৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

পঙ্গপাল নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
 পঙ্গপাল নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ
  • ঝুঁকি বেশি আগামী বছর

কাওসার রহমান ॥ কৃষির ভয়ঙ্কর পতঙ্গ পঙ্গপাল নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ। আফ্রিকার কয়েকটি দেশের পর পাকিস্তান ও সর্বশেষ ভারতে আক্রমণ চালানোর পর বাংলাদেশেও পঙ্গপালের আক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে একই ঝুঁকি এ বছরের চেয়ে আগামী বছর বেশি। সে লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে কৃষি দফতর। জাতিসংঘের ফুড এ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের (এফএও) পক্ষ থেকেও কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে পঙ্গপালের আক্রমণ সস্পর্কে সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা ৩০টি দেশে এই পঙ্গপাল ছড়িয়ে পড়তে পারে। জাতিসংঘের তরফ থেকে এই সতর্কতামূলক চিঠি পাওয়ার পর কৃষি মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য দেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরকে নির্দেশনা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকারের নির্দেশনা পেয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তারা পঙ্গপালের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। সেই সঙ্গে এই পতঙ্গটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে দেশব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে বিধায় এখনই মাঠ পর্যায়ে কোন সতর্কতা জারি করেনি। বরং পঙ্গপালের অবস্থান ও গতির প্রতি নজর রাখছে।

অন্যদিকে, পঙ্গপালের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকানোর জন্য জাতিসংঘের ফুড এ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেহেতু এই পতঙ্গের ঝাঁক মরু এলাকা থেকে এসেছে, কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তারা মনে করেন, বাংলাদেশে আক্রমণ হলে দেশের শুষ্ক ও খরাপ্রবণ এলাকায় সে ঝুঁকি বেশি থাকবে। সেটি মাথায় রেখেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

গত বছরের শেষ দিক থেকে আফ্রিকার ইথিওপিয়া, কেনিয়া ও সোমালিয়াসহ কয়েকটি দেশে আক্রমণ চালিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে পঙ্গপাল। এ বছরের শুরুতে পাকিস্তানে পঙ্গপালের আক্রমণে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায়। পঙ্গপালের হানায় এরইমধ্যে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। সাত শ’ ত্রিশ কোটি রুপী বা ৪০০ কোটি টাকার একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইমরান খানের সরকার। এর আগে ২০১৯ সালের মার্চ মাসেও পাকিস্তানে পঙ্গপালের আক্রমণ হয়েছিল। সে সময় সিন্ধু, দক্ষিণ পাঞ্জাব এবং খাইবার পাখতুনখাওয়াতে ৯০ লাখ হেক্টর জমিতে পঙ্গপালের আক্রমণ ছাড়িয়ে পড়েছিল। এতে কোটি কোটি টাকার সফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সর্বশেষ ভারতের পাঞ্জাবেও ঢুকে পড়েছে পতঙ্গরা। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মধ্যদিয়েই ভারতের পাঞ্জাবেও ঢুকে পড়েছে পঙ্গপাল। যার ব্যাপ্তি ছিল তিন কিলোমিটার। এমন খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। পাঞ্জাব থেকে পঙ্গপাল এখন উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্য পর্যন্ত চলে এসেছে। সে প্রেক্ষাপটে পাঞ্জাবের আশপাশের কয়েকটি রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সংস্থা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্লান্ট প্রোটেকশন ইউংয়ের পরিচালক ছাব্বির ইবনে জাহান বলেন, পঙ্গপাল এখন আমাদের দেশ থেকে অনেক দূরে আছে। আর আমাদের আবহাওয়াও পঙ্গপালের বংশ বিস্তারের জন্য উপযোগী নয়। ফলে এই পতঙ্গ নিয়ে আমাদের ভয়ের কিছু নেই। তবে পশ্চিমবঙ্গে চলে এলে আমাদের চিন্তার কারণ আছে। এখনও এটি ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যে আছে। তাই এটি নিয়ে এখনই আমরা দুশ্চিন্তা করছি না। তবে আমরা এটি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। যদিও এই পতঙ্গ দমনে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে গত ৫৫ বছরে পঙ্গপালের কোন আক্রমণ হয়নি। ফলে পঙ্গপাল সম্পর্কে আমাদের ধারণা কম। বিভিন্ন সময়ে আমাদের কৃষিতে নতুন নতুন কীট-পতঙ্গের আক্রমণ হয়, সেগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেছি। এমনকি সর্বশেষ ভুট্টায় যে ফল আর্মি ওয়ার্ম নামে একটি পোকা আক্রমণ করে, সেটিও এখন পর্যন্ত আমাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। কিন্তু পঙ্গপাল সম্পর্কে আমাদের বাস্তব কোন ধারণা নেই। তাই আমরা এ পতঙ্গটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছি এবং এটি দমনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে পঙ্গপালের আক্রমণ সংক্রান্ত সতর্কতা এবং প্রস্তুতি রাখার জন্য আমাদের জানানো হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা পাকিস্তান ও ভারতের পর বাংলাদেশেও আসতে পারে এই পঙ্গপাল। তবে আমরা যতটা বুঝতে পারি এ বছরে তেমন ঝুঁকি নাই, কিন্তু আগামী বছরের জন্য আমাদের সতর্ক হতে হবে।

এর কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করছেন, যেহেতু পঙ্গপালের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বাতাসের উষ্ণতার গতি অনুযায়ী এরা চলাফেরা করে এবং এক জায়গার খাবার ফুরালেই নতুন জায়গার খোঁজ করে তারা, সে কারণে কৃষি অধিদফতরের আশঙ্কা বাংলাদেশেও আক্রমণ হতে পারে পঙ্গপালের। তাই পঙ্গপালের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকানোর জন্য জাতিসংঘের ফুড এ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন ফাওয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন তারা।

যেহেতু এই পতঙ্গের ঝাঁক মরু এলাকা থেকে এসেছে, কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তারা মনে করেন বাংলাদেশে আক্রমণ হলে দেশের শুষ্ক ও খরাপ্রবণ এলাকায় সে ঝুঁকি বেশি থাকবে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের দেশে পঙ্গপালের আক্রমণের কোন সম্ভাবনা নেই। এই পতঙ্গ শুষ্ক আবহাওয়া পছন্দ করে। আমাদের আবহাওয়া আর্দ্র ও শুল্ক। এই শুল্ক ও আর্দ্র আবহাওয়া কখনই পঙ্গপাল পছন্দ করে না। ফলে আমাদের দেশে এই পতঙ্গ আসার কোন সম্ভাবনা নেই।’

তিনি বলেন, ‘তারপরও আমরা ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি রাখছি। আমাদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরকে সতর্ক থাকতে বলেছি। তবে আমাদের জন্য এই পতঙ্গ নিয়ে ভয়ের কোন কারণ নেই।’

মোঃ নাসিরুজ্জামান বলেন, এই পতঙ্গ একদিকে খায় অন্যদিকে বংশবিস্তার করে। আর বংশবিস্তারের জন্য বালুময় আবহাওয়া দরকার। সেই আবহাওয়া বাংলাদেশে নেই। তাই আমাদের ভয়ের কিছু নেই।

পঙ্গপাল কী এবং কেন বাড়ছে?

বিভিন্ন দেশের কৃষি বিভাগ এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের কাছে ইংরেজী লোকাস্ট নামে পরিচিত এই পঙ্গপাল। বাংলায় এর নাম পতঙ্গ, এটি এক জাতের ঘাস ফড়িং। স্বভাবে কিছুটা লাজুক প্রকৃতির ইঞ্চি খানেক দৈর্ঘ্যরে এই পতঙ্গ, খাবারের জন্য নিজ প্রজাতির বিপুলসংখ্যক সদস্যের সঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ায়। সাধারণত একেক ঝাঁকে কয়েক লাখ থেকে এক হাজার কোটি পতঙ্গ থাকতে পারে। তখন একে পঙ্গপাল বলে।

এদের অবস্থান মরুভূমিতে। মরুর এই পতঙ্গের সাধারণত শুষ্ক অঞ্চলে দেখা যায়। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য আর দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে এদের বসবাস। এসব অঞ্চলে বছরে বৃষ্টিপাত হয় আট ইঞ্চিরও কম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন শুল্ক আবহাওয়ার দেশগুলোতেও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণেই এদের বংশবিস্তার ঘটছে। গত বছরের (২০১৯) অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘হর্ন অব আফ্রিকার’ দেশগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০০ ভাগ পর্যন্ত বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আফ্রিকার মরু অঞ্চলে এমন অস্বাভাবিক বৃষ্টি পঙ্গপালের বংশবিস্তারের জন্য সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যার কারণে দ্রুত এদের বংশবিস্তার হচ্ছে।

কেন বিপজ্জনক?

এসব মরু পতঙ্গ প্রতিদিন তাদের নিজেদের ওজনের সমপরিমাণ খাবার খেতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশেষজ্ঞের মতে, ম্যানহাটনের আকৃতির পঙ্গপালের একটি ঝড় গোটা নিউইয়র্কের জনসংখ্যার প্রয়োজনীয় খাবার সাবাড় করতে পারে। প্রতি কিলোমিটারে ঝাঁকে চার থেকে আট কোটি পতঙ্গ থাকে।

পঙ্গপাল যখন ফসলের ক্ষেতে আক্রমণ করে, তখন তা একজন কৃষকের জন্য রীতিমত দুঃস্বপ্নের বিষয় হয়ে ওঠে। একটি পূর্ণ বয়স্ক পঙ্গপাল প্রতিদিন তার ওজনের সমপরিমাণ খাদ্য খেতে পারে। যে অঞ্চলে তারা আক্রমণ করে, সেখানে খাদ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা অন্য অঞ্চলে যায় না।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, একা থাকলে পতঙ্গ বেশ নিরীহ প্রাণী, কিন্তু দলবদ্ধ অবস্থায় এরা হয়ে ওঠে বিধ্বংসী। জাতিসংঘের ফুড এ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন ফাও বলছে, এক বর্গকিলোমিটার আকারের পঙ্গপাল এক সঙ্গে দিনে যে খাবার খায় তা দিয়ে ৩৫ হাজার মানুষকে এক বছর খাওয়ানো সম্ভব। একটি বড় পঙ্গপাল দিনে ১২০ মাইল পর্যন্ত জমির ফসল খেয়ে ফেলতে পারে। কেবল খাবারই খায় না তারা, একই সঙ্গে প্রজননের কাজটিও করে।

গত বছরের শেষ দিকে আফ্রিকার সোমালিয়া, ইথিওপিয়া এবং কেনিয়াসহ কয়েকটি দেশে কৃষি ক্ষেতে আক্রমণ চালাচ্ছে পঙ্গপাল, যে কারণে সেসব দেশের কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছন। তবে ওই অঞ্চলে পঙ্গপালের আক্রমণ নিয়মিত বিরতিতে হয়ে থাকে।

জাতিসংঘের হিসাবে পশ্চিম আফ্রিকায় ২০০৩-০৫ সাল পর্যন্ত সময়ে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের ফসলের ক্ষতি করে পঙ্গপাল।

জাতিসংঘের সতর্ক হবার আহ্বান

আফ্রিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য আর পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে মরু পতঙ্গরা। সব মিলিয়ে ৩০টি দেশে এই পঙ্গপাল ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছে জাতিসংঘ। যার কারণে দেখা দিতে পারে ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কট।

গত দশ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (ফাও) একটি নির্দেশনা জারি করেছে, যাতে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি কৃষি প্রধান দেশকে সতর্ক হবার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অর্থাৎ পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় বছর খানেক ধরে পঙ্গপালের ব্যাপক বংশবিস্তার হয়।

উগান্ডা, তাঞ্জানিয়া, সৌদি আরব, ইরিত্রিয়া এবং ইয়েমেনসহ কয়েকটি দেশে পঙ্গপাল হামলা চালাতে পারে বলে সাবধান করা হয়।

দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান এবং ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে, তবে ওই তালিকায় ভারত না থাকলেও ইতোমধ্যেই দেশটির পাঞ্জাবে আক্রমণ চালিয়েছে পতঙ্গের দল। ফলে বাংলাদেশের জন্য তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুগে যুগে পঙ্গপাল

বিভিন্ন সময়ে পঙ্গপাল ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। ১৮৭৫ সালে ১৮০০ মাইল দীর্ঘ আর ১১০ মাইল ব্যাপ্তির একটি পঙ্গপাল যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ ঢেকে দিয়েছিল। রকি পর্বতমালার এই পতঙ্গরা এখন বিলুপ্ত। বিশ শতকে বিশ্বে ১৩ বার পঙ্গপালের বিস্তার ঘটেছে। যার একটি ১৩ বছরব্যাপী ছিল। ১৯৫৪ সালে আফ্রিকা থেকে এসব পতঙ্গ ব্রিটেনেও ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৮৮ সালে তিন হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে পশ্চিম আফ্রিকা এমনকি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলেও পৌঁছে যায় এরা। তবে গত ৫৫ বছরের মধ্যে পঙ্গপালের আক্রমণ হয়নি বাংলাদেশে। ব্রিটিশ শাসনামলে এই অঞ্চলে একাধিকবার পঙ্গপালের আক্রমণ হয়েছে বলে শোনা যায়।

বিপদে আফ্রিকা

এরইমধ্যে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে কয়েক হাজার একর জমিতে হানা দিয়েছে পঙ্গপাল। জাতিসংঘের আশঙ্কা এদের ঠেকাতে না পারলে জুন নাগাদ তাদের জনসংখ্যা ৫০০ গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। পৌঁছাতে পারে ৩০টি দেশে। আর খারাপ পরিস্থিতিতে বিশ্বের ২০ ভাগ ভূমি খুব সহজেই আক্রান্ত হবে। ১০ ভাগের এক ভাগ মানুষের বেঁচে থাকার মতো খাবারের অভাব দেখা দিবে।

কেনিয়া, ইথিওপিয়া ও সোমালিয়া এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। কেনিয়ায় এমন একটি পঙ্গপাল দৈর্ঘ্যে ৩৭ মাইল আর প্রস্থে ২৫ মাইলের আকার নিয়েছে। যেখানে যাচ্ছে সেখানে রীতিমত সূর্যের আলো তারা ঢেকে ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশটি। অন্যদিকে ইথিওপিয়া ও সোমালিয়া ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সঙ্কটে পড়েছে পঙ্গপাল নিয়ে।

সেই সঙ্গে আফ্রিকার আরও ১৪টি দেশেও ছড়িয়েছে এই পতঙ্গরা। লোহিত সাগরের দুইপাড়েও সমান তালে বাড়ছে এদের আধিপত্য। সুদান, মিসরের উপকূল থেকে শুরু করে দক্ষিণ পশ্চিম সৌদি আরবেও চলছে বংশবিস্তার। ওমানের পূর্ব উপকূল থেকে শুরু করে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত অবধি এখন এই পতঙ্গদের বিস্তৃতি।

নিয়ন্ত্রণ কিভাবে?

পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণের সহজ কোন উপায় নেই। উড়োজাহাজে, গাড়িতে করে কিংবা বহনযোগ্য যন্ত্রের সাহায্যে কীটনাশক ছিটিয়ে সাধারণত এদের দমন করা হয়। সমস্যা হলো এতে উপকারী কীট পতঙ্গও মারা পড়ে। কীটনাশক ছাড়া বিকল্প উপায়ে পঙ্গপালের বংশবিস্তার কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্লান্ট প্রোটেকশন ইউংয়ের পরিচালক ছাব্বির ইবনে জাহান এ প্রসঙ্গে বলছেন, পঙ্গপালের উপদ্রব ঠেকাতে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। এরা বাতাসের সঙ্গে উড়ে আসে, আকাশ পথে উড়ে আসা কোন আক্রমণ থেকে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি রক্ষার কোন উপায় এখনও আমরা জানি না। তাছাড়া এরা কোন অঞ্চল লক্ষ্য করে যাত্রা শুরু করার পর সেটা থামিয়ে দেবার কোন পদ্ধতির কথাও আমরা জানি না।

তবে, পঙ্গপালের হাত থেকে বাঁচার জন্য বেশিরভাগ সময় উড়োজাহাজে, বা বহনযোগ্য যন্ত্রের সাহায্যে কীটনাশক ছিটিয়ে এদের দমন করা হয়। তবে এতে সমস্যা হলো উপকারী কীটপতঙ্গও মারা পড়ে, যে কারণে এটি জটিল একটি সিদ্ধান্ত।

প্রকাশিত : ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২৯/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: