৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

জীবাণুনাশক ছিটানো হয়েছে পুরো ঢাকায়

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২০
  • ডিএমপির উদ্যোগ

গাফফার খান চৌধুরী ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে দেশের সকল বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা মহানগর পুলিশের তরফ থেকে জলকামান দিয়ে পুরো ঢাকায় জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হয়েছে। ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব থাকা পর্যন্ত পুরো ঢাকায় জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এমনকি পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায় ভাইরাসটির বিস্তার রোধে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও পাড়া-মহল্লাভিত্তিক বিভিন্ন ক্লাব। ঢাকার অলিতে গলিতে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের যানবাহনে, বাসা বাড়ির দরজা, জানালা, গেটে, রাস্তায় এমনকি ঢাকার অলিতে গলিতে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। মাইকিং করে শহরবাসীকে ঘরে থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে শত শত মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম নানা উদ্যোগ নেন। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে বিশেষ নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা মোতাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশের আটটি ক্রাইম জোনে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানোর নির্দেশনা দেন তিনি।

সেই নির্দেশনা মোতাবেক বুধবার সকাল দশটা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ তাদের জলকামান দিয়ে দুপুর বারোটা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকার প্রায় সকল রাস্তায় জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটায়। ডিএমপির রমনা, তেজগাঁও, লালবাগ, ওয়ারী, মিরপুর, গুলশান, উত্তরা ও মতিঝিল বিভাগ জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানোর কাজটি করে। রাস্তা ও ফুটপাত ছাড়াও সকল ধরনের যানবাহনেও জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হয়। দ্বিতীয় দফায় বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত একইভাবে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হয়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব না কমা পর্যন্ত পুরো ঢাকায় দুইবার জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম বহাল রাখার নির্দেশ জারি করেছেন ডিএমপি কমিশনার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক নগরবাসী তাদের গাড়িতে ওষুধ ছিটিয়ে দিতে পুলিশকে বলছেন। আবার পুলিশকে নগরবাসীর চাহিদার আগেই গাড়িতে স্প্রে করতে দেখা গেছে। মোটাদাগে বড় রাস্তা ও তার সংলগ্ন লিংক রোডগুলোতে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানোর কারণে নগরীতে ধুলা বালি একেবারেই কমে গেছে। পুলিশের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন নগরবাসী। তাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা বলছেন, নাকে মুখে ধুলা বালি প্রবেশ করলে সাধারণত সর্দি ও হাঁচি কাশি বেশি হয়ে থাকে। আর করোনাভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণের অন্যতম এই সর্দি, হাঁচি-কাশি। রাস্তায় ধুলো বালি কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই সর্দি, হাঁচি-কাশি কমে যাবে। এতে করে সর্দি, হাঁচি কাশি হলেই যাদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল, তা কমে যাবে। অনেক নগরবাসীই বলছেন, পুলিশ সত্যিকারের জনবান্ধব বাহিনীর মতো কাজ করছে। এভাবে টানা জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হলে এবং নগরবাসী যদি ঘরে থাকেন তাহলে করোনাভাইরাস ঢাকায় মহামারী আকার ধারণ করতে পারবে না। এছাড়া অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী যেভাবে ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। নগরবাসীর দাবি, কিছুটা দেরিতে হলেও সরকার ভাল উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনা মোতাবেক ঢাকার রাস্তায় টহল দিচ্ছে পুলিশ। অযাচিত বা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার বাইরে যেসব দোকানপাট বিশেষ করে চায়ের দোকানগুলো বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। কারণ কোন দোকানের একটি চায়ের কাপ অনেকজনের চা পানের জন্য ব্যবহৃত হয়। যা করোনাভাইরাস বিস্তারের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া পুলিশ অহেতুক অনেক মানুষকে কোথাও একত্রিত হতে দিচ্ছে না। বিশেষ করে দোকানপাটে বা আড্ডার জন্য। যদিও সাধারণ ছুটির পর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ টার্মিনালে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে অধিকাংশ বাসগুলো ছাড়ার আগে তার ভেতরে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া যাত্রীদের হাতেও জীবাণুনাশক ও মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মিরপুর-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম সফিউল আজম জনকণ্ঠকে জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ঘনবসতিপূর্ণস্থান ও যেখানে বেশি লোকের সমাগম হয়, সেসব স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি বাস টার্মিনালে ইতোমধ্যেই হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায় মাইকিং করে নগরবাসীকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। দৃশ্যমান বিভিন্ন জায়গায় লিফলেট সেঁটে দেয়া হয়েছে। বস্তি ও উর্দুভাষী অবাঙালীদের ক্যাম্পগুলোতেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব জায়গায় মশার ওষুধ ছিটানো, করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক নানা নির্দেশনা লেখা লিফলেট বিতরণ, হ্যান্ডমাইক দিয়ে বস্তিবাসীদের ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সচেতন করার কাজ চলছে। বাইর থেকে আসার পর সাবান দিয়ে ভাল করে হাত ধোয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও পাড়া মহল্লার ক্লাবগুলোর তরফ থেকেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যারমধ্যে রাস্তার মোড়ে মোড়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়িগুলোর গেটসহ বিভিন্ন জায়গায জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে কল্যাণপুরের অধিকাংশ রাস্তায় স্থানীয় অগ্রদূত ক্লাবের তরফ থেকে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২০

২৬/০৩/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



শীর্ষ সংবাদ: