমন্দির কমিটির সভাপতি ডাঃ সুদীপ কুমার হালদার বলেন, প্রতিবছর রাজমন্দিরের দুর্গাপূজার আয়োজনে কয়েক লাখ লোকের সমাগম ঘটে। আর আগতদের সেবায় ডাক্তার বাড়ির লোকজন নিজেদের নিয়োজিত করেন। গত একমাস ধরে আমাদের ৪০ আত্মীয়-স্বজন পূজার আয়োজনকে ঘিরে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। সাতক্ষীরার শংকর পালের নেতৃত্বে ছয়জন পাল ২৫১টি প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। অপরদিকে বরিশাল জেলায় প্রথমবারের মতো ২৫টি প্রতিমা তৈরি করে পূজা শুরু করবে সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের আস্তাকাঠি সার্বজনীন শ্রী শ্রী হরি ও দুর্গামন্দির।


আলোকচ্ছটায় ঝলমলে খুলনা নগরী

স্টাফ রিপোর্টার খুলনা অফিস থেকে জানান, মহালয়ার মাধ্যমে দেবীকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপরের ক্ষণ গণনাও শেষ। আজ স্বায়ংকালের পঞ্চমী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণ, অধিবাস ও অকালবোধন। আগামীকাল ষষ্ঠীপূজার মধ্যদিয়েই শুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে চিরচেনা খুলনাকে মনে হচ্ছে এক অচেনা নগরী। আলোকচ্ছটায় ঝলমল করছে খুলনা শহর। শুধু শহরই নয় এ ধরনের আয়োজন হয়েছে খুলনার এক হাজার ২৫টি পূজা মন্দিরে। এছাড়া পূজায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন নিয়েছে নানা উদ্যোগ।

যেদিক দিয়েই সন্ধ্যার পর খুলনার ধর্মসভা মন্দিরের দিকে যাওয়া হবে সেদিক দিয়েই চোখে পড়বে বিভিন্ন আকৃতি ও রঙের বাতির সমাহার। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে। শুধু ধর্মসভাই নয় নগরীর হাসপাতাল পাড়া, কালীবাড়ী, ডেল্টাঘাট, সোনা পট্টি, সিমেট্রি রোড, দোলখোলা, রুপসা শ্মশানঘাট, শিববাড়ী, বয়রা, টুটপাড়া গাছতলা, খালিশপুর, দৌলতপুরসহ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সাজ সাজ রব।
খুলনা জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্যমতে, এ বছর নয় উপজেলায় ৮৯৫টি ও মহানগরের আট থানায় ১৩০টি সব মিলিয়ে এক হাজার ২৫টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। মাহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুণ্ডু জানান, সিটির ১৩০টি পূজা মন্দিরের মধ্যে সদর থানায় ২৮টি, সোনাডাঙ্গায় ১১টি, খালিশপুরে ১০টি, দৌলতপুরে ১৯টি, খানজাহান আলীতে ৬টি, হরিণটানায় ৫টি, লবণচরায় ৯টি ও আড়ংঘাটা থানায় ৪২টি।

অপরদিকে জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ দত্ত জানান, নয় উপজেলার ৮৯৫টি মন্দিরের মধ্যে বটিয়াঘাটায় উপজেলায় ১১১টি, ডুমুরিয়ায় ২০৬টি, রূপসায় ৭৬টি, দীঘলিয়ায় ৬০টি, কয়রায় ৫৬টি, দাকোপে ৮৫টি, পাইকগাছায় ১৫৪টি, ফুলতলায় ৩৪টি, তেরখাদা উপজেলায় ১০৯টি। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণপদ দাস বলেন, এবারের পূজা নির্বিগ্ন করতে ইতোমধ্যে নগর পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পূজামণ্ডপে শান্তি শৃঙ্খলার বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

monarchmart
monarchmart