১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

যশোরে আন্তর্জাতিক মানের শিল্পকলা একাডেমি


স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরে সাংস্কৃতিক কর্মকা- বিকাশে শিল্পকলা একাডেমিতে ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে মিলনায়তন নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে একনেকে এই বরাদ্দ পাস হয়েছে। অচিরেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে শুরু হবে নির্মাণ কাজ। আর আন্তর্জাতিকমানের হল নির্মাণ হলে এই জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকা- প্রসারে অনেক সমস্যাই দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাহামুদ হাসান বুলু বলেন, সম্প্রতি একনেকের সভায় যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক মানের মিলনাতয়ন নির্মাণের জন্য ৩ কোটি ২২ লাখ টাকার বরাদ্দ পাস হয়েছে। খুব শিগগির নির্মাণ কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন মিলনাতয়ন চালু হলে এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে।

এ্যাডভোকেট মাহামুদ হাসান বুলু বলেন, প্রতিবছর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই বরাদ্দের ১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয় জেলার ৫ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদানে। বাকি টাকা বিভিন্ন কর্মসূচীতে ব্যয় করা হয়। এছাড়াও কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মসূচীতে জেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। যেমন ঢাকায় সাংস্কৃতিক উৎসবে জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠগুলো অংশগ্রহণ করবে। এজন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫-২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৪ জেলায় চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এজন্য প্রত্যেকটি শিল্পকলা একাডেমিকে একটি করে প্রজেক্টর দেয়া হয়েছে। সাংস্কৃতিকবান্ধব সরকার হিসেবে বর্তমান সরকারের আমলে শিল্পকলায় বরাদ্দ বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্পকলা একাডেমির সরকারী বরাদ্দের পাশাপাশি নিজস্ব আয়ের উৎস আছে। শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন (হল) ভাড়ায় ৩জন অস্থায়ী কর্মচারীর বেতনের ব্যবস্থা করা হয়। যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে কোন সঙ্কট নেই। একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পকলা একাডেমি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি গতিশীল। শিল্পকলার কার্যক্রমকে আরও বেশি গতিশীল করার চিন্তা করা হচ্ছে। জেলা কালচারাল অফিসার হায়দার আলী জানান, শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় দিবসের সকল কর্মসূচী পালন করা হয়ে থাকে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নানা কর্মসূচীতে যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে। যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪ লাখ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ৫টি বিভাগ চালু রয়েছে। এরমধ্যে চারুকলায় ৬০ জন, সঙ্গীতে ২৮ জন, তবলায় ৬ জন, নাটক ও আবৃতিতে ১১ জন, নৃত্যে ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের পাঠদানের জন্য ৮ জন প্রশিক্ষক ও ২ জন তালযন্ত্র সহকারী চুক্তিভিত্তিক কর্মরত আছেন।

সূত্রমতে, ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি। শুরু থেকে নানা সঙ্কট ছিল। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিল্পকলা একাডেমিতে পরিবর্তন এসেছে। ২০১১ সালে যশোর শিল্পকলা একাডেমির নতুন ভবন চালু হয়। জেলার সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের দক্ষ সংগঠকদের নেতৃত্বে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কমিটি গঠন করা হয়। নির্বাচিত কমিটির যুগোপযোগী নানা সিদ্ধান্তে গতিশীল হয়েছে শিল্পকলা একাডেমি।

সাংস্কৃতিক সংগঠক সুকুমার দাস বলেন, অতীতের যেকোন সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিল্পকলা একাডেমির উন্নয়নে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি সাংস্কৃতিক বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে আর্থিক সঙ্কটে কোন কর্মসূচী হয়নি, এমন নজির নেই। সবকিছু সম্ভব হচ্ছে নির্বাচিত কমিটি ও সরকারের আন্তরিকতায়।