২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

এক কেন্দ্রে সব সেবা ॥ ভূমি অফিসের জন্য দ্রুতই চালু হচ্ছে হটলাইন কল সেন্টার

প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • হয়রানি দুর্ভোগ বন্ধের উদ্যোগ, দূর হবে দুর্নীতি অনিয়ম
  • গ্রহীতাকে লাইনে রেখেই দেয়া হবে তাৎক্ষণিক সেবা
  • সেবাপ্রাপ্তির শর্টকোড নম্বর ১৬১২২

তপন বিশ্বাস ॥ ভূমি সংশ্লিষ্ট সব সেবা নিশ্চিত করতে আসছে ‘হটলাইন কল সেন্টার’। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা মাঠ পর্যায়ে থেকেই যে কোন ধরনের সেবার জন্য সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবেই ভূমি অফিসের সব অনিয়ম-দুর্নীতি দূর হবে। বন্ধ হবে সাধারণ মানুষের হয়রানি, দুর্ভোগ। কল সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এজন্য বিটিআরসি থেকে শর্টকোড নম্বরও পাওয়া গেছে। ভূমি সচিব মাকসুদুর রাহমান পাটোয়ারী জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, হটলাইন কল সেন্টার স্থাপনের কাজ চূড়ান্ত, যে কোন সময় এটি আমরা চালু করতে পারি। তবে যেহেতু মন্ত্রণালয়ে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ চলছে তাই এটি চালু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। কারণ উন্নয়ন কাজে কল সেন্টারের যোগাযোগের তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এটি চালু করা সম্ভব হবে।

জমি নিয়ে মানুষের হয়রানি-দুর্ভোগের চিত্র অনেক পুরনো। ভূমির কাগজপত্র ঠিক করা, ভূমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া, বণ্টননামা, খারিজ ইত্যাদি কাজে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম-দুর্নীতি অনেকটাই ‘ওপেন সিক্রেট’। এসব কাজে অতীতে দুর্ভোগের শিকার হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়কে ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে। হয়রানি বন্ধের সর্বশেষ উদ্যোগ হটলাইন কল সেন্টার। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এই কল সেন্টার চালু হলে ভূমি অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির কোন সুযোগ থাকবে না। প্রযুক্তির সব ধরনের সহায়তা সুবিধা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। হটলাইনে নেয়া হবে অভিযোগ ও পরামর্শ। দেয়া হবে দরকারি সেবা। ভুক্তভোগী ভূমি মালিকদের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করে কল সেন্টারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তা সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে ভূমি সেবা পৌঁছে দেয়া হবে সর্বসাধারণের দোরগোড়ায়। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমি বিষয়ে অভিজ্ঞ ৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কল সেন্টারের দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পাঁচ কর্মকর্তা থাকবেন ফোন রিসিভ করার দায়িত্বে। হটলাইন কল সেন্টারে একই সঙ্গে ত্রিশটি ফোন রিসিভ করার সুযোগ থাকবে। কল সেন্টার স্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাইজেশনের অংশ হিসেবে স্থাপন করা হচ্ছে এই কল সেন্টার। ইতোমধ্যে এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের সহায়তায় ই-মিউটেশন বা ই-নামজারির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এজন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী ও সচিব প্রতিটি জেলার বিভিন্ন বিভাগের ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকি করছেন, দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ভূমি সচিবের সভাপতিত্বে এক সভায় মন্ত্রণালয়ে একটি হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় বলা হয়, ভূমির রেকর্ড সংশোধন, খাসজমি বন্দোবস্ত, ভূমি অধিগ্রহণ, লিজ প্রদান, লিজ নবায়নসহ যাবতীয় কাজে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা সেবাগ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে আসেন। এই সেবা প্রদান, তাদের তথ্য জানানোসহ প্রতিটি সমস্যা সমাধানের জন্য একটি হটলাইন থাকা জরুরী। সচিব বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনেক সেবা জড়িত। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে সেবাসমূহের গুরুত্ব বিবেচনায় ভূমি রেকর্ড সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় দিয়ে কল সেন্টার স্থাপন করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য সেবাও কল সেন্টার বা হটলাইনে দেয়া হবে। হটলাইন স্থাপনের জন্য অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মুজিবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কল সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হটলাইন কল সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে ভূমি সম্পর্কিত সব সেবা আরও সহজে সাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। সেবাগ্রহীতা যে কোন সমস্যায় হটলাইন কল সেন্টারে ফোন করলে তাকে লাইনে রেখেই যে কর্মকর্তার কাছে ওই সেবা রয়েছে তাকে ফোন দেয়া হবে। বিষয়টি জেনে সেবাগ্রহণকারীকে সেবা দেয়া হবে, দেয়া হবে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা। হটলাইন কল সেন্টারে প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমি বিষয়ে অভিজ্ঞ এক যুগ্মসচিব কিংবা অতিরিক্ত সচিবকে পদায়ন করা হবে। এছাড়াও থাকবেন অভিজ্ঞ সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার, উপসহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার, সার্ভেয়ার, ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার), নাজির সর্বোপরি কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরা। তারা যেহেতু দীর্ঘ চাকরি জীবনে মাঠ পর্যায়ে ভূমি নিয়ে কাজ করেছেন সেহেতু তাদের রয়েছে ভূমি সম্পর্কিত সব অভিজ্ঞতা। তারা বিষয়গুলো ভাল বুঝবেন। তবে হটলাইন কল সেন্টারে কর্মরতদের জন্য বেতন ভাতার বাইরে বাড়তি কোন আর্থিক সুবিধা থাকছে না। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি কর্মদিবসে আট ঘণ্টা করে এই কল সেন্টার চালু থাকবে। দুই শিফটে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সেন্টারে দায়িত্ব পালন করবেন।

হটলাইন স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যেই বিটিআরসি থেকে শর্টকোড পাওয়া গেছে। শর্টকোড নাম্বার হচ্ছে ১৬১২২। হটলাইন সাধারণত তিন ডিজিটের হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কারিগরি জটিলতায় তা পাঁচ ডিজিট হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের হটলাইন কল সেন্টার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের থেকে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মাঠ প্রশাসনে ভূমিসেবা সহজ করতে ইতোমধ্যে ৩০২ উপজেলায় ই-নামজারি চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় ই-নামজারি কার্যক্রম চালু করা হবে। ভূমি রেকর্ড ও ভূমি জরিপ অধিদফতর এটুআই প্রকল্পের সহায়তায় ইতোমধ্যে এক কোটি এক লাখ খতিয়ান অনলাইনে প্রকাশ করেছে, যা এখন অনলাইনে দেখা যায়। আগামী ফেব্রুয়ারিতে আরএস খতিয়ান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। সাধারণ মানুষ তখন প্রয়োজনমতো তার অংশটুকু দেখতে পারবেন, প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। ইতোমধ্যে এটুআই প্রকল্পের সহায়তায় ৩ কোটি ১০ লাখ ১৭ হাজার সিএস ও আরএস খতিয়ান অনলাইনে ডেটাএন্ট্রি করেছে। এসব খতিয়ান সাধারণ মানুষ যাতে অনলাইনে দেখতে পান সেজন্য এটুআই প্রকল্প থেকে নাগরিক কর্নার আনা হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ জানুয়ারি ই-নামজারি, আরএস খতিয়ান, সিএস ও এসএ খতিয়ান অনলাইনে ফি জমা প্রদান সাপেক্ষে প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য একটি পেমেন্ট গেটওয়ে তৈরি করে দিয়েছে।

প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

১৫/০৯/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: