৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

উল্টো পথেই জামায়াত

প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০
উল্টো পথেই জামায়াত
  • শক্তিশালী হচ্ছে সংস্কারপন্থী বিদ্রোহীদের প্ল্যাটফর্ম
  • ‘জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ’ নামে দেশজুড়ে তৎপরতা
  • বিএনপিপন্থী নেতাকর্মী ও বুদ্ধিজীবীরাও যুক্ত হচ্ছেন এই প্ল্যাটফর্মে

বিভাষ বাড়ৈ ॥ অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সামাল দিতে কৌশলে একাত্তরের অপকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া ও সংস্কারের কথা জানান দিলেও শেষ পর্যন্ত সে পথে হাঁটছে না যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াত। বিদ্রোহী গ্রুপ শক্তিশালী হয়ে ওঠায় তড়িঘড়ি সংস্কারের নামে কমিটি করা হলেও তা ছিল কেবলই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ‘কৌশল’। তবে বসে নেই জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্ব ও কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সক্রিয় বিদ্রোহী ও সংস্কারপন্থীরা।বহিষ্কৃত ও পদত্যাগীদের নেতৃত্বে ‘জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ’ নামে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। প্রথমবারের মতো জামায়াতের বিদ্রোহীদের গঠন করা এ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন বিএনপিপন্থী নেতাকর্মী ও বুদ্ধিজীবীরাও।

জামায়াতের সংস্কার ও একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগকে ‘লোক দেখানো’ বলে অভিহিত করেছেন বিদ্রোহে শামিল হওয়া নেতাকর্মী ও তাদের পরামর্শকরা। তবে এবার অতীতের মতো সংস্কার দাবি হারিয়ে যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। ক্ষমা চাওয়া ও সংস্কার ইস্যুতে ‘সংস্কার বিরোধী বহিরাগত’ ব্যক্তিদের তৎপরতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নানসহ কিছু ব্যক্তির সংস্কার বিরোধী অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ বিদ্রোহীরা বলছেন, শাহ আবদুল হান্নান অনধিকার চর্চা করছেন। একই সঙ্গে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। তার মতো বহিরাগত কিছু ব্যক্তির কারণেই জামায়াত সঠিক পথে রাজনীতি করতে পারছে না, সংস্কারও হচ্ছে না।

ঘটনার শুরু গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরী সভায় সংস্কার ও একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। সভায় একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়, দল বিলুপ্ত করে সমাজসেবার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তও আসে সভায়। তবে বিষয়টি তখনও দলের মজলিশে শূরায় অনুমোদন পায়নি। দলটির নেতৃত্বের একটা অংশ এ ধরনের প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেয়। এই অংশ একাত্তরের ভুল স্বীকার করে বর্তমান নামে দলকে সচল রাখতে অথবা নতুন নামে দল গঠন করতে চায়।

৯ বছর আগে অনেকটা একই রকম প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াতের তখনকার সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। তিনি ২০১০ সালে গ্রেফতার হওয়ার কিছুদিন পর কারাগার থেকে দেয়া এক চিঠিতে প্রস্তাব করেছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন দায়িত্বশীলদের হাতে জামায়াতকে যেন ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি একাধিক বিকল্পের মধ্যে দল হিসেবে জামায়াতের নামও বাদ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

তবে মতিউর রহমান নিজামীর পরিবারসহ তখনকার জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাধার কারণে সেটা আর এগোয়নি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াত ও শিবিরের একটি অংশ নতুন করে ওই প্রস্তাব সামনে আনে।

ঠিক এমন অবস্থায় গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সংস্কার ও একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে নেতৃত্ব সাড়া না দেয়ার প্রতিবাদে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন লন্ডনে অবস্থানরত দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল প্রভাবশালী নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে দলের আমির মকবুল আহমদের কাছে আব্দুর রাজ্জাক তার পদত্যাগপত্র পেশ করেন।

দলটির এমন এক নেতার পদত্যাগে কিছুটা চাপের মধ্যে পড়েছিল শীর্ষ নেতৃত্ব। একটি অংশ তার পদত্যাগের পর নতুন করে সংগঠিত হয়ে চাপ তৈরি করে। এমন অবস্থার মধ্যেই সংস্কারের দাবি তোলায় বহিষ্কার করা হয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর মজলিসে শূরার অন্যতম সদস্য মজিবুর রহমান মঞ্জুকে। দুটি ঘটনার প্রভাব বুঝতে পেরে দলটির শীর্ষ নেতারা পরিস্থিতি সামাল দিতে সংস্কার ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে ‘কাজ হচ্ছে’ বলে প্রচার চালাতে থাকেন। দলের মধ্যে অসন্তোষ সামাল দিতে একটি কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছিল।

কিন্তু এরই মধ্যে জামায়াতকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী দল’ উল্লেখ করে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ি ইউনিয়নের দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগের খবরে ‘ভুল’ ভেঙেছে বলে জানান তিনি। সেই ভুল শোধরাতেই জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন বখতিয়ার উদ্দিন। এমন অবস্থায় সংস্কার ও ক্ষমা চাওয়ার ইস্যুটি মুখ্য হয়ে সামনে আসতে থাকলেও হঠাৎই নীরব হয়ে যান জামায়াত নেতারা। সংস্কার বিরোধী অবস্থান নিয়ে জামায়াত ঘরানার সাবেক সচিব শাহ আব্দুল হান্নানের কর্মকা- নিয়ে নতুন করে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে দুই পক্ষ।

সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার দলটির মসলিশে শূরার এক সদস্য জনকণ্ঠকে বলেছেন, একটি কমিটি গঠন করে সংস্কারপন্থীদের শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। সংস্কার হচ্ছে না। ক্ষমাও চাচ্ছে না জামায়াত। সে ধরনের কোন উদ্যোগ এখন সক্রিয় নেই। কমিটি গঠন করা হলেও জামায়াতের প্রধান পরামর্শকরাও সংস্কার বা ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে নেই।

তবে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও তাদের পরামর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্ব ও কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সক্রিয় বিদ্রোহী ও সংস্কারপন্থীরা ‘জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ’ নামে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এমন ঘটনা জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাসে কখনও দেখা যায়নি। গত বছরের ২৭ এপ্রিল যাত্রা শুরু হয়েছিল জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ নামে নতুন এ রাজনৈতিক উদ্যোগের। এখন পর্যন্ত যতটুকু জানা যাচ্ছে, এই উদ্যোগের মূলে আছেন জামায়াতের পদত্যাগী প্রভাবশালী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।

রাজ্জাকের উদ্যোগকে সমর্থন দিচ্ছেন শিবিরের প্রতিষ্ঠাকালীন সেক্রেটারি ইংল্যান্ডে বসবাসকারী ড. আব্দুল বারী, ফরিদ আহমদ রেজাসহ বেশ কয়েক সাবেক প্রভাবশালী নেতা। দেশে এই প্ল্যাটফরমের মূল নেতৃত্ব দিচ্ছেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য ও স্যাটেলাইট চ্যানেল দিগন্ত টেলিভিশনের উপনির্বাহী পরিচালক মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জামায়াত ঘরানার আলোচিত আইনজীবী তাজুল ইসলাম।

সম্প্রতি এই উদ্যোগে জামায়াতের সর্বোচ্চ কেন্দ্রীয় পর্ষদ মজলিশে শূরা থেকে পদত্যাগ করে যুক্ত হয়েছেন সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী। এছাড়াও ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকজন আলোচিত জামায়াত ও শিবিরের সাবেক নেতা যুক্ত হয়েছেন এই প্রক্রিয়ায়।

এছাড়া ইতোমধ্যেই যুক্ত হয়েছেন জামায়াতের চিকিৎসকদের সংগঠন এনডিএফের সাবেক সেক্রেটারি অধ্যাপক ডাঃ মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জুবায়ের আহমদ, চট্টগ্রাম মহানগর শিবিরের সাবেক সভাপতি শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম ফারুক, সীতাকুন্ড উপজেলার সাবেক নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা নূর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এনায়েত উল্লাহ পাটোয়ারী, কক্সবাজারের আলোচিত জামায়াত নেতা জাহাঙ্গীর কাসেম, এ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক খান কায়সার, কক্সবাজার কলেজের সাবেক জিএস এনামুল হক শিকদার, কক্সবাজার কলেজের সাবেক ভিপি সৈয়দ করিম।

আরও আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম, শিবিরের সাবেক ঢাকা মহানগর সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, জামায়াতের ঢাকা মহানগরের সাবেক শূরা সদস্য ও তেজগাঁও থানা আমির সালাউদ্দিন আহমদ, জগন্নাথ বিশ্বিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল্লাহ আল মামুন।

আছেন জামায়াতের শ্রমিক উইং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা তানভীর আহমদ, লালমনিরহাট ১ আসন থেকে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী প্রভাবশালী জামায়াত নেতা এরশাদ হোসেন সাজু, হাতিবান্ধা উপজেলার সাবেক নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মাস্টার, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সাবেক নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত মারজান, রংপুর মহানগর জামায়াতের সাবেক নেতা এ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ, খুলনা মহানগরের সাবেক শিবির নেতা তানজিল আহমেদ, আক্তারুজ্জামান, সিলেট মহানগরের সাবেক শিবির নেতা ওমর ফারুক, নাজমূল হুদা অপু, এ্যাডভোকেট আবু লায়েছ, রাজশাহী অঞ্চলের সাবেক জামায়াত নেতা দুরুল হুদা মারুফ, নাটোর জেলা শিবিরের সাবেক নেতা আনোয়ার সাদাত টুটুল, নওগাঁ জেলা সাবেক শিবির সভাপতি আইনুল হকসহ অনেকেই।

বিএনপিসহ অন্যান্য দল থেকেও অনেকে যুক্ত হচ্ছেন এ উদ্যোগে। ইতোমধ্যেই যুক্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক, জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সাবেক কেন্দ্রীয় সংগঠক সাবেক জাসদ নেতা আনিসুর রহমান কচি, ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, খুলনা মহানগর বিএনপির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহমান মনির, যুব কমান্ডের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা খালিদ হাসান, জাগপার সাবেক নেতা আব্দুল হালিম নান্নুসহ অনেকে। উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন বিএনপির বুদ্ধিজীবীরাও। আছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক প্রফেসর দিলারা চৌধুরীর মতো বিএনপি পন্থী বুদ্ধিজীরাও। আরও আছেন সাবেক জাসদ নেতা লেখক ও কলামিস্ট গৌতম দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাইমুল আহসান খান, সুপ্রীমকোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ইকতেদার আহমেদসহ বেশ কিছু বুদ্ধিজীবী।

কিন্তু এ সংগঠনের অগ্রগতি কতদূর? জানা গেছে, নতুন দলের সম্ভাব্য নাম, প্রস্তাবিত কর্মসূচী, খসড়া ইশতেহার, খসড়া গঠনতন্ত্র তৈরি হয়েছে। যাচাই-বাছাই চলছে। আগামী মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন দলের নাম কর্মসূচী ও পরিকল্পনা ঘোষণা করা হতে পারে। ঘোষণা করা হতে পারে একটি আহবায়ক কমিটিও। লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই অন্তত ৩০টি জেলায় এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগে ও ৩০ টি জেলায় মতবিনিময় ও কর্মশালা করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম জেলা উত্তর- দক্ষিণ, খুলনা মহানগর, খুলনা জেলা, রংপুর মহানগর, রংপুর জেলা, সিলেট মহানগর, সিলেট জেলা, বরিশাল জেলা, ময়মনসিংহ জেলা, কক্সবাজার জেলা, ফেনী জেলা, লক্ষীপুর জেলা, চাঁদপুর জেলা, গাজীপুর জেলা, কুড়িগ্রাম জেলা, গাইবান্ধা জেলা, লালমনিরহাট জেলা, নাটোর জেলা, নওগাঁ, পাবনা জেলা, বাগেরহাট জেলা, যশোর জেলা, সাতক্ষীরা জেলা, সুনামগঞ্জ জেলা, হবিগঞ্জ জেলা, মৌলভীবাজার জেলাসহ ৩০টি জেলায় এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা ও জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা মজিবুর রহমান মঞ্জু বলছিলেন, জামায়াতের বিলম্বিত সংস্কার এবং নতুন দল গঠনের যে উদ্যোগ তাকে আমি স্বাগত জানাই। সময় অনেক গড়িয়ে গেছে। তার পরও জামায়াত যদি এটা করে তাহলে তাদের লাভ-ক্ষতি কী হবে জানি না। তবে আমরা যে কথা এতদিন বলে এসেছিলাম তার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করি।

সাবেক এ জামায়াত নেতা আরও বলেন, জামায়াত নিজেই বলেছে ’৭১ সালে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, এখন তারা স্বাধীনতাকে মেনে নিয়েছে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তারা এখন প্রতিবছর দোয়া করছে, শুনলাম স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী তারা সেলিব্রেট করবে। এই স্বাধীন বাংলাদেশে তারা ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে সরকার গঠন করতে চায়। জামায়াত তো অফিসিয়ালি বলছে না যে এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে ভুল হয়েছে। তাহলে ’৭১ এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা যে তাদের ভুল হয়েছে তার জন্য ক্ষমা চাইতে সমস্যা কোথায়? রাজনীতিতে ভুল তো হতেই পারে। এই যৌক্তিক কথা বলার জন্য আমি বহিষ্কৃত হয়েছি। তাই আমার কোন আফসোস নেই।

প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২২/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: