২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি জামায়াত নেতাদের


‍স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ জেলায় রামুর ১২টি বৌদ্ধবিহারে অগ্নিসংযোগ ও সংখ্যালঘুর বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সাক্ষীদের জামায়াত নেতারা প্রাণনাশসহ গুম করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৌদ্ধবিহার ধ্বংসযজ্ঞ মামলায় পুলিশ আদালতে চার্জশীট দেয়ার পর আসামিরা সাক্ষীদের এ হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদের অব্যাহত হুমকির মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে একাধিক সাক্ষী। ভিটেবাড়ি গোপনে বিক্রি করে প্রাণ রক্ষা করতে সপরিবারে আত্মগোপন করেছেন রামুর ধ্বংসযজ্ঞ মামলার ১নং সাক্ষী দিলীপ বড়ুয়া। এ ঘটনায় অন্য সাক্ষীরা ভীতসন্ত্রস্ত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। রামু থানা পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি।

সূত্র জানায়, কক্সবাজারে জামায়াত-বিএনপি ক্যাডাররা রামুর বৌদ্ধবিহারে হামলার ঘটনায় দায়ের মামলায় সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের হুমকিতে সাক্ষীদের কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে গেছেন। অনেকে এলাকায় থেকেও মামলার নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হচ্ছে না। রামু থানায় রুজুকৃত এমন একটি মামলায় দুই দিনে (মঙ্গল ও বুধবার) আদালতে হাজির হয়নি কোন সাক্ষী। এসব সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আদালতে হাজির হতে সমন জারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ সাদিকুল ইসলাম তালুকদারের আদালতে ওই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আদালতে সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় সরকারী কৌঁসুলি মমতাজ আহমদ সময়ের প্রার্থনা করলে আদালত আগামী ২২ ও ২৩ নবেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে আবেদন মঞ্জুর করে। এ মামলায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের সাময়িক বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত রোকন শহিদুল হকসহ ৭৪ আসামি রয়েছে। ৬০ আসামি আদালতে হাজির হলেও পলাতক রয়েছে ১৪ জন। এ মামলায় সাক্ষী রয়েছেন ৩৪ জন। এদের মধ্যে ১০ জন সাক্ষ্য দিয়েছে। পিপি মমতাজ আহমদ বলেন, ১০ জন সাক্ষ্য দিলেও ভয়ে বৌদ্ধবিহারের হামলার সঙ্গে জড়িতদের কারও নাম বলেননি সাক্ষীরা। অন্য সাক্ষীরাও আসামিদের হুমকির ভয়ে তটস্থ অবস্থায় রয়েছে।

রামু প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবেক ন্যাপ নেতা এবং ওই মামলার ২৬নং সাক্ষী আমীর হোছাইন হেলালী রবিবার জনকণ্ঠকে বলেন, তিনি বৌদ্ধবিহার মামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী থাকায় চার্জশীটভুক্ত আসামিরা তিনি ও তার ছেলেমেয়েদের হয়রানি করছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনিসহ অন্য সাক্ষীরা।