ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

কর্মবিরতিকালীন মজুরি ও রেশন প্রদানের দাবি চা-শ্রমিক সংঘের

নিজস্ব সংবাদদাতা, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ১৮:১৭, ৩১ আগস্ট ২০২২

কর্মবিরতিকালীন মজুরি ও রেশন প্রদানের দাবি চা-শ্রমিক সংঘের

চা বাগান

চা-শ্রমিকদের ১৯ দিন কর্মবিরতি পালনের পর শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও কর্মবিরতিকালীন মজুরি ও রেশন থেকে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করছে চা-শ্রমিক সংঘ। 

গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক রাজদেও কৈরী ও যুগ্ম-আহবায়ক শ্যামল অলমিক এই অভিযোগ করে চা-শ্রমিকদের কর্মবিরতিকালীন মজুরি ও রেশন প্রদানের দাবি জানান। 

নেতারা বলেন, দীর্ঘ ১৯ দিন লাগাতার কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ, রাজপথ-রেলপথ অবরোধের মতো কঠিন সংগ্রামের পর প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণের পর ২৯ আগস্ট থেকে সারাদেশের চা-শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেন। 

বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে ৩শ টাকা মজুরি পেলেও তো সেটা সম্ভব না। তারপরও শ্রমিকরা ১৭০ টাকা মজুরিতে বাধ্য হয়েই কাজে যোগদান করেন কিন্তু এখন শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও রেশন প্রদান করা হচ্ছে না। 

নেতারা বলেন, প্রতিবার নির্ধারিত সময়ের পর শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করে স্থায়ী শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি এরিয়ার হিসেবে প্রদান করা হলেও প্রায় ৩০ হাজার ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের এরিয়ার (জনপ্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা) টাকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা সাধারণত চা-উৎপাদনের মৌসুমে ৪/৫ মাস কাজ স্থায়ী শ্রমিকের সমান কাজ করেন।

কিন্তু মালিকপক্ষ ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের রেশন,আবাসন,চিকিৎসা ইত্যাদি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন। যেহেতু মালিকদের টালবাহনা ও সময়ক্ষেপণের কৌশলের কারণে নির্ধারিত সময়ের পর (প্রায় ২০ মাস) মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে তাই ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের এরিয়ার টাকা পরিশোধ করতে হবে। 

নেতারা ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের এরিয়ার টাকাসহ রেশন,আবাসন, চিকিৎসা ইত্যাদি সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকাও যাতে যথাযথভাবে জমা হয় সে ব্যাপারে প্রফিডেন্ট ফান্ড অফিস ও শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তদারকি করার আহবান জানাান। 

একই সঙ্গে নেতারা আগামী জানুয়ারিতে নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য যাতে চা-শ্রমিকদের আবারও রাজপথে নামতে না হয় সে ব্যাপারে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

×