মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৮ আগস্ট ২০১৭, ৩ ভাদ্র ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

একাদশে ভর্তিতে দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৬
  • বিভিন্ন কলেজে অনিয়মের অভিযোগ

বিভাষ বাড়ৈ ॥ কলেজ ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় এ তালিকা প্রকাশ করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। নতুন তালিকায় প্রতিটি কলেজে শূন্য আসনের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছে। যারা সিরিয়াল অনুসারে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবে। তবে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি নিয়ে বিভিন্ন কলেজে অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভর্তির বাইরে আছে আড়াই লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। এদিকে ১ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত ছুটির কারণে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। ১১ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত বিলম্ব ফিসহ ভর্তির প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সহজ ও কিছুটা উন্মুক্ত করে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

ভর্তির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে রাতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে শূন্য আসনের ছয়গুণ শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছে। শূন্য আসন পূরণ হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। চেয়ারম্যান জানান, ঈদসহ সরকারী ছুটির কারণে ১-১০ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি বন্ধ থাকবে। ১০ তারিখের পর ভর্তি প্রক্রিয়া আরও সহজ করার পক্ষে মত দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ৩০ জুন পর্যন্তও যারা ভর্তির হতে পারবেন না তাদের বিষয়ে ১০ তারিখের পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ভর্তি প্রক্রিয়া এমন করার চিন্তা আছে যেন কোন শিক্ষার্থী ভর্তির বাইরে না থাকেন। এর আগে ২৪ জুন প্রকাশ করা হয়েছিল প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকা। প্রথম তালিকার মতো দ্বিতীয় তালিকাও কলেজ ভর্তির ওয়েবসাইটে (িি.িীরপষধংংধফসরংংরড়হ.মড়া.নফ) প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে তাদের রোল, বোর্ড, পাসের সন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল দেখতে পারছেন। এছাড়াও আবেদনকৃত প্রতিটি কলেজে মেধা তালিকায় অথবা অপেক্ষমাণ তালিকায় ফল পাওয়া যাচ্ছে। আবেদনকৃত কলেজের নোটিস বোর্ডেও ফল দেখতে পারছেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেছেন, দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা আমরা প্রকাশ করেছি। এখন কলেজগুলো তালিকা থেকে শূন্য আসন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সিরিয়াল অনুসারে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে। আগের শিক্ষার্থী না আসলেই কেবল পরবর্তী অবস্থানের শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা যাবে। কিন্তু পেছনের দিকে থাকা শিক্ষার্থীরা কিভাবে জানবেন তারা কবে ভর্তি হতে পারবেন? কিংবা আদৌ ভর্তি হতে পারবেন কিনা? এমন প্রশ্নে চেয়ারম্যান বলেন, এ নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। আমরা কলেজগুলোকে নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন নোটিস বোর্ডে নির্দিষ্ট করে সিরিরায় নম্বরসহ লিখে দেন কবে কোন সিরিয়ালের শিক্ষার্থীর ভর্তি করা হবে। তথ্য জানিয়ে দিলে কারও কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। চেয়ারম্যান জানান, শূন্য আসনের বিপরীতে অন্তত ছয়গুণ শিক্ষার্থীকে এবারের তালিকায় রাখা হয়েছে। যাতে প্রথম দিকের সিরিয়ালের শিক্ষার্থীরা ভর্তি না হলে পরবর্তী সিরিয়াল থেকে কলেজগুলো ভর্তি করতে পারে। এদিকে ভর্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। ফলে আবেদনকারীদের মধ্যে এখনও ভর্তির বাইরে রয়েছে দুই লাখ ৮১ হাজার শিক্ষার্থী। তবে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশের পরও আবেদনকারীদের মধ্যেই প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ভর্তির বাইরে থেকে যাবে। কারণ এ দুইদিনে কোনভাবেই পৌনে তিন লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন না। এছাড়াও কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা আবেদনই করেনি।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৬০৫ জন। এর মধ্যে অনলাইনে ও এসএমএসে আবেদন করেছে ১৩ লাখ এক হাজার ৯৯ জন। প্রথম মেধা তালিকায় স্থান পায় ৯ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী। অপেক্ষামাণ তালিকা থেকে প্রথম মেধাক্রমে স্থান পায় সাত লাখ ১৮ হাজার ৯২২ শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন কলেজে অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে দুই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। প্রথমত, কোন শিক্ষার্থী অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে তার পছন্দের কোন কলেজে ভর্তির জন্য আগে যে কলেজে ভর্তি হয়েছিল, তা বাতিল করতে হয়। কিন্তু কোন কোন কলেজ এই ভর্তি বাতিল করতে চাচ্ছে না। ফলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে অন্য কলেজে ভর্তি হতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন অনেক শিক্ষার্থী।

দ্বিতীয়ত, বেশ কিছু কলেজে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভর্তি হতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জানতে পেরেছেন সময়ের আগেই প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি করা হয়েছে। ফলে বোর্ডের করা তালিকা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারেনি অনেক শিক্ষার্থী।

রাজধানীর উত্তরখান এলাকা থেকে মাহবুবুর রহমান নামে এক অভিভাবক টেলিফোনে অভিযোগ করেছেন, তার মেয়ে বোর্ডের করা অপেক্ষমাণ তালিকা অনুযায়ী কয়েকটি কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। সে অনুযায়ী গতকাল শহীদ লে. আনোয়ার গার্লস কলেজে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হতে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি করা হয়ে গেছে। এখন আর ভর্তি হওয়া যাবে না। অপেক্ষমাণ তালিকার মেধাক্রম অনুযায়ী তার মেয়ের অবস্থান ১৩৯তম। ভর্তি হতে না পেরে তারা হতাশায় আছেন।

একই অভিযোগ পাওয়া গেছে মিরপুরের বিসিআইসি কলেজের ক্ষেত্রে। রাজিব নামে এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকালে কলেজে গেলে জানানো হয়, ভর্তি শেষ হয়ে গেছে। তার সন্তান এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েও ভর্তি হতে পারল না। অথচ একই কলেজে জিপিএ-৫-এর নিচে ফল করেও কোন কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। একই কলেজে ভর্তি বাতিল নিয়েও শিক্ষার্থীদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কলেজের সামনে অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

হাসান নামে এক অভিভাবক জানান, তার ছেলে বিএন কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে দ্বিতীয় তালিকায়। আসনও খালি আছে। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে কলেজে গেছে কর্তৃপক্ষ বলে দেয়, ভর্তি হওয়া যাবে না। আসন পূরণ হয়ে গেছে। ওয়েবসাইটে আসন খালি আছে প্রমাণ দেখালে বলা হয়, সেখানে ভুল দেখাচ্ছে।

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৬

২৯/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: