২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

২৩৪ পৌরসভায় চূড়ান্ত মেয়র প্রার্থী ৯২৩


স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রত্যাহারের শেষ দিনে ১৬২ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেও এখন বিপুলসংখ্যক মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ২৩৪ পৌরসভায় চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৯২৩ মেয়র প্রার্থী। গড় হিসেবে প্রতি পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় চারজনে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ২৩৪ প্রার্থী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অপরদিকে বিএনপির এ সংখ্যা রয়েছে ২২০। এছাড়া প্রত্যাহারের শেষ দিনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩। বিএনপি প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা লড়ছেন লাঙ্গল প্রতীকে। এদিকে প্রত্যাহারের পর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমস্যা রয়েছে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে এসব বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের হিসাবে প্রভাব ফেলতে পারে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ৭ বিভাগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে ৯০ জন। অপরদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ৩০ জনের মতো রয়েছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছে ৩১, রংপুর বিভাগে ৭, রাজশাহীতে ১৬, খুলনা বিভাগে ১৭ এবং বরিশাল বিভাগে দুই জন। অপরদিকে ঢাকা বিভাগে বিএনপির বিদ্রোহী রয়েছে ৭, রাজশাহী বিভাগে ১৩ এবং খুলনা বিভাগে রয়েছে মাত্র দুই জন।

এছাড়া কমিশনের হিসাব অনুযায়ী ২৭১ মেয়র প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রবিবার প্রত্যাহারের শেষ দিনে ১৬২ স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। যদিও এদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে শেষ দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেও এখন দুদলের শতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক চেষ্টা করেও দুদলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী এ দুদলের ১২০ প্রার্থী বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। এ কারণে এখনও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দুদলের মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে।

ঢাকা বিভাগে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রত্যাহারের শেষে ঢাকা বিভাগে মোট ৩১ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে এ বিভাগে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে মাত্র ৭ জন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরে ১ জন, গোপালপুরে ১, কালিহাতীতে ১, জামালপুরের ইসলামপুরে ১, দেয়ানগঞ্জে ১, শেরপুরের নালিতাবাড়িতে ১, নকলায় ১, ময়মনসিংহের গৌরীপুর ৯ পৌরসভায় ৬, নেত্রকোনা মদনে ১, মোহনগঞ্জে ১, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ১, বাজিতপুরে ১, করিমগঞ্জে ১, মানিকগঞ্জে সিংগাইর এবং সদরে ১ জন করে, নংরসিংদীতে ১, নারায়গঞ্জে সোনারগাঁয়ে ১, ফরিদপুরের বোয়ালমারিতে ১, নগরকান্দায় ১, মাদারীপুরের কালকিনিতে ৩ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। অপরদিকে ঢাকা বিভাগে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইলের সখীপুরে ১, শেরপুরের নালিতাবাড়িতে ১, শ্রবিরদীতে ১, ময়মনসিংহের ৯ পৌরসভায় ২, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ১, নরসিংদীর মনোহরদীতে ১, নারায়ণগঞ্জের তারাবোতে ১ জন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী রংপুর বিভাগের বিএনপির কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগের একাধিক পৌরসভায় এখন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে গেছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী রংপুর বিভাগে এখনও আওয়ামী লীগের ৭ জন প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁও সদরে ১, দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে ১, বিরামপুরে ১, নীলফামারীর জলঢাকায় ১ ও গাইাবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আওয়ামী লীগের ৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে গেছে।

রাজশাহী বিভাগের উভয় দলের বিদ্রোহী উভয় দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের এখানও ১৫ প্রার্থী বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া এ বিভাগের বিএনপির বিদ্রোহী রয়েছে বিএনপির ১৩ প্রার্থী বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদী বাদে বাকি ৫ পৌরসভায় উভয় দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২টি বিএনপি, রাজশাহীর তিনটি বিএনপি, একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নাটোরের দুটিতে বিএনপি ও সিরাজগঞ্জের একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

খুলনা বিভাগে বিএনপির মাত্র দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগের রয়েছে ১৭ জন বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার মিরপুরে ১, কুমারখালীতে ১, খোকসাতে ১, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ১ জন ও সদরে ১ জন, ঝিনাইদনের শৈলকুপায় ১ জন, যশোরের মনিরামপুর ও চৌগাচায় ১ জন করে, নড়াইলের ২ পৌরসভায় ৬ জন, বাগেরহাট সদরে ১ জন, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। অপরদিকে বিএনপি রয়েছে মাত্র যশোরের বাঘারপাড়া নড়াইলের কালিয়ায় ১ জন করে।

এদিকে বরিশাল বিভাগেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা রয়েছে মাত্র ২ জন। অপরদিকে বিএনপির কোন বিদ্রোহী প্রার্থী এ বিভাগে নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বরগুনার সদরে আওয়ামী লীগের দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া আর কোন পৌরসভায় কোন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।

ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কার করে চিঠি দেয়া হয়েছে। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন প্রত্যাহারের শেষ দিনে যারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি তাদের বহিষ্কারের চিঠি দেয়া হচ্ছে। প্রথমে সাময়িকভাবে তাদের বহিষ্কারের চিঠি দেয়া হবে। এরপর তাদের চিরতরে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। জানা গেছে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম থাকলে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যদি প্রকাশে এ বিষয়ে দল থেকে কিছু না বললে জানা গেছে তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্ককারের চিঠি দেয়া হচ্ছে।