মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

চাঁপাইয়ের শহরতলীতে অবৈধ বহুতল ভবন

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ গ্রামীণ জনপদে হঠাৎ করেই পরিকল্পনাবিহীন বহুতলা ভবন তৈরির হিড়িক পড়ে গেছে। জেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের গ্রামে এসব ভবন নির্মাণ করায় ভয়াবহ হুমকির মুখে রয়েছে পার্শ্ববর্তী এলাকার গরিব মানুষজন। হঠাৎ করে অর্থের পাহাড় জমে যাবার কারণে এসব ভবন নির্মাণ হচ্ছে। অনেকে প্রত্যন্ত নির্জন গ্রামের মধ্যে রিসোর্ট টাইপের প্রাসাদ তৈরি করার প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর বীরশ্রেষ্ঠ সেতুর অপর পার থেকে একেবারে সোনামসজিদ বন্দর পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারসহ গ্রামের একাধিক স্থানে এসব বহুতল ভবন নির্মাণ করায় পরিবেশগতভাবেও মফস্বল অঞ্চলে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জেলা শহর অর্থাৎ আবাসন এরিয়াতে যে কোন বাড়িঘর কিংবা মার্কেট বানাতে হলে কর্পোরেশন বা পৌরসভার অনুমোদন নিতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল শাখা অনুমতির জন্য আবেদন পাওয়া মাত্র মাঠে নেমে সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে অনুমতি দিয়ে থাকে সাধারণ ও বহুতল ভবন বা মার্কেট নির্মাণের। ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত গ্রামাঞ্চলে এসবের কোন বালাই নেই। ইচ্ছে হওয়া মাত্র রাজমিস্ত্রির পরামর্শে ভবন নির্মাণ করে নিচ্ছে। ডিজাইন বলতেও কিছু নেই। এমনকি কি ধরনের কি পরিমাণ রড়, ইট, সিমেন্ট, খোয়া ব্যবহার হবে তারও কোন প্রকৌশলগত ভিত্তি নেই এসব বহুতল ভবন নির্মাণে। যারা এসব ভবন বা মার্কেট নির্মাণ করছে তাদের মধ্যে রয়েছে বড় বড় চোরাকারবারি, সিএ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী ও বিদেশ থাকা অর্থে রাতারাতি ভবন নির্মাণ করে ফেলছে। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানকারী দিনমজুরসহ নানান ধরনের টেকনিক্যাল কাজে মোটা অর্থ আয় করে দেশে আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠাচ্ছে তারা। এখানে অবস্থানকালে তাদের কোন বাড়িঘর তেমনভাবে ছিল না। তাই এদের লক্ষ্য থাকে পাকা বাড়ি করার। শুধু পাকা নয় বহুতল ভবন। আর এসব কারণেই ইউনিয়ন অধীন গ্রাম পর্যায়ে বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়ে গেছে। অপরিকল্পিত এসব ভবন নির্মাণের বড় বড় ত্রুটি থাকার কারণে নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যে ফেটে যাচ্ছে কিংবা বসে যাচ্ছে। যারা বহুতল করেছে তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। যে কোন ধরনের বড় ভূমিকম্প হলে এই মুহূর্তে শহরের চেয়ে পরিকল্পনাবিহীন গ্রামাঞ্চলের পাকা বাড়ি ও বহুতল ভবন ধসে বা বসে গিয়ে বহু প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের যে কোন রাস্তার মোড়ে অধিকহারে বহুতল মার্কেট করা হচ্ছে। কানসাটসহ প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের মার্কেটের সংখ্যা খুবই বেশি।

পরিকল্পনাবিহীন ভবন নির্মাণ রুখে দিতে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এলজিডির মাধ্যমে প্রকৌশল শাখা খোলা হলে সরকারও লাভবান হবে। বাড়িঘর দোকানপাট ও মার্কেট নির্মাণের নক্সা অনুমোদন ফি বাবদ মোটা অংকের অর্থ সরকারের রাজস্ব আসবে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণে বাধা আসায় ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হবে মালিকরা। একই সঙ্গে বহুতল ভবন বা মার্কেট নির্মাণ পরবর্তী কোন ধরনের ঝুঁকি থাকবে না।

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৫

৩১/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ:
রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি মিয়ানমারের ॥ সমাধান ওদের হাতে || বাবার ফেরার অপেক্ষায় পিতৃহারা অবোধ রোহিঙ্গা শিশুরা || বছরে রফতানি আয় বাড়ছে ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার || চালের বাজারে স্বস্তি প্রতিদিন দাম কমছে || বিদ্যুতের পাইকারি দর ১১.৭৮ ভাগ বৃদ্ধির সুপারিশ || মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিষদের ওপর || রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্য সেবায় ২৫ কোটি ডলার চেয়েছে বাংলাদেশ || আরও মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক || অপকৌশলে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা, বিপুল অর্থ আদায় || জেলে মাদক ও মোবাইল ফোন ব্যবহার ॥ সারাদেশে দুই শতাধিক কারারক্ষী গোয়েন্দা নজরদারিতে ||