১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পাকিস্তানকে সমুচিত জবাব দেয়ার শক্তি আমরা অর্জন করেছি


১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৬ পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল নজর হোসেন শাহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে নাটোরে আত্মসমর্পণ করেন। লাজ-লজ্জাহীন পাকিস্তানী এই জেনারেলের মধ্যে অনুতপ্তের লেশমাত্র চিহ্ন না দেখে বিদেশী এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, এতবড় লজ্জাকর আত্মসমর্পণের পর আপনার অনুভূতি কি? উত্তরে জেনারেল নজর হোসেন বলেছিলেন, ‘আমরা আগামীতে অতি শিগগিরই এই পরাজয়ের প্রতিশোধ নেব।’ নজর হোসেনের উত্তরে সাংবাদিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ভারতীয় জেনারেল লাছমান সিংহ বলেছিলেন, ‘যুদ্ধ কোন ফুটবল খেলা নয়, এটা যেন পাকিস্তানীরা মনে রাখে।’ একটি ভ্রান্ত দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। জন্ম তত্ত্বের ভেতরেই রাষ্ট্রটির মৃত্যুর বীজ নিহিত ছিল। ধর্মের দোহাই দিয়ে পৃথক রাষ্ট্রের সৃষ্টি এবং শুরু থেকে অনবরত ধর্মের জিগির তুলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলাম ধর্মের যত অসম্মান ও অবমাননা পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতর থেকে করা হয়েছে তার দ্বিতীয় উদাহরণ পৃথিবীতে নেই। রাষ্ট্রের শাসনকর্তারা ইসলামের তথাকথিত লেবাস ধারণ করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে গড়ে তোলে এক প্রকার ধোঁকাবাজি এবং অনৈতিক আদর্শের সংস্কৃতি। তখন এই ধোঁকাবাজির চরম শিকার হয়েছিল এ অঞ্চলের সাড়ে সাত কোটি বাঙালী। জাতিগতভাবে পাকিস্তানকে এই ভ-ামির মহাপাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছিল ১৯৭১ সালে। কিন্তু পাকিস্তানীরা ওই ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে কোন শিক্ষা গ্রহণ করেনি। তারা পাপের দায় স্বীকার করেনি, অনুতপ্ত হয়নি এবং কৃত পাপের জন্য ক্ষমাও চায়নি। ফলে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রজন্ম ওই পাপের বোঝা বহন করে চলেছে। বহনকৃত পাপের ভারে আরও বেশি করে বিভ্রান্ত হয়ে ক্রমাগতভাবে ধর্মান্ধতার অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। ডুবন্ত পাকিস্তান আজ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য উন্মাদের মতো আচরণ করছে। একটার পর একটা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ করছে। একাত্তরের গণহত্যাকারী, নারী ধর্ষণকারী বাংলাদেশের নাগরিক বর্তমান জামায়াত নেতাদের কয়েকজন এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তান আজ মরিয়া আচরণ করছে। মিরপুরের কসাই কাদের মোল্লাকে তারা শহীদ ঘোষণা করেছে। গোলাম আযমের গায়েবী জানাজা পড়েছে। মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকরের পর এটাকে তারা বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ড বলেছে। সাকা চৌধুরীর বেলায় বিএনপির নেতারা পাকিস্তানের মতো একই ভাষায় কথা বলেছে। এগুলো সীমাহীন ঔদ্ধত্যের পরিচয় এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং সর্বোচ্চ আদালতের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে এর কড়া ও শক্ত প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইসলামাবাদে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ডেকে পাকিস্তান ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে হেনস্থা করে। এর মধ্যে ঢাকার পাকিস্তানের দূতাবাস কর্মকর্তা ফারিনা আরশাদ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জঙ্গী তৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তানে ফিরে যেতে বাধ্য হন। পাল্টা হিসেবে ইসলাবাদের বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মৌসুমী রহমানকে পাকিস্তান বহিষ্কার করে। ফারিনা আরশাদের জঙ্গী তৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকার দালিলিক ও চাক্ষুষ প্রমাণ পাকিস্তানকে দেয়া হয়। ইদ্রিস শেখ নামের একজন পাকিস্তানী নাগরিক (বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত) বাংলাদেশের জঙ্গী সংগঠন জেএমবির সঙ্গে কাজ করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়। জানা গেছে, আইএসআই’র নির্দেশে ইদ্রিস শেখ ২০০৭ সালে এসে বাংলাদেশের জেএমবির কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। ফারিনা আরশাদ নিজের গাড়িতে করে ইদ্রিস শেখকে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছে এবং নগদ টাকা দিয়েছে, তার কাগজপত্র ও ছবি পাওয়া গেছে। ফারিনা আরশাদ এবং পাকিস্তানের আইএসআইয়ের সদর দফতরে কর্মরত এক ক্যাপ্টেনের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত একটা স্পাই মোবাইল পাওয়া গেছে ইদ্রিস শেখের কাছে। পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান সংস্থা পিআইএ’র এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোস্তফা জামান ভারতীয় নকল রুপীসহ জঙ্গী তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে। জানা গেছে, পিআইএ’র ছদ্মবেশে মোস্তফা জামান আসলে একজন আইএসআই’র লোক। আরও কিছুদিন আগে ঢাকার উত্তরা থেকে পাকিস্তানের কয়েকজন নাগরিক ধরা পড়েছে, যারা লস্কর-ই-তৈয়রা ও জইশ-ই-মুহম্মদের সদস্য। এর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান দূতাবাসের আরেক কর্মকর্তা মাজহার খান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জঙ্গী অর্থায়নে জড়িত থাকার কারণে হাতেনাতে ধরা পড়ে এবং বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার হয়। পাকিস্তানের অপতৎপরতার সর্বশেষ এপিসোড হিসেবে গত সপ্তাহে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মচারী আবরার খান ভারতীয় নকল রুপীসহ ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। আবরার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কূটনৈতিক নাম্বার প্লেটহীন মোটরসাইকেলে গুলশানের সংবেদনশীল এলাকা বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল। ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে সঠিক পরিচয় পাওয়ার পর ছেড়ে দেয়। এর পাল্টা হিসেবে কোন রকম অজুহাত, অভিযোগ ছাড়াই ইসলামাবাদের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইংয়ে কর্মরত জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রায় সাত-আট ঘণ্টা গোপনে আটক করে রাখে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন। সঙ্গত কারণেই আজ প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৪ বছর পর পাকিস্তান এমন পাগলা কুকুরের মতো ব্যবহার করছে কেন? একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধপরায়ণের জিঘাংসা এবং ১৯৭৫ সালের পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনের ঘটনা প্রবাহের দিকে তাকালেই এই প্রশ্নের উত্তর সহজে পাওয়া যায়। পাকিস্তানের প্রতিশোধ নেয়ার যে চিত্র ও স্বরূপ তা হলো এমন যে, ২৩ বছর বাঙালীর বিরুদ্ধে পাকিস্তান যে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে তার কোন চিহ্ন বাংলাদেশে থাকবে না, একাত্তরের গণহত্যার কোন চিহ্ন থাকবে না। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ দর্শনহীন একটা বাংলাদেশ থাকবে, যেখানে একাত্তরে পাকিস্তান যে ভয়ঙ্কর ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তার কথা কেউ বলবে না। নামেমাত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ থাকবে। বলা হবে হানাদার বাহিনী, এখানে পাকিস্তানের নাম কেউ বলবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদসহ সব প্রকার সাহায্য করবে। ১৯৭৫ সালের পর জিয়া-এরশাদের ১৫ বছর, অধুনা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের দুই মেয়াদের (১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬) দিকে তাকালে দেখা যায় ওই সময়ে বিরাজমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পাকিস্তানের চাওয়ার সঙ্গে হুবহু মিল ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের বৃহত্তর মানুষ, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক, কবি, তরুণ প্রজন্ম এটা মেনে নেয়নি। তারা এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও লড়াই করেছে, এখনও লড়াই অব্যাহত আছে। যার ফলে দেখা যায় বাংলাদেশের জামায়াতপ্রসূত উগ্র ধর্মান্ধ জঙ্গীরা একের পর এক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন ও বাঙালী সংস্কৃতির ধারক বাহক রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক ও বুদ্ধিজীবীর ওপর গ্রেনেড, বোমা, চাপাতি দিয়ে আক্রমণ করছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের নেত্রী বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনার ওপর পাকিস্তানের লেলিয়ে দেয়া এই অপশক্তি ১৯বার আক্রমণ চালিয়েছে, যার সবচাইতে ভয়ঙ্কর রূপ সারাবিশ্বের মানুষ দেখেছে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। এর বিপরীতে জিয়া, এরশাদ ও বেগম খালেদা জিয়ার অনুসারী ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধবাদী একজন মানুষের গায়ে সামান্য টোকা পর্যন্ত লাগেনি। এতেই প্রমাণ হয় এই জঙ্গীরা কাদের লোক এবং এদের উদ্দেশ্য কি? কিন্তু বাংলাদেশের মানুষকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না, এই অমোঘ বাণী আমাদের বলে গেছেন বাঙালীর মহান নেতা, বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই ইতিহাসের নিরন্তন সত্যের পথ ধরে ২০১৬ সালে এসে বেগম খালেদা জিয়ার জামায়াত-বিএনপিসহ বাংলাদেশে পাকিস্তানের সকল প্রতিভূ আজ চূড়ান্ত পরাজয়ের সম্মুখীন। বাংলাদেশে তাদের প্রতিভূগণের চূড়ান্ত পরাজয় ঠেকাবার জন্য আজ পাকিস্তান পাগলের মতো আচরণ করছে। তবে পাকিস্তান যেন মনে রাখে এটা ১৯৭৫ সাল নয়, এটা ২০১৬ সাল। বঙ্গবন্ধুকে তারা হত্যা করতে পেরেছিল। বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও আজ তারা অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু এই ষড়যন্ত্রের হাত ভেঙ্গে দেয়ার জন্য এবং পাকিস্তান ও তাদের এদেশীয় প্রতিভূদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার জন্য বাংলাদেশের মানুষ আজ সজাগ, প্রস্তুত ও ঐক্যবদ্ধ। পাকিস্তানের কোন আচরণই বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হবে না। এই শক্তি এতদিনে বাংলাদেশ অর্জন করেছে। শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের ১৩তম শ্রেষ্ঠ চিন্তক ও রাষ্ট্রনায়ক। অর্থনৈতিক সামাজিক সব ক্ষেত্রে এখন পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক উর্ধে। বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের সকল অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থান পাকিস্তানের থেকে অনেক শক্তিশালী। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি এ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সভাপতি যথাক্রমে স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। পঁচাত্তর পর্যন্ত বাংলাদেশের বিরোধিতাকারী দেশ চীন এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল হয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী জামায়াতীদের মিথ্যা প্রচার আজ ভূলুণ্ঠিত। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সকল দেশের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের সম্পর্ক পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক উন্নত ও সুদৃঢ়। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে পাকিস্তান আজ বিচ্ছিন্ন ও একা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ কয়েকদিন আগে বলেছেন, পাকিস্তান এখন জঙ্গী উৎপাদনের কারখানা। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য ট্র্যাজেডি হলো- পাকিস্তান যখন ঔদ্ধত্য ও ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করছে ঠিক তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলছে বিএনপি। পাকিস্তানের সাবেক এক কূটনীতিক মিয়া আফরাসিফ কোরেশী, যিনি এক সময় ঢাকায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন, তিনি একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম - ১৯৭১: ঋধপঃ ধহফ ঋরপঃরড়হ. পাকিস্তানীদের চিরাচরিত ভ-ামি ও মিথ্যাচারে বইটি পরিপূর্ণ। বইটি পড়লে বোঝা যায় লেখক উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করার জন্য এই বই লিখেছেন। তিনি ঢাকায় রাষ্ট্রদূত ছিলেন ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর খালেদা জিয়া সম্প্রতি একাত্তরের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গয়েশ্বর রায় বলেছেন একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধ ছিলেন। পঁচাত্তরে ষড়যন্ত্র করে এরা জয়ী হয়েছিল। কিন্তু এখন ডিজিটাল যুগে মিথ্যাচার ও ভ-ামির জায়গা হবে না। ষড়যন্ত্র জমবে না। বাঙালী আবার জেগেছে। তাই ষড়যন্ত্র করে কাজ হবে না, সত্যের জয় সুনিশ্চিত। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সে যাত্রা ২০০৯ সালে শুরু হয়ে এখনও অব্যাহত আছে সেটা পাকিস্তানের প্রতিভূরা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। পাকিস্তান ও তাদের এদেশীয় দোসরদের আরেকবার একাত্তরের মতো পরাজিত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।

লেখক : ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক