২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

খুলনায় ৬শ’ মে ও বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

রশিদ মামুন ॥ দেশের একটি তেল বিপণন কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবার খুলনাতে একটি ৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। যৌথ উদ্যোগে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কেন্দ্রটি নির্মাণে তারা সম্প্রতি বিদ্যুত বিভাগের অনুমতি চেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন কোম্পানির কাছে অলস অর্থ পড়ে থাকলেও তা বিনিয়োগ হয় না। এর বিপরীতে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশে বিনিয়োগের নতুন ধারা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যান মোঃ সামছুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, খুলনাতে আমরা একটি বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করেছি। এই জমিটি দখলে রাখার জন্য আমাদের ওখানে কোন না কোন অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। আমরা শুরুতে ভেবেছিলাম ওখানে ডিপো করব। কিন্তু ওখানে নাব্য সঙ্কটের কারণে ডিপো করা সম্ভব নয়। এজন্য বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিপিসির পরিচালনা পর্ষদে বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে। এখন আমরা বিদ্যুত বিভাগের কাছে সম্ভাব্যতা জরিপ চালানোর জন্য অনুমতি চেয়েছি। বিদ্যুত বিভাগ অনুমোদন দিলে মেঘনা পেট্রোলিয়াম যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে।

দেশের তেল ও গ্যাস বিপণন কোম্পানি ছাড়াও বিপিসি, পেট্রোবাংলা এবং পিডিবি প্রত্যেকের কাছে অলস টাকার পাহাড় জমেছে। এই টাকা বিনিয়োগ করে দেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। কিন্তু বিনিয়োগ করার বদলে এসব কোম্পানি টাকা ব্যাংকে এফডিআর করে রাখে। অন্যদিকে নতুন প্রকল্প করতে সরকার দেশের বাইরে বিনিয়োগ খোঁজে। এতে ঋণ প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন পিছিয়ে ব্যয় বৃদ্ধি পায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে যে চড়া সুদে ঋণ আনা হয় তার থেকে কম সুদে কোম্পানিগুলো তাদের অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত রাখছে বলেও দেখা গেছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় এক হিসাবে দেখিয়েছে দেশের বিদ্যুত জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সব থেকে বেশি অর্থ অলস পড়ে রয়েছে। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী এর পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে অলস পড়ে থাকা দুই লাখ কোটি টাকার মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যুত এবং জ্বালানিতেই পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে বিপিসির ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, পেট্রোবাংলার ১৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) কাছে ১৩ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা অলস পড়ে রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুত এবং জ্বালানি খাত উন্নয়নে যে অর্থের প্রয়োজন তার বেশিরভাগই এখান থেকে সংস্থান করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের অভাবকে দায়ী করছেন অনেকে। বলা হচ্ছে একই মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের মধ্যে নিজেদের অর্থ নিজস্ব প্রকল্পে ব্যয়ের কোন উদ্যোগ এতদিন গ্রহণ করা হয়নি। এর আগে একটি কোম্পানির কাজের জন্য অন্য কোম্পানি স্বল্প সুদে ঋণ দিলেও ফলপ্রসূ কোন কিছু হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সরকারী কোম্পানিগুলো ঝুঁকি নিতে ভয় পায়। অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেভাবে বেসরকারী খাতের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসেছে ঠিক সেইভাবে সরকারী খাত এগিয়ে আসে না। ফলে সরকারী কোম্পানি যে মুনাফা করে তার অধিকাংশই অলস পড়ে থাকে। দেশের তেল, গ্যাস এবং বিদ্যুত বিতরণের সব কোম্পানিই লাভ করে আসছে। তাহলে কেন সেই অর্থ বিনিয়োগের বাইরে থাকবে এমন প্রশ্ন উঠলেও কোন সমাধান হয় না। দেশের বিদ্যুত বিভাগের কোম্পানিগুলো কেন্দ্র নির্মাণে অর্থ বিনিয়োগ করলেও তেল ও গ্যাস বিপণন কোম্পানিগুলো একেবারে পিছিয়ে রয়েছে।

তবে এবার মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এই উদ্যোগকে সাহসী সূচনা বলছেন অনেকে। বিপিসির একজন পরিচালক জনকণ্ঠকে বলেন, মেঘনা পেট্রোলিয়াম কেন্দ্রটিতে বিনিয়োগও করতে চায়। আমরা আমাদের কাছে থাকা অর্ধেক অর্থ সর্বোত্তম ব্যবহার করতে চাই বলেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, জ্বালানি বিভাগ বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের উদ্যোগে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে। বিপিসির পরিচালনা পর্ষদের মেঘনার প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে। আমরা এখন বিদ্যুত বিভাগের অনুমোদন চাইছি।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম সূত্র জানায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মহেশ^রপাশা এবং মিরেরডাঙ্গা মৌজায় কোম্পানির ১৩ দশমিক ৩০ একর জমি রয়েছে। এই জমিটি দীর্ঘদিন কোম্পানির বেহাত ছিল। এক শ্রেণীর ভূমি দস্যু জমিটি দখল করে রেখেছিল। এই জমি উদ্ধার করতে বিদ্যুত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, স্থানীয় প্রশাসন এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম ছয় থেকে সাত বছর চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত জমিটির অবৈধ দখল উচ্ছেদ হয়েছে। এই জমির পাশে আরও পৌনে চার একর জমি রয়েছে যা চাইলেই মেঘনা পেট্রোলিয়াম ক্রয় করতে পারে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জমিটি কোন প্রকল্প না করে ফেলে রাখলে আবার বেহাত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম সূত্র বলছে, চীনের প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন অব চায়নার (পাওয়ার চায়না) সঙ্গে কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালে মেঘনার কাছে একটি প্রস্তাব দেয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়ার চায়নার প্রস্তাবটি অনুমোদন করে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের পরিচালনা পর্ষদ। পরবর্তীতে বিপিসির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে বিপিসিও অনুমোদন দেয়। গত ৫ ডিসেম্বর বিপিসি চেয়ারম্যান বিদ্যুত বিভাগের সচিবের কাছে দেয়া এক চিঠিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেন।

বিপিসির অধীনস্থ তেল বিপণন কোম্পানির মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিডেট অন্যতম। কোম্পানিটি ১৯৭৭ সালে নিবন্ধন নেয়।

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

১১/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: