১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

মাদক, জঙ্গী, দুর্নীতিতে জড়িতদের ত্যাগ করতে হবে

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০২০
  • মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সম্মেলনে সালমান রহমান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারী বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, আমাদের হিউম্যান রাইটস, আমাদের অধিকার আদায় করার জন্যে এ দেশটা বঙ্গবন্ধু স্বাধীন করেছিলেন। আমাদের বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। আপনারা জানেন যে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স মাদক, জঙ্গীবাদী এবং দুর্নীতির ওপরে। এখানে যারা জঙ্গী ও মাদকের সঙ্গে আছে, যারা সন্ত্রাসী এদের আমাদের ত্যাগ করতে হবে। তারা এই সমাজের মধ্যেই আছে, আমাদেরই আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব প্রতিবেশী। আপনারা যেহেতু ফিল্ডে আছেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করব মাদক জঙ্গী আর দুর্নীতি এই তিনটা জিনিসের বিরোধিতা করার জন্যে যা যা করার তা করবেন। এগুলোর বিরুদ্ধে আপনারা প্রচার করবেন। শনিবার সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার ১৫তম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেছেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার সিগমা হুদা।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। সম্মেলনে জেলা ও উপজেলা থেকে ৩৬০ শাখা থেকে প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ব্যারিস্টার নামজুল হুদা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবাধিকার ভবন নামে করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিটা উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের হাতে তুলে দেন। উল্লেখ্য মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ২০তলা ভবনের কাজ শুরুর জন্যে সেটি কমিটিতে অনুমোদন করা হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, আপনারা আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন, আমি দেখেছি আপনারা সবাই একটি জিনিস চাচ্ছেন, মানবাধিকার ভবনটি হোক। আর আপনারা বলেছেন সেটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবাধিকার ভবন নামে আপনারা করতে চান। এটা আমি আপনাদের এতটুকু কথা দিতে পারি এই চিঠিটা আমি আপনাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেব। আমি এটা করব। তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ও অভিবাদন ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনারা যে কাজটি করছেন এ কাজটি কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের পরিচয় হয়Ñ সে দেশের মানবাধিকার কত ভালভাবে আছে। আপনারা জানেন যে কিছু দিন আগে ডাবোর্সে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম হয়েছে। গতকাল সেখানে আন্তর্জাতিক বিনিযোগকারী সে ডাবোর্সে বক্তৃতাতে বলেছেন যদিও পৃথিবীতে আমেরিকা ও চায়না সবচেয়ে বড় ইকনোমি শক্তি। কিন্তু তিনি বলেছেন এ দুটি দেশে যেভাবে শাসন হচ্ছে, পৃথিবীতে তাতে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেছেন, এ দুটি দেশে হিউম্যান রাইটস নেই। হিউম্যান রাইটস যে ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা দরকার তা হচ্ছে না। আসলে আমাদের বাংলাদেশে ইতিহাসটা কি? বাংলাদেশের ইতিহাসটা হলো যে, আমাদের জাতির পিতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাকে স্মরণ করছি আজকে। তিনি দেশটাকে যখন স্বাধীন বাংলাদেশের কথা চিন্তা করেছেন, তিনি কি ভাবে চিন্তা করেছিলেন। পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছে কিন্তু পাকিস্তানের যারা সরকার, বাঙালী যারা আছেন তাদের কিন্তু মানবাধিকারটা দিচ্ছে না।

কিছু দিন আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়েছিলাম, সেখানে আমি স্টেট ডিপার্টমেন্টে এ্যাসিটেন্ট সেক্রেটারির সঙ্গে দেখা করেছিলাম। কথায় কথায় ওখানে বললাম যে, ১৯৭৫ পরে যখন বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার পর যে সরকারগুলো ক্ষমতায় এসেছে, তারা বলতে চাচ্ছিল বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে বাই এ্যাক্সিডেন্ট। একাত্তরের ভুট্টো সাহেব ’৭০-এর নির্বাচনের পরে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী করে দিতেন, তালে হয়তো বাংলাদেশ হতো না এবং এটা একটি এক্সিডেন্ট, ভুট্টো করল না তার জন্যে ভারত সুযোগ পেয়ে গেল এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেল। আমি ওয়াশিংটনে এ্যাসিট্যান্ট সেক্রেটারিকে বললাম আমরা বংলাদেশের রাজনীতি সমন্বন্ধে কথা বলছি না। তুমি এ দেশে সিক্রেট ডকুমেন্টস যে কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবলিশড করেছেন, তুমি ওটা পড়েছ কিনা। নিশ্চই আপনারা ওটা কিনেছেন বা পড়েছেন। যারা পড়েন নাই আমি আপনাদের অনুরোধ করব, এ বইটা পড়েন। এই বইটা হলো কি যে পাকিস্তানের স্পেশাল ব্রাঞ্চ বঙ্গবন্ধুকে ১৯৪৮ থেকে ফলো করত এবং বঙ্গবন্ধুকে ফলো করে কোথায় যাচ্ছেন, কি করছেন কোন মিটিং করেছেন, কি বলছেন সেটা সম্বন্ধে পাকিস্তানের স্পেশাল ব্রাঞ্চ রিপোর্ট করত। সেই রিপোর্টটা যারা করেছে সেই কাগজগুলো প্রধানমন্ত্রী স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে বের করে সেটাকে আমরা পাবলিশড করেছি। ৪৮ থেকে ৭০ পর্যন্ত। যেটা ১৪টা ভলিউম হবে। প্রায় তিনটা পাবলিশড হয়েছে আরও তিনটা হবে। শীঘ্র পর্যায়ক্রমে ১৪টি ভলিউম প্রিন্ট হবে। এটা করলে আপনারা বুঝবেন, আমরা এ কথা বলছি না, পাকিস্তানের যে স্পেশাল ব্রাঞ্চ তারা বলছে বঙ্গবন্ধু কিভাবে বাঙালী জাতির মানবাধিকারের জন্যে ফাইট করেছেন। কার সঙ্গে কোন কথাটা বলেছেন, কোথায় কোন মিটিংটা করেছেন, সেগুলোর রেকর্ড তারা দিয়েছে।

আমার কথাটা হচ্ছে, আমাদের দেশ বাংলাদেশ স্বাধীনই হয়েছে হিউম্যান রাইটসের মাধ্যমে। যেহেতু আমাদের হিউম্যান রাইটসটা ভায়োলেট ছিল, আমাদের হিউম্যান রাইটস, আমাদের অধিকার আদায় করার জন্যে এ দেশটা বঙ্গবন্ধু স্বাধীন করেছিলেন। আমরা আজকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কোথায় এগিয়ে এসেছি এগুলো আপনারা সবাই জানেন। উন্নয়নের রোল মোডেল। কিছু দিন আগে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বলল যে, এশিয়া প্যাসিফিক রিজনে বাংলাদেশের সব থেকে হাইট গ্রোথ হয়েছে ৮ ভাগের ওপরে। কিন্তু তার থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কথা যে, দু সপ্তাহ আগে আন্তর্জাতিক একটি ব্যাংক তারা বলেছে, তারা পৃথিবীর ৭৫টি দেশের মডেলিং করেছে। ২০৩৫ পর্যন্ত এই ৭৫টি দেশ মডেলিং করে কোন দেশ কিভাবে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার হবে। সেই মডেলিংয়ে তারা দেখিয়েছে যে, হোল ওয়ার্ল্ডে ২০৩৫-এ সব থেকে বেশি গ্রোথ হবে বাংলাদেশে। ইকোনমিতে আমাদের গ্রোথ

আপনার জানেন যে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স মাদক, জঙ্গীবাদী এবং দুর্নীতির ওপরে। এখন প্রত্যেকটি দেশে আজকাল যে সমস্যটা হয়েছে, একদিকে আপনি হিউম্যান রাইটসের কথা বলছেন, কিন্তু যে জঙ্গীবাদীতে যারা জড়িত আছে যারা মাদকের সঙ্গে জাড়িত আছে, তারা কি আসলে আমাদের মানবাধিকারটা তার সঙ্গে খেলছেন না। এখন আপনারা দেখেন মাদকের কারণে সাউথ আমরিকাতে যা হচ্ছে তার কারণে আপনার হোল নর্থ আমেরিকাতে যে ড্রাগ ট্রেন্থ হচ্ছে। শুধু নর্থ আমেরিকা নয় হোল ওয়ার্ল্ডে ড্রাগের কারণে সমাজের কত ক্ষতি হচ্ছে।

এখানে আমাদের যারা জঙ্গী যারা মাদকের সঙ্গে আছেন যারা সন্ত্রাসী এদের আমাদের ত্যাগ করতে হবে। আপনারা সমাজের সঙ্গে কাজ করছেন, আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব আপনারা সমাজের কিন্তু। যে কথাটা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা যদি নিজে সতর্ক হয়ে যাই যারা জঙ্গীবাদীতে আছে কারা আছে আমরা জানি। তারা এই সমাজের মধ্যেই আছে, আমাদেরই আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব প্রতিবেশী। আপনারা যেহেতু ফিল্ডে আছেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করব এই তিনটা জিনিসের বিরোধিতা করার জন্যে যা যা করার তা করবেন। মাদক জঙ্গীবাদী এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনারা প্রচার করবেন।

বর্তমানে পৃথিবীতে যা হচ্ছে এবং ইতিহাসে যা হয়েছে, যদি মানবাধিকারের কথা বলতে হয়, তা হলে প্রধানমন্ত্রী থেকে বড় মানববন্ধু আর নেই। রোহিঙ্গাদের আমরা যে আশ্রয় দিয়েছি আপনারা দেখেছেন, কিভাবে ইতালি স্পেন তাদের সীমানা থেকে রিফিউজিদের ঢুকতে দেয়নি। ঠিক তেমনি আমেরিকা কিভাবে আপনার মেক্সিকো গুয়েতেমালা ভেনিজুয়েলা ওখান থেকে যে রিফিউজিরা আসছে তাদের সঙ্গে কি ব্যবহার করছে। ১০ হাজার ২০ হাজার রিফিউজি নিয়ে তাদের এতো মাথাব্যথা। আর আমরা তো এখানে ১০ লাখ রিফিউজি আশ্রয় দিয়েছি। যার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে মাদার অব হিউম্যানিটি উপাধি দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় ব্যারিস্টার সিগমা হুদা উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি আমাদের এ রকমই সহযোগিতা করছেন। যাতে করে এখানে ২০তলা ভবন হয়। আমরা জানি আপনি পারবেন। সম্মেলনে আরও বক্তৃতা করেন তারেক হায়দার, এ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন, রুকসানা আক্তার লিপি, অধ্যক্ষ ড. মোঃ সানাউল্লাহ, আতাউর রহমান আজাদ, আকরাম আল সাহাম, শফি কামাল প্রমুখ।

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০২০

২৬/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: