২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জিতে ঐতিহাসিক শিরোপা উৎসব লিচেস্টারের


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ রূপকথার গল্প লেখাটা আগেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিজেদের ম্যাচ না থাকায় উৎসবটা ঠিকমতো করতে পারেনি লিচেস্টার সিটি। অবশেষে আনুষ্ঠানিক শিরোপা উৎসব করেছে ইংলিশ ফুটবলে চমক দেখানো ক্লাবটি। ১৩২ বছরের ক্লাব ইতিহাসে প্রথম শিরোপা জয়ের পর শনিবার রাতে লিচেস্টারের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে ইপিএলের ট্রফি।

নিজেদের মাঠ কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে এভারটনের বিরুদ্ধে ম্যাচটা ছিল লিচেস্টারের শিরোপা জয়ের উৎসবে মেতে ওঠার উপলক্ষ। পুরো মৌসুমের মতো এই ম্যাচেও লিচেস্টার দেখিয়েছে দাপট। সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের মতো ৩-১ গোলের জয় দিয়েই ভার্ডি, মাহরেজরা মেতে ওঠেন শিরোপা জয়ের উল্লাসে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তরতাজা স্মৃতি নিয়ে শুরু করে স্বাগতিকরা। দুই ম্যাচের বহিষ্কারাদেশ কাটিয়ে দলে ফিরে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন লিচেস্টারের তারকা স্ট্রাইকার জিমি ভার্ডি। ৩৩ মিনিটে আরেকটি গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এ্যান্ডি কিং। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেই জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন ক্লডিও রানিয়েরির দল।

বিরতির পর ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে আরেকটি গোল করেন ভার্ডি। ৭২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ হারান তারকা বনে যাওয়া ভার্ডি। খেলা শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে ৮৮ মিনিটে এভারটনের পক্ষে সান্ত¡নাসূচক একটি গোল করেন কেভিন মিরালাস। এভারটনের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে এবারের মৌসুমে সব মিলিয়ে ভার্ডির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪। প্রিমিয়ার লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে এই ইংলিশ স্ট্রাইকারের নাম। এক গোল বেশি নিয়ে শীর্ষে আছেন টটেনহ্যামের হ্যারি কেন। পেনাল্টিতে গোল করতে পারলে কেনকে ছুঁয়ে ফেলতে পারতেন ভার্ডি। দলের জয় আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এ নিয়ে কোন আফসোস অবশ্য করতে হয়নি তাঁকে। ম্যাচ শেষে ভার্ডি বলেন, আমি এ অনুভূতি কথায় বলে বোঝাতে পারব না। আজকের এ অবস্থানে আসার জন্য লম্বা ও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে আমাদের। কোন কিছুর কারণেই এ উৎসব মাটি হবে না। লিচেস্টারের কোচ রানিয়েরি এর আগে পালন করেছেন এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, চেলসি, জুভেন্টাস, ইন্টার মিলানের মতো বড় বড় ক্লাবের। কিন্তু কোনখানেই তিনি জিততে পারেননি লীগ শিরোপা। শেষ পর্যন্ত লিচেস্টার সিটির মতো একটি অখ্যাত ক্লাবের হয়ে যে সেই অসাধ্য সাধন করতে পারবেন, তা নিজেও ভাবতে পারেননি এই ইতালিয়ান কোচ। এভারটনের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, আমি জানতাম যে কখনও না কখনও শিরোপা জিততে পারব। কিন্তু এটা যে এভাবে আসবে, তা ভাবতে পারিনি। এভারটনকে হারানো ম্যাচের পর লিচেস্টার সিটির হাতে ইপিএলের ট্রফি তুলে দেয়া হয়। ক্লাবের ১৩২ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্র্রফি উঁচিয়ে ধরার সাক্ষী হতে গ্যালারি ছিল সমর্থকে ঠাসা। মুকুট জয়ের প্রতিক্রিয়ায় রানিয়েরি বলেন, শান্ত থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু অবশ্যই আমি ভেতরে ভেতরে ভীষণ খুশি। এটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি। আমি মনে করি, এটা আমার জন্য দারুণ মুহূর্ত। কেননা, আমি নতুন নই এবং সামনে আরও একটা পরীক্ষা (চ্যাম্পিয়ন্স লীগ) আছে। প্রিমিয়ার লীগে আমরা চ্যাম্পিয়ন, এটা (আমার জন্য) বিশেষ কিছু। স্পেন ও ইতালিতে আমি কিছু ট্রফি জিতেছি কিন্তু এখানে জেতাটা চমৎকার।

গর্বিত কোচ আরও বলেন, ক্যারিয়ারে আমি সবসময় ভেবেছি, আগে হোক, পরে হোক শিরোপা জিতব। কিন্তু শুরুতে আমিও ভাবিনি, এটা সেই জায়গা হবে। কিন্তু কেন নয়? এটা শিহরণ জাগানো মৌসুম। বড় দলগুলো ধারাবাহিক থাকতে পারেনি এবং আমরা পেরেছি। লিচেস্টার সিটির সমর্থকদের কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি রানিয়েরি। তাদের স্বপ্ন দেখা বন্ধ করতে মানাও করেছিলেন ইতিহাস গড়া এই কোচ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো মৌসুম তারা আমাদের পেছন থেকে (সামনের দিকে) ঠেলেছে। এটা অসাধারণ। আমরা খুব ভালভাবে জানি, সামনের মৌসুমে সবকিছু অন্যরকম হবে। কিন্তু সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছে-স্বপ্ন দেখে যাও; জেগে ওঠার কি দরকার!

কিং পাওয়ারে রূপকথার নায়কদের অভিনন্দন জানাতে এবং প্রিয় দলের শিরোপা উৎসবের সাক্ষী হতে আসা সমর্থকদের কণ্ঠে ছিল বিজয়ের গান। উৎসবের এই ডামাডোলের মধ্যে নরউইচের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে আরেকবার হেরেছে গত বছরের চ্যাম্পিয়ন চেলসি। সান্ডারল্যান্ডের মাঠ থেকে ৩-২ গোলে হেরে এসেছে ব্লুজরা।