২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

গণতন্ত্রের পথে


মিয়ানমারে গণতন্ত্রের নতুন যুগের সূচনা হলো। পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে সামরিক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশটির শান্তিকামী মানুষ যে নতুন মিয়ানমারের স্বপ্ন বুনছিল, তার একধাপ অগ্রগতি হয়েছে নির্বাচিত সদস্যদের পার্লামেন্ট অধিবেশনে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে। ২৫ বছর পরে গত নবেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি ছিল দেশটির ইতিহাসে প্রথম কোন গণতান্ত্রিক নির্বাচন। নির্বাচনে দেশের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সুচির দল এনএলডি ৮০ শতাংশ আসনে জয়ী হয়। এর আগে ১৯৯০ সালের নির্বাচনেও সুচির দল নিরঙ্কুশ বিজয় পায়। তবে সে নির্বাচনের পরই তা প্রত্যাখ্যান করে দেশটির সামরিক বাহিনী। তবে এবারের নির্র্বাচনের মৌলিক অর্জন হলো সামরিক বাহিনী তা মেনে নিয়েছে। একই সঙ্গে সুচিকে অভূতপূর্ব সম্মান দেখিয়ে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের নিশ্চয়তা দিয়েছে জান্তা সরকার। সুচিও সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ধারণা করা যায় শাান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রের পথে পা বাড়াচ্ছে মিয়ানমার। তবে ৭০ বছর বয়সী গণতন্ত্রপন্থী সুচির প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রতিবন্ধকতা, নির্বাচিত এমপিদের অধিকাংশের অনভিজ্ঞতাও জান্তা সরকারের কবল থেকে পুুরোপুরি মুক্ত হতে না পারাÑ সবমিলিয়ে সুচির সামনে পড়ে রয়েছে কাঁটা বিছানো কঠিন পথ। গণতন্ত্রের এ উন্মেষ কী মিয়ানমারের নির্যাতিত ও অমানবিক বৈষম্যের শিকার সংখ্যালঘুু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য কোন সুখবর নিয়ে আসবে; নাকি তাদের ভাগ্য অপরিবর্তিতই থেকে যাবেÑ এ প্রশ্নকে সামনে তুলে এনেছে। সুচি অবশ্য রাখাইন রাজ্যের সবচেয়ে নিষ্পেষিত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এড়িয়ে যান।

সুচির সামনে এমনিতেই অনেক চ্যালেঞ্জ। জান্তা সরকারের আমলে দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শক্তপোক্ত অবস্থানে। মার্কিনীদের সঙ্গে বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। যা এখন মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া দারিদ্র্য ও দেশটিকে আঁকড়ে রেখেছে অনেক আগে থেকেই। এরই মধ্যে নয়া সরকারের গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে পেরেছেন সুচি। কিন্তু কে হচ্ছেন দেশের প্রেসিডেন্ট, এ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। জান্তা সরকারের সংবিধান সংস্কারের কবলে পড়ে প্রেসিডেন্ট হতে পারছেন না সুচি। সেজন্য তা সংস্কার ছাড়া সুচির কাছে কোন পথ খোলা নেই। তা না হলে অন্য কাউকে প্রেসিডেন্ট বানাতে হবে, তবে সেজন্য মার্চের শেষ নাগাদ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এমনিতে পার্লামেন্টের ১৬৬ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকায় সুচির পিছু ছাড়ছে না সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। পার্লামেন্টে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সুচির ও সেনা সদস্যের মধ্যে মেলবন্ধন না হলে আইনী প্রণয়নে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে তাকে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষে শতকরা ২৫ ভাগ আসন সংরক্ষিত রেখে সেনাবাহিনী সংবিধান সংশোধনে কতটা সহায়তা দেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ১৯৬২ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এবারই প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পার্লামেন্টে নেতৃত্বের আসনে বসে মিয়ানমারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবেন কিনা, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সুচির সরকারের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটবে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এপ্রিলে। দেশের প্রায় সোয়া পাঁচ কোটি মানুুষের প্রত্যাশার পাহাড়ও বড় হচ্ছে। তারা চায় সামরিক শাসনের যাঁতাকলে স্থবির হয়ে যাওয়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার থেকে শুরু করে জাতিগত সংঘাতে অস্থিতিশীল হয়ে পড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হবে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশও চায় গণতন্ত্রের পথে যাবে মিয়ানমার।