২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ আশরাফসহ আসামিরা চাচা ইয়াদ আলীকে হত্যা করে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামালপুরের আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেনসহ ৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ৮ম সাক্ষী মোঃ শহিদুর রহমান ভুইয়া, ৯ম সাক্ষী আব্দুল হামিদ এ্যাডভোকেট ও ১০ম সাক্ষী মোঃ ফজলুল হক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দীতে ১০ম সাক্ষী মোঃ মোঃ ফজলুল হক বলেছেন, বদর বাহিনীর সদস্য আশরাফসহ অন্যান্য আসামি আমার চাচা ইয়াদ আলী ম-লকে গুলি করে হত্যা করেছে। এ ছাড়া হামিদ মোক্তারকে ধরের নিয়ে যায়। পাকিস্তানি আর্মিরা শ্মশান ঘাটে তাকেও গুলি করে হত্যা করে। সাক্ষীদের জবানবন্দী শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাদের জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক ছুটিতে রয়েছেন। এ সময় সাক্ষীকে সাক্ষ্যদানে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল, প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান তরফদার ও এ্যাডভোকেট এস এম মিজানুর রহমান। ১০ম সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন , আমার নাম মোঃ ফজলুল হক । আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৭২ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম- মহিষাভাদুরিয়া, থানা- সরিষাবাড়ি জেলা-জামালপুর। একাত্তরের আমার বয়স ছিল ২৭-২৮ বছর। তখন আমি পাটের ব্যবসা করতাম। আমি বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছি। ১৯৭১ সালের ৭ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার পর হামিদ মোক্তার সাহেব তার বাড়ির উঠানে ৭০-৮০ জন নিয়ে রেডিও শুনছিলেন। ও রাজনৈতিক আলোচনা করছিলেন। আমি ওই উঠানের পশ্চিম পাশের ঘরের ভেতরে টেবিলে শুয়ে বিবিসির সংবাদ শুনছিলাম। রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে বদর বাহিনী ও পাকিস্তানী আর্মিরা এসে আমাদের চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে। ওই দিন জোৎস্না রাত ছিল। আমি ঘরে শুয়ে ছিলাম। ঘরের দরাজা খোলা ছিল। আমি বদর বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আশরাফ মান্নান, বারী, হারুন, খালেক ও নাটুকে চিনতে পারি। সাক্ষী আরও বলেন, আমি ও রাজাকাররা যখন আমার ঘরের ভিতরে আসছিল তখন আমি প্রথমে বাড়ির পশ্চিম দিক দিয়ে বেরিয়ে দক্ষিণে জঙ্গলের দিকে চলে যাই। আমি এক মাইল দূরে গিয়ে পাট ক্ষেতে লুকিয়ে থাকি।

অপর দিকে ৮ম সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেছেন, আমার নাম মোঃ শহিদুর রহমান ভুইয়া। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬৯ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম ধোপাদহ, থানা সরিষাবাড়ি, জেলা- জামালপুর। বর্তমানে ২.৬০৩ ইস্টার্ন পয়েন্ট, ৮, ৯ শান্তিনগর ঢাকা।

সাক্ষী তার জবানবন্দীতে আরও বলেন, একাত্তরের ৭ জুলাই আমি ধোপাদহ গ্রামের নিজ বাড়িতে ছিলাম। দিন রাত আনুমানিক সাড়ে দশটায় আমার বাড়ির দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে একটি গুলির শব্দ শুনতে পাই। গুলির শব্দ শুনে আমরা সতর্ক হয়ে যাই। কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা টের পাই যে, পাকিস্তানী আর্মি এবং আলবদররা আমাদের বাড়ি ঘেরাও করেছে। আমি টের পেয়ে আমাদের বাড়ির পশ্চিম দিকের ডোবা ও পাট ক্ষেতে লুকানোর জন্য বাড়ি থেকে দৌড় দেই। এ সময় কেউ একজন আলবদর বা পাকিস্তানী সেনা আমাকে ধরার জন্য আমার পরনের পাঞ্জাবি টেনে ধরে। আমি দৌড়ে ডোবার মধ্যে লাফ দেই এবং পাঞ্জাবিটা ছিড়ে যায়। ভাইয়ের কাছ থেকে আমি জানতে পারি, আব্দুর হামিদ মোক্তারের আপন ভাতিজা ইয়াদ আলী ওরফে শুকরুকে গুলি করে মেরে ফেলেছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: