১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

অর্ধেক জেলেও পুনর্বাসনের আওতায় আসেনি


নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী, ২৭ জুন ॥ জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচী ভেস্তে যেতে বসেছে। পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় অর্ধেক জেলেকে আনা সম্ভব হয়নি। এ কারণে জাটকা ধরা বন্ধ হয়নি। মৎস্য বিভাগ প্রশাসনের সহায়তায় জাটকা নিধন বন্ধে অভিযান চালালেও তা কাজে আসছে না। জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য অধিদফতর ২০১০ সাল থেকে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে। জাটকা সংরক্ষণের জন্য নবেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই আট মাস জাটকা শিকার বন্ধ ঘোষণা করে। জেলেদের জাটকা শিকারে বিরত রাখতে পুনর্বাসন কার্যক্রম চালু করে। আট মাস জাটকা শিকার বন্ধ ঘোষণা করলেও পুনর্বাসন সহায়তা দেয়া হচ্ছে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাস। সরকারী হিসাবে পটুয়াখালী জেলায় জাটকা আহরণকারী জেলের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৬৬। এর মধ্যে ভিজিএফের মাধ্যমে খাদ্যসহায়তা দেয়া হচ্ছে ২৫ হাজার ১৭৩ জেলেকে। এই জেলেদের প্রত্যেকে চার মাসের জন্য ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল সহায়তা পাচ্ছে। পুনর্বাসনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে আরও ২২ হাজার ৮৯৩ জেলে। এ অবস্থায় জেলে পরিবারগুলোকে দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলার দশমিনা উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নের বুড়াগৌরাঙ্গ নদের পাড়ে সৈয়দ জাফর আদর্শ গ্রামের জেলেপল্লীর বাসিন্দা দলিল উদ্দিন প্যাদা বলেন, ‘এমনিতেই নদীতে ইলিশ নেই, এহন নদীতে জাল ফেললে জাটকা ওঠে, কিন্তু জাটকা ধরা বন্ধ। অনেকের নামে কার্ড (জেলে কার্ড) হইছে, চাউল পায়। চাইরজনের সংসার, মাছ না ধরলে কেমনে চলুম?’

ওহিদুল জানান, তাঁর নাম নেই পুনর্বাসনের তালিকায়। বৃদ্ধ মা-বাবাসহ ছয়জনের সংসার। মৌসুমে ইলিশ ধরে পরিশোধ করবেন এই আশায় ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে তাকে। একই জেলেপল্লীর রাসেল এক সময় তার বাবার সঙ্গে নদীতে ইলিশ শিকার করতেন। এখন মাছ ধরা বন্ধ। দিনমজুরি করেন, মহাজনের কাছ থেকে ধার-দাদন নিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে তাকে। তবে জাটকা ধরা বন্ধ করতে হলে জেলেদের তালিকা করে পুনর্বাসনের আওতায় আনতে হবে বলে মনে করেন জেলেরা। দশমিনা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমবায় সমিতির সভাপতি শিকদার নজরুল ইসলাম জানান, সরকারী হিসাবে দশমিনায় জাটকা আহরণকারী জেলের সংখ্যা সাত হাজার ৯৯৭। এর মধ্যে পুনর্বাসনের আওতায় এসেছে চার হাজার ২৭ জন। তিন হাজার ৯৭০ জেলেকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচী সফল করতে সবাইকে পুনর্বাসনের আওতায় আনার পাশাপাশি জাটকা নিধনের কুফল সম্পর্কে জেলেদের অবহিত করতে হবে। এছাড়া জেলেদের পেটে ভাত এবং জাটকা সংরক্ষণে একটু সচেতন হলে নদীতে প্রচুর ইলিশের দেখা মিলবে বলে মনে করেন তিনি।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাছানাত জানান, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায় হয়ে জেলেদের তালিকা তৈরি করা হয়। বর্তমানে জেলেদের পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, তবে জেলেদের মধ্যে অধিকতর দরিদ্র জেলেদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে খাদ্যসহায়তা দেয়া হচ্ছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন সহায়তায় আনার কার্যক্রম চলছে।