৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

দেশে উগ্রবাদের ঝুঁকি ৬ ধাপ কমেছে

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • আইইপি প্রতিবেদন

শংকর কুমার দে ॥ বাংলাদেশে জনগণের সহযোগিতায় ক্রমান্বয়ে উগ্রবাদের ঝুঁকি কমেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় উগ্রবাদের ঝুঁকির দিক থেকে সূচকের সংখ্যায় অনেক এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশকেই পেছনে ফেলে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে আছে। বিশ্বের ১৬৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস এ্যান্ড পিস (আইইপি) বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক নিয়ে প্রতিবছর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের উগ্রবাদ ঝুঁকি কমার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ খবর জানা গেছে। পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গীবাদ বিরোধী অভিযান, উগ্র মৌলবাদের নেতিবাচকগুলোর বিরুদ্ধে প্রচারে বাংলাদেশের উগ্রবাদের ঝুঁকি কমে আসছে। বিশ্বজুড়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আইইপি মানুষের ভাল থাকা ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও অর্জনযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস এ্যান্ড পিস (আইইপি)। প্রতিবছর বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংগঠনটি। গত বছর আইইপি ২৩টি গুণগত ও পরিমাণগত নির্দেশকের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৬৩টি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি করে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৯। এসব দেশের জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ওই ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৩১তম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের স্কোর ৫ দশমিক ২০৮। অর্থাৎ এ দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব মাঝারি মাত্রার।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, কাজ করতে গিয়ে দেখেছি ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরাই উগ্রবাদে বেশি জড়িয়েছে। এ কারণে আমরা সারাদেশে পাড়া মহল্লায় সব জায়গায় পোস্টার ও বিলবোর্ড লাগিয়েছি। পরিবার, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। উগ্রবাদে জড়ানোর বিষয়টি প্রথম তাদের কাছেই ধরা পড়ে। ধর্মীয় বক্তাদের নিয়েও আমরা কাজ করছি। তবে ধর্মীয় বক্তারা ওয়াজ মাহফিলে নারী ও অন্যান্য ধর্মকে নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেন। সেটি যেন করতে না পারেন সেজন্য আমরা কাজ করছি। সেন্টার ফর সোশ্যাল এ্যাডভোকেসি এ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিসার্ফ) আয়োজিত উগ্রবাদ রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেছেন মনিরুল ইসলাম।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনা বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ খুলে দিয়েছে। জঙ্গীবাদ বিরোধী অভিযানের নক্সা নতুন করে সাজিয়েছে বাংলাদেশের পুলিশ। জঙ্গীবাদ বিরোধী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযান পরিচালনার জন্য কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২৮/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: