২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পে স্কেল সংশোধন করা হচ্ছে চলতি মাসেই


পে স্কেল সংশোধন করা হচ্ছে চলতি মাসেই

এম শাহজাহান ॥ প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই পে স্কেল সংশোধন করা হচ্ছে। তবে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল আর পুনর্বহাল করা হচ্ছে না। বিভিন্ন পেশাজীবীর বেতন বৈষম্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। বেতন-ভাতা নিয়ে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটি ইতোমধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন, ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন, প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি ও ২৬ ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে তাদের দাবি দাওয়াগুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। সচিব কমিটি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নতুন বেতন কাঠামোয় বৈষম্য নিরসনের উপায়গুলো চিহ্নিত করে সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, টাইমস্কেলের বিকল্প হিসেবে পদোন্নতির বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কিভাবে পে স্কেলের সৃষ্ট বৈষম্য দূর করা যায় তা নিয়ে বিভিন্ন অধিদফতর ও সংস্থা প্রধানরা সুপারিশ তৈরি করছেন। এছাড়া বেতন স্কেল সমন্বয়ের জন্য বিশেষ ইনক্রিমেন্ট দেয়া হতে পারে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বলে দেয়া হয়েছে কীভাবে তাদের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায় সে বিষয়ে সুপারিশ দিতে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, পে স্কেল সংশোধন ও সমন্বয় করে সৃষ্ট জটিলতা দূর করা হচ্ছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল পুনর্বহাল করার আর কোন সুযোগ নেই। তবে কেউ যাতে বঞ্চিত না হয় সেজন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা সবার উপরে। পে স্কেলের সঙ্গে মর্যাদার বিষয়টি জড়িত নয়। এটি গত তিন বছর আগেই সমাধান হয়ে গেছে। তিনি বলেন, কেউ যাতে বঞ্চিত না হয় সেভাবেই বেতন কাঠামো সংশোধন করা হবে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে অষ্টম পে স্কেলের গেজেটে বলা হয়, কোন স্থায়ী কর্মচারী তাঁর চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্তির পর পরবর্তী ছয় বছর পদোন্নতি প্রাপ্ত না হলে ৭ম বছরে চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হবেন। বেতন স্কেলের চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে এবং চতুর্থ গ্রেড বা তদুর্ধ গ্রেডের কোন কর্মচারী এই সুবিধা গ্রহণপূর্বক এই আদেশের অধীন তৃতীয় গ্রেড বা তদুর্ধ গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হবেন না। এছাড়া কোন কর্মচারী দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড বা স্কেল উচ্চতর স্কেল বা কোন স্কেলের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছাবার এক বছর পর পরবর্তী উচ্চতর স্কেল প্রাপ্ত হয়েছেন তিনি উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন না।

শুধু তাই নয়, গেজেটে গত ১৫ ডিসেম্বর হতে সিলেকশন গ্রেড স্কেল উচ্চতর স্কেল বা কোন স্কেলের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছাবার এক বছর পর পরবর্তী উচ্চতর বা টাইমস্কেল প্রদান সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিকল্প সুবিধা হিসেবে নির্ধারিত একটি সময় অন্তর নবম থেকে তদুর্ধ চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে একধাপ ওপরে ওঠার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মচারীদের চাকরি জীবনে দু’টি পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার পরপরই বেতন গ্রেড স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপরে উঠবে এক ধাপ। এর ছয় বছর পর অর্থাৎ চাকরির মেয়াদ ১৬ বছর পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড আরেকবার এক ধাপ উপরে উঠবে। এ ছাড়া সিনিয়র সচিবদের সমান বেতন নির্ধারণ করা হতে পারে জাতীয় অধ্যাপকদের জন্য।

এদিকে, জটিলতা নিরসনে সচিব কমিটি গঠনের পর উভয় পক্ষের একাধিক বৈঠকের পর তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে। উভয় পক্ষের আলোচনায় সচিব কমিটি সংশ্লিষ্ট ক্যাডারদের কাছ থেকে সুপারিশ চাইলে তারা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয়। এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবির পাশাপাশি নতুন অনুমোদিত অষ্টম পে স্কেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মর্যাদার অবনমনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। বৈষম্য দূর করে সর্বোচ্চ পদ নির্বাহী পরিচালককে গ্রেড-১ এবং প্রবেশ পদ সহকারী পরিচালককে ৮ম গ্রেড করার দাবি জানান তারা।

এদিকে, ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো সার সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরির মেয়াদ তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পর অষ্টম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার বেতন স্কেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সপ্তম গ্রেডে চলে যাবে। চার বছর পূর্ণ হলে সেখান থেকে উন্নীত হবেন ৬ষ্ঠ গ্রেডে। পাঁচ বছর পূর্ণ হলে তিনি ৬ষ্ঠ থেকে উন্নীত হবেন ৫ম গ্রেডে। ১০ বছর চাকরির পর ওই কর্মকর্তা পঞ্চম থেকে ৪র্থ গ্রেডে উন্নীত হবেন।

একই ভাবে চতুর্থ গ্রেডে চাকরির মেয়াদ ১২ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তার গ্রেড পরিবর্তন হয়ে ৩য় গ্রেডে উঠবে। আবার তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় গ্রেডে যেতে পূর্ণ করতে হবে ১৪ বছর। একই ভাবে ১৭ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ওই কর্মকর্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রথম গ্রেডে উন্নীত হবেন। তবে চতুর্থ গ্রেডের পর থেকে পদোন্নতি হবে পদশূন্যতার বিবেচনায়। প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন করা হয়। আর গত ১৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতে এই বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: