২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মাদারীপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ॥ ধর্ষকের হুমকিতে পরিবার বাড়িছাড়া


নিজস্ব সংবাদদাতা, কালকিনি ও মাদারীপুর, ২৮ অক্টোবর ॥ কালকিনির সাহেবরামপুর ইউনিয়নের ক্রোকিরচর গ্রামের ক্রোকিরচর ইসলামিয়া মহিলা সিনিয়র মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে এক বখাটে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকায় মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে উল্টো ধর্ষিতার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিসহ মারধর করা হয়। ধর্ষকের হুমকি ও প্রভাবশালীদের ভয়ে ধর্ষিতাসহ তার পরিবার নিজ বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কালকিনি থানায় ধর্ষণের মামলা করতে গেলে পুলিশ ‘ধর্ষণের চেষ্টা’র মামলা নিয়েছে বলে ওই ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়।

জানা গেছে, কালকিনির সাহেবরামপুর ইউনিয়নের ক্রোকিরচর গ্রামের ভ্যানচালকের মেয়ে ক্রোকিরচর ইসলামিয়া মহিলা সিনিয়র মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী শুক্রবার দুপুরে বাজারে একটি টেইলার্সের দোকানে নিজের জামা আনতে যায়। পথিমধ্যে একই গ্রামের প্রতিবেশী পূর্বপরিচিত মৃত হানিফ হাওলাদারের ছেলে জাহিদ হাওলাদার (২৭) ও তার বন্ধু একই গ্রামের মুজাহার মীরার ছেলে খলিল মীরা (২৫) অটোভ্যান থামিয়ে ওই ছাত্রীকে বাজারে নামিয়ে দেয়ার কথা বলে অটোভ্যানে তোলে। পরে ক্রোকিরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে শুক্রবার রাতে ধর্ষিতার পরিবার কালকিনি থানায় ধর্ষণের ঘটনাটি জানায়। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃপা সিন্ধু বালা তাদের পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে না পাঠিয়ে মামলা হওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

ধর্ষক জাহিদ হাওলাদারের মামা এলাকার প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী মাহবুব সরদার ও খলিল সরদার ঘটনাটি চাপা দেয়ার জন্য সাহেবরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরকে নিয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যায়। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শনিবার রাতে আবু তাহেরের বাড়িতে সালিশ বসে। সালিশে ধর্ষককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। মীমাংসায় রাজি না হয়ে বিচারের দাবি জানিয়ে সালিশ থেকে চলে যায় ধর্ষিতার পরিবার।

অপরদিকে, ধর্ষিতার পরিবার বার বার থানায় গেলেও মামলা হবে বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে পুলিশ। অবশেষে সাংবাদিকদের চাপের মুখে সোমবার থানায় ধর্ষণের মামলা না নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা মামলা নেয়।

মামলার পর ধর্ষক জাহিদ ও ধর্ষকের সাহায্যকারী খলিলের পরিবারের লোকজন ধর্ষিতার বাড়িতে গিয়ে নানা ধরনের হুমকি দেয়। খলিলের বাবা মুজাহার মীরা ধর্ষিতার বাবাকে মারধর করে। এ সময় ধর্ষিতা ও তার পরিবারের লোকজন প্রাণভয়ে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে পালিয়ে কালকিনি শহরের এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কা দেখা দিলে ধর্ষিতার পরিবার বুধবার সকালে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যায়। পুলিশ সুপার অফিসের কাজে বাইরে থাকায় ধর্ষিতার পরিবার লিখিত অভিযোগটি মাদারীপুরের ডিএসবির ডিআইও-ওয়ান একেএম কামরুল হাসানের কাছে জমা দেন।

কামরুল হাসান বলেন, ‘যেহেতু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা মামলা হবে কেন? এসপি স্যার এলে তাকেও সব জানানো হবে। আশা করছি, ওই ছাত্রী সঠিক বিচার পাবে।’

ধর্ষিতার ভাই বলেন, ‘আমরা শুক্রবার মামলার জন্য যাই। থানায় লিখিত অভিযোগ দেই। কিন্তু তিন দিন পর সোমবার ধর্ষণের মামলা না হয়ে ধর্ষণের চেষ্টা মামলা হয়। আমরা হয়ত এর সঠিক বিচার পাব না। তাছাড়া সালিশিতে বসে ওরা বলে, আমরা গরিব মানুষ। মামলা করে কী হবে। কেউ আমাদের পক্ষে থাকবে না। তাই চুপ থাকার জন্য বলে। ওরা আমাদের মামলা তুলে নেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে।’

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: