মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

৬ ও ৭ এপ্রিল দ্বিতীয় জাতীয় হ্যাকাথন মেলা

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের (আইসিটি) আয়োজনে দ্বিতীয় বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় হ্যাকাথন মেলা-২০১৬’। আগামী ৬ ও ৭ এপ্রিল মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজ (পিএসসি) কনভেনশন হলে জাতীয় সমস্যায় প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধানের জন্য প্রোগ্রামারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই মেলা। হ্যাকাথন মেলা আয়োজনে সহযোগিতা করবে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার প্রোগ্রামার এই মেলায় যোগ দেবেন। বিজয়ীদের জন্য নগদ অর্থ পুুরস্কার, বিভিন্ন ডিভাইস ও হ্যাকাথন চলাকালীন নানা রকম পুরস্কার দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করবে বাংলালিংক। হ্যাকাথন আয়োজনকে আর জমকালো করার জন্য বাংলালিংক হ্যাকাথন ইভেন্টে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা ধরনের প্রচার চালাবে। যাতে মেলায় বেশি সংখ্যক প্রোগ্রামার অংশ নিতে পারে।

জাতীয় হ্যাকাথন আয়োজন সম্পর্কে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে দেশের তরুণ সমাজ। তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সরকার এমডিজির ও এসডিডিজি অর্জনে আশাবাদী। সরকার দেশে তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করতে চায়। এই আয়োজন সেই লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ করবে। এজন্য আমরা দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় হ্যাকাথনের আয়োজন করেছি। আশা করছি এই আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের কাছ থেকে প্রাপ্ত আইডিয়াগুলো আমাদের নানা ধরনের জাতীয় সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিনিয়ত উন্নত প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে আমাদেরও নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার ও ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকার সার্বিক উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করছে। সর্বশেষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের জন্য অবারিত সুযোগের দ্বার উন্মোচন হবে। তথ্যপ্রযুক্তি এখন জনগণের ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম হাতিয়ার। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা পৌঁছে গেছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে। এর ফলে নাগরিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বস্তি এসেছে।

বাংলালিংকের এমডি ও সিইও এরিক অস বলেন, জাতীয় হ্যাকাথন ২০১৬ আয়োজনে বাংলালিংক সহযোগী হিসাবে কাজ করবে এটা অনেক বড় বিষয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অব্যাহত সহযোগিতা দেয়া আমাদের অঙ্গীকার। তারই অংশ হিসাবে ও তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন পূরণে ও মেধাবীদের উজ্জ¦ল ভবিষ্যত গঠনের জন্য বাংলালিংক এই মহৎ উদ্যোগের গর্বিত অংশীদার হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, দেশের সব খাতের ডিজিটালাইজেশনের জন্য এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজনের ফলে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই ডিজিটাল জাতিতে পরিণত হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার (এসডিজি) নির্বাচিত ১০টি লাখ অর্জনের জন্য আয়োজিত হচ্ছে এবারের জাতীয় হ্যাকাথন। সারা দেশের সেরা ডেভেলপার, ডিজাইনার, মোবাইল এ্যাপ ডেভেলপার, সফটওয়্যার নির্মাতারা একত্রিত হবে বছরের বড় এই কোডিং ফেস্টিভালে। এসডিজির ১০টি লক্ষ অর্জনের জন্য যেসব প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান, তা প্রযুক্তি দিয়ে কীভাবে মোকাবেলা করা যায়, সেজন্য তরুণ প্রযুক্তিবিদরা একটানা ৩৬ ঘণ্টা কাজের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবন করতে পারবে। সেরা উদ্ভাবকদের উদ্ভাবন বাস্তবায়নের জন্য আইসিটি বিভাগ ভবিষ্যতে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করবে।

ইতোমধ্যে ৫৫৩টি দলের ৩ হাজার এরও বেশি অংশগ্রহণকারী জাতীয় হ্যাকাথনে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছে। এদের মধ্যে নির্বাচিত ২৫০টি দল চূড়ান্তভাবে জাতীয় হ্যাকাথনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে। অংশগ্রহণকারীদের উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সহায়তা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ১০টি মন্ত্রণালয়ের ৪৪ জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় হ্যাকাথনের ডোমেইন এক্সপার্ট দল ও ৯০ জনের টেক-মেন্টর দল প্রস্তুত থাকবে। আরও বিস্তারিত জানার জন্য ওয়েবসাইট ভিজিট করে জানা যাবে। আগ্রহীদের সাইটটি ভিজিট করে অংশ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের তরুণদের উদ্ভাবিত তথ্যপ্রযুক্তির নানা আবিষ্কার যত বেশি বাড়বে দেশের মানুষ তত কম খরচে এর সুফল পাবেন। ইতোমধ্যে সেবা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সরকারের নেয়া পাবলিক সার্ভিস ডেলিভারি আউটলেট, কাগজবিহীন ভর্তি পরীক্ষা, ওয়াসা, পিডিবি ও তিতাস গ্যাসের বিল পেমেন্ট, কম্পিউটারাইজড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কলসেন্টার, শিক্ষা পদ্ধিতিতে আইসিটি, এসএমএস ভিত্তিক ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য, হজ ব্যবস্থাপনা, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ, ট্রেনের টিকিট কেনা, অনলাইন সার্ভিস ট্র্যাকিং সিস্টেম, অনলাইনে ডেইলি মার্কেট প্রাইজ জানা, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ অটোমেশন, রাজউকের কম্পিউটারাইজেশন এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম, সরকারী, জাতীয় ওয়েব পোর্টাল, আইন বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল, দুর্যোগ পূর্বাভাস, ভোটার ডাটাবেজ, পানি ও সামদ্রিক সম্পদ পরিকল্পনা, কৃষি সম্পদ পরিকল্পনা, এডুকেশন প্ল্যানিং, বাংলাদেশ ব্যাংক অটোমেশন, সড়ক ও জনপদ পরিকল্পনা অটোমেশন উল্লেখযোগ্য।

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৬

২৯/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: