২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

চট্টগ্রামে নৌবাহিনী নাবিক কলোনি মসজিদে ককটেল বিস্ফোরণ


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির নাবিক কলোনি এলাকায়। নৌবাহিনী হাসপাতাল সংলগ্ন স্থানে মসজিদটির অবস্থান। বোমাগুলো বিস্ফোরণের পর মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এ ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত করে কোন তথ্য প্রদান করেনি দায়িত্বশীল কোন সংস্থা। তবে এতে অন্তত ৬ জন আহত এবং বোমাবহনকারী ২ জন আটক হয়েছে বলে জানা গেছে পুলিশের একটি সূত্রে। জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পরে ঘটে

বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা। হামলাকারীরা আত্মঘাতী কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দুজনকে আটক করেছে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া সাধারণ মানুষ। আটকের পর তাদের হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য এ প্রসঙ্গে জানান, মসজিদের বারান্দায় বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। সেখানে তিনটি বোমা বিস্ফোরিত হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এতে অন্তত ছয় জন আহত হয়েছেন বলে জেনেছি। হামলাকারীদের মধ্যে দুজন আটক হওয়ার খবর জানা গেলেও আহতদের মধ্যে এ দুজনও রয়েছে কিনা তা তিনি নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি। তবে তারা র‌্যাব হেফাজতে রয়েছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এটি কোন জঙ্গী হামলা কিনা এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনা সম্পর্কে এর বেশি তথ্য আমার কাছে নেই। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে সবকিছু বেরিয়ে আসবে।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পর বিএনএস ঈশা খাঁ গেটে সাংবাদিক ছাড়াও উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। তবে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেননি। সকলকে আটকে দেয়া হয় ঘাঁটির মূল ফটক ও হাসপাতাল গেট এলাকায়। পুলিশকেও অবস্থান করতে হয় গেটের বাইরে। তবে সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল ম-লসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক কর্মকর্তা ভেতরে ঢোকেন। কিন্তু তারাও এ প্রসঙ্গে কোন তথ্য প্রদান করেননি।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) হারুনুর রশিদ হাজারীও জুমার নামাজের পর মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনিও এর বেশি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, নাশকতা ও জঙ্গীবাদী তৎপরতার আশঙ্কায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে অতি সম্প্রতি নিরাপত্তা জোরদারে সক্রিয় হয়েছে পুলিশ। যেসব প্রতিষ্ঠানকে এর আওতায় আনা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মসজিদ, মাজার, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডা। ইতোমধ্যেই নগরীর বেশ কয়েকটি মাজার ও গীর্জায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। গত দুই মাসে বেশ কয়েকজন বিদেশী নাগরিক দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত ও নিহত হওয়ার পর নড়েচড়ে উঠেছে পুলিশ। চট্টগ্রামে ইপিজেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনেক বিদেশী নাগরিক থাকায় পুলিশকে এ উদ্যোগ নিতে