৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

দুর্যোগের ক্ষতি কাটাতে পৃথক তহবিল দাবি বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯
  • জলবায়ু সম্মেলনে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আজ শুরু

কাওসার রহমান, মাদ্রিদ (স্পেন) থেকে ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অর্থ সহায়তা দিতে একটি আলাদা তহবিল গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো। সেই সঙ্গে ক্ষয় ও ক্ষতির (লস এ্যান্ড ড্যামেজ) বিষয়ে এবারের সম্মেলনেই ওয়ারশো ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজমকে কার্যকর করার দাবি তুলেছে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো।

এবারের জলবায়ু সম্মেলনে ওয়ারশো ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজম হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতির শিকার দেশগুলোর অন্যতম এজেন্ডা। বাংলাদেশ শুরু থেকেই এই এজেন্ডামে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। এবারের সম্মেলনেও এই ইস্যু নিয়ে দরকষাকষিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে পেছন থেকে বাংলাদেশই নেতৃত্ব দিচ্ছে। এবারের সম্মেলনে ওয়ারশো ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজম কার্যকর করা এবং ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং ক্ষয় ও ক্ষতি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের আওতায় আলাদা তহবিল গঠন ছাড়াও জলবাযু পরিবর্তনের কারণে কোন কোন দেশ কী পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নিরূপণে একটি কার্যকরী কমিটি গঠনের নতুন দাবি জানানো হয়েছে এলডিসির পক্ষ থেকে। এই কমিটি গঠন করলেই বোঝা যাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কোন দেশ কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আর অর্থায়নের জন্য গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের আওতায় আলাদা তহবিল বা উইন্ডো গঠনের দাবি জানানো হয়েছে দুটি কারণে। একটি হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি বা লস এ্যান্ড ডেমেজ হচ্ছে তার ক্ষতিপূরণ হিসাবে এবং ক্ষয় ও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য।

তবে ওয়ারশো ইন্টারন্যাশনাল ম্যাকানিজমের ব্যাপারে উন্নত দেশগুলোর আপত্তি না থাকলেও লস এ্যান্ড ডেমেজের ক্ষতিপূরণ প্রদানে অর্থায়নের ব্যাপারে উন্নত দেশগুলো আপত্তি জানিয়ে আসছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে বলছে, দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থা নিতে।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বক্তব্য হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এজন্য বাড়াছে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা প্রভৃতি। এসব দুর্যোগ মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো আর কত ঝুঁকি হ্রাস করবে। আর এসব দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অবকাঠামো ও সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতি বিপদাপন্ন দেশগুলো কীভাবে কাটিয়ে উঠবে। উন্নত দেশগুলোর কাছে বিপুল সম্পদ আছে। তা দিয়ে তারা তাদের দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে। এ বছর ফ্লোরিডায় ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে যে ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে তা যুক্তরাষ্ট্র সহজেই কাটিয়ে উঠবে। কিন্তু এবছর বাংলাদেশের যে দুটি প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে তার ক্ষতি কিভাবে এই দেশ কাটাবে। মূলত লস এ্যান্ড ডেমেজের এসব বিষয় নিয়েই গত ৬ দিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে দরকষাকষিতে একটি ইতিবাচক ফল বের করে নিয়ে আসার ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো আশাবাদী।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মঞ্জুরুল হান্নান খান বলেন, জলবায়ু আলোচনায় লস এ্যান্ড ডেমেজ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। আপনারা জানেন যে, লস এ্যান্ড ডেমেজের জন্য ওয়ারশো ইন্টারন্যাশনাল ম্যাকানিজমের ব্যাপারে ওয়ার্ক প্রোগ্রাম হয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়নের কৌশল এখনও ঠিক হয়নি। ২০২০ সাল থেকে প্যারিস চুক্তি কার্যকর করতে হলে ওয়ারশো ইন্টারন্যাশনাল ম্যাকানিজমের জন্য বাস্তবায়ন কৌশল ঠিক করতে হবে। আমরা এই সম্মেলনেই এই কৌশল ঠিক করতে চাই।

তিনি বলেন, ‘গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের আওতায় লস এ্যান্ড ডেমেজের অর্থায়নের জন্য আমরা একটি আলাদা উইন্ডো করতে চাই। এ ব্যাপারে আমরা উন্নত দেশগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছি।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অপর সদস্য এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মহসীন বলেন, এবারের সম্মেলনে ওয়ারশো ইন্টারন্যাশনার ম্যাকানিজমের ব্যাপারে একটি ঐকমত্য হবে বলে আমি আশাবাদী। তবে আমাদের মূল বিষয় হচ্ছে অর্থ। আমরা নিজেদের উদ্যোগে আর কত ঝুঁকি মোকাবেলা করব। আমাদের অর্থ সহায়তা দরকার। আর্থিক সহায়তা পেলে আমাদের দুর্যোগ মোকাবেলার কাজটা সহজ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। আমরাও আমাদের দাবির পক্ষে চাপ অব্যাহত রেখেছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিপদাপন্ন দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের ক্ষতি বেশি হচ্ছে। আপনারা দেখেছে এবছরই দুটি বড় ঘূর্ণিঝড় আমাদের ওপর আঘাত হেনেছে। এজন্য আমরা ক্ষতিপূরণ চাই। সেই সঙ্গে আমরা উন্নত দেশগুলোর কার্বন নির্গমণ কমানোরও দাবি জানাচ্ছি।’

মোঃ মহসীন আরও বলেন, পৃথিবীতে যেভাবে কার্বন নির্গমণ হচ্ছে তাতে এটা ধ্বংস হতে বেশি সময় লাগবে না। আমাদের দেশে ১৮ কোটি মানুষ। অন্য অনেক ক্ষতিগ্রস্ত দেশের চেয়ে আমাদের দেশে বেশি মানুষ বসবাস করে। ফলে দুর্যোগের কারণে আমাদের ক্ষতি বেশি হচ্ছে। তাই আমরা অর্থ সহায়তা পেলে আরও বেশি সাইক্লোন শেলটার নির্মাণ করতে পারব। ক্ষতিগ্রস্তদের জলবায়ু সক্ষম ঘর তৈরি করে দিতে পারব। আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আমরা আরও ভালভাবে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পারব। তাই দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস করতে আমাদের প্রতি উন্নত দেশগুলোর সহায়তা বাড়াতে হবে।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন ‘হাই লেভেল সেগমেন্ট’। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই বৈঠকের কাজ শুরু হবে। এতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানগণ বক্তৃতা করবেন। মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে যোগ দিতে জাতিসংঘের ৭৪তম জেনারেল অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডিজানি মুহাম্মদ বান্দে। তিন দিনের সফরে তিনি মাদ্রিদ এসে পৌঁছেছেন।

এ বৈঠকে যোগ দিতে বাংলাদেশের পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ সাহাব উদ্দিনও মাদ্রিদ এসে পৌঁছেছেন। বাংলাদেশের একজন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ হিসাবে আজ মঙ্গলবার মাদ্রিদে আসবেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তারা দুজন হাই লেভেল সেগমেন্টো সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন এবং বাংলাদেশের সরকারী প্রতিনিধি দলকে গুরুত্বপূর্ণ দিন নির্দেশনা দেবেন।

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

১০/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: