২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রংপুরের কৃষকের আর্শিবাদ আঁশ জাতীয় ফসল কেনাফ


রংপুরের  কৃষকের আর্শিবাদ আঁশ জাতীয় ফসল কেনাফ

নিজস্ব সংবাদদাতা, রংপুর ॥ কেনাফ একটি আঁশ জাতীয় ফসল। নতুন উদ্ভাবিত এ ফসলের সাথে মানুষের তেমন পরিচয় নেই। পাটের মত লম্বা, ঢেড়সের পাতার মত পাতা বিশিষ্ট কেনাফ। উচ্চতা সাধারণ পাটের মত হলেও এর কান্ডগুলো তুলনামূলক মোটা। পরিবর্তিত জলবায়ু মোকাবেলা করে বেড়ে উঠতে পারে এ আঁশ ফসল কেনাফ। এটি পাটেরই একটি বিকল্প ফসল। রংপুরের কাউনিয়াসহ উত্তরাঞ্চলের চরের ১’শ হেক্টর জমিতে এবার কেনাফের পরীক্ষামূলক চাষ হয়েছে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত এ আঁশ জাতীয় ফসল ইতোমধ্যেই কৃষকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে।

রংপুরের কাউনিয়ার গোদাই চরের কেনাফ চাষী ফজল আলী, মজিবর মিয়া, লতিফ মিয়া জানান, কেনাফ চাষে নিড়ানী দেয়া লাগে না, এক বার সার প্রয়োগ করলেই হয়ে যায়। উৎপাদন খরচ কম। এছাড়া ফলনও ভালো, আঁশের মানও ভালো পাওয়া যায়। কেনাফের পাতা পড়ার সাথে সাথে ঘাস নষ্ট হয়ে যায়। আর পাতা পঁচে জমিতে সার হয়। এতে করে পরবর্তী যে ফসল আবাদ করা হয় সেখানে সার কম লাগে ও ফসলও ভালো হয়।

রংপুর আঞ্চলিক পাট গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবুল ফজল মোল্লা বলেন, অনবাদী, অনুর্বর জমিতে অল্প পরিচর্যা ও স্বল্প খরচে ১১০ দিন থেকে ১২০ দিনে কর্তন করে কেনাফের ভালো ফলন পাওয়া যায়। কেনাফের খড়ি জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার, বীজ হতে ৭ থেকে ১৩ শতাংশ ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন তেল পাওয়া যায়। চর এলাকায় পাট চাষ করলে প্রতি বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কেনাফ বন্যার পানিতেও বেঁচে থাকে। এর উৎপাদন ভালো বলে কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে পাটের মতো কেনাফের গুরুত্বও অপরিসীম। কেনাফ ফসলের মূল মাটির ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি বা তার বেশি গভীরে প্রবেশ করে মাটির উপরি স্তরে সৃষ্ট শক্ত 'প্লাউপ্যান' ভেঙে দিয়ে এর নিচে তলিয়ে যাওয়া অজৈব খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করে মাটির ওপরের স্তরে মিশিয়ে দেয়।

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে ১০০ দিন সময়ের মধ্যে প্রতি হেক্টর কেনাফ ফসল বাতাস থেকে প্রায় ১৪ দশমিক ৬৬ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং ১০.৬৬ টন অক্সিজেন নিঃসরণ করে বায়ুম-লকে বিশুদ্ধ ও অক্সিজেনসমৃদ্ধ রাখে। কেনাফ আঁশ থেকে কাগজের পাল্প বা ম- তৈরি করে নিউজপ্রিন্ট মিলের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার, কেনাফ খড়ি হার্ডবোর্ড বা পার্টেক্স মিলের কাঁচামাল ও চারকোল তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য। তাছাড়া কেনাফ খড়ি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার এবং বীজ থেকে ঔষধি গুণসম্পন্ন তেল পাওয়া যায়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: