২৯ জানুয়ারী ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

সময়োপযোগী পদক্ষেপেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে উদ্বৃত্ত ॥ কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার ॥ খাদ্য, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি এই তিনটি শব্দ একটি আরেকটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ মনের জন্য প্রতিদিন পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। তাই খাদ্যশস্য আর প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

রবিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি) এর থ্রিডি হলে ৩৫তম সার্ক চার্টার ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সার্ক কৃষি কেন্দ্র।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ, প্রণোদনা প্রদান, উন্নত প্রযুক্তি, কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের পরিশ্রমেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বরং খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। কিন্তু পুষ্টি নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে। পুষ্টিকর খাবারের জোগোনের মাধ্যমে আমরা এটি অর্জন করতে পারি। এজন্য খাদ্যশস্য আর প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে। তবেই আমরা স্বাস্থ্যবান জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব।

মন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলো কৃষিতে ভাল করছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, তথাপি জলবায়ু পরিবর্তনের উপযোগী ফসলের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। কৃষির বিভিন্ন খাত ও উপখাতে আমাদের অর্জন ভাল। বাংলাদেশ নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করে আধুনিক ও বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। কৃষক দরদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষির উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে পুনরায় সারের মূল্য হ্রাস করেছেন, দিচ্ছেন নানা রকমের কৃষি প্রণোদনা। কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে রফতানির উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার। কৃষি আধুনিকায়নে সহযোগিতা প্রয়োজন। কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে দেশে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার বিকল্প হতে পারে না। অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নকে তরান্বিত করার জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ হলো আঞ্চলিক সহযোগী জোট গঠন করা। যথার্থ অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সহযোগিতা ও সমঝোতা। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। আমাদের কৃষির আরও উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সার্কের আওতায় কৃষিতথ্য কেন্দ্র খাদ্য সুরক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও দারিদ্র্য দূরীকরণের কমিশন গঠন একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে উল্লেখ্য করেন মন্ত্রী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ড. ত্রিলোচন মহাপাত্রা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়েছেন স্বাধীন দেশ। বর্তমান প্রধান তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. এস.এম বখতিয়ার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য করেন কৃষি সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান ও পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক নাহিদা রহমান সুমন। কি নোট উপস্থাপন করেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচার রিসার্চ (আইসিএআর) মহাপরিচালক ড. ত্রিলোচন মহাপাত্রা। সভাপতিত্ব করেন কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. কবীর ইকরামুল হক। এ সময় অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

০৯/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: