মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ আগস্ট ২০১৭, ৬ ভাদ্র ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ঢাকার দিনরাত

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫
  • মারুফ রায়হান

ঈদ ছাড়া তিন দিন একসঙ্গে ছুটি পাওয়া বিরল ব্যাপার। দুর্গাপূজা এবং আশুরার মাঝে শুক্রবার পড়ায় এই বিরল প্রাপ্তিই ঘটেছিল। সুযোগটিকে হাতছাড়া করেননি বহু ঢাকাবাসী। তারা ঢাকা ছেড়ে বেড়াতে বেরিয়ে পড়েন। সে গ্রামের বাড়ি হোক, আর পাহাড়-সাগরই হোক, কিংবা হোক চা-বাগান। ফলে কিঞ্চিৎ হলেও ঢাকা হাল্কাও হয়েছিল। আর যারা ঢাকায় ছিলেন তারাও পূর্ণ যানজটহীন না হলেও স্বল্প যানজটময় নগরীতে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ নেন সানন্দচিত্তে।

ঢাকেশ্বরী পূজামণ্ডপে

রাজধানীর প্রতিটি পূজামণ্ডপেই দারুণ ভিড় ছিল কয়েকটা দিন। তার সচিত্র বিবরণ সংবাদপত্রে এসেছে। গত পূজায় নগরীর অন্যতম ‘অভিজাত পূজাস্থল’ বনানীতে গিয়েছিলাম। বিশাল জায়গাজুড়ে সেখানে পূজার নানা আনুষ্ঠানিকতা হয়। পাশে সুপরিসর মঞ্চ নির্মিত হয় গানবাজনার জন্য। দেশখ্যাত শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এই পূজামণ্ডপেই বেশি ভিআইপি আসেন। এবার কলাবাগানের পূজামণ্ডপে যথেষ্ট লোকসমাগম হয়েছিল। আয়োজনও ছিল সুন্দর। এবার এ দুটো পূজামণ্ডপে যাওয়া হয়নি। গিয়েছি পুরনো ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। বুধবার সন্ধ্যায় দেখলাম চারদিকের রাস্তা উপচেপড়া ভিড়। ভিড় ঠেলে মন্দিরের কাছাকাছি পৌঁছানো সহজ নয়। মন্দিরে ঢোকার পথটিও অপরিসর। তার ওপর আগমন ও প্রস্থান- দু’ ধরনের মানুষের জন্য একই পথ, মাঝখানে বাঁশের বিভাজকও নেই। তবু ডানে ও বামে দুটি জনস্রোত চলছে। কোন ধাক্কাধাক্কি নেই। যদিও গায়ে গা লাগা অবস্থা। নারী-পুরুষ পাশাপাশি চলেছেন সুশৃঙ্খলভাবে, কোথাও কোন অসুন্দরতা নেই। হিজাব পরিহিতা নানা বয়সী নারীরা নিশ্চিন্তে পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখছেন। সেলফি তোলার হিড়িকও বেশ। মাইকে সিসি ক্যামেরা সংক্রান্ত ঘোষণা দান চলছে থেমে থেমে। আলোকসজ্জার কাজ নয়নকাড়া। ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ বাণীসংবলিত বোর্ড রয়েছে একাধিক। পূজাপ্রাঙ্গণের প্রবেশদ্বারে কয়েকজন পুলিশকে দেখলাম খোশগল্পরত। যেন তারাও এসেছেন দেবীদর্শনে। কিছুক্ষণের মধ্যে ওয়াকিটকি হাতে সাদা পোশাকে একজন এলেন এবং পুলিশদের এই ঢিলেঢালা ভাব দেখে মৃদু ভর্ৎসনা করলেন। এরপরই সবাই তৎপর হয়ে উঠলেন। এক তরুণকে আটকানো হলো। তার পেছনের দিকে বেল্ট এমন কষে ধরা হলো যে তরুণটি চাইলেও বিশেষ নড়াচড়া করতে পারবে না। দেহতল্লাশি করা হলো তার। তারপর ছেড়ে দেয়া হলো। শ্মশ্রুম-িত পুলিশ সদস্যটির দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালে তিনি হেসে বললেন, ছেলেটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ধরলাম।

ভাবছিলাম পুলিশকে পুলিশের কাজ করতে দিতে হবে। পাশাপাশি এমন কথাও মনে এলো, নিরপরাধ ব্যক্তি পুলিশের হাতে এ জাতীয় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলে তার মনের ভেতর কী প্রতিক্রিয়া হয়! তরুণটি অবশ্য একদম উচ্চবাচ্য করেনি, কোন বাধাও দেয়নি। পুলিশের তল্লাশিশেষে নির্বিকারভাবেই হেঁটে চলে গেল। তার মনে ছোটখাটো কুমতলব ছিল কি? যাহোক, অতদূর নাই বা ভাবলাম। তার চেয়ে বরং মিষ্টির দোকানগুলোর কাছে যাওয়া যাক। কত রকমের মিষ্টি সজিয়েই না বসেছেন বেশ ক’জন মিষ্টিবিক্রেতা। সেইসঙ্গে মুড়িমুড়কি, কদমা-বাতাসা-মুরলি সব আছে। ক্রেতারও কোন কমতি নেই। সত্যি এক জমজমাট উৎসব।

হোসেনী দালানে বোমা হামলা!

ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে হোসেনী দালানের দূরত্ব খুব বেশি নয়। এ বছর প্রতিমা বিসর্জনযাত্রা ও ঐতিহ্যম-িত তাজিয়া মিছিল একই দিন (গত শনিবার) পড়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের প্রতি নির্দেশনা ছিল একই সময়ে একই সড়ক ব্যবহার না করার। ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য বাংলাদেশের বিশেষ সুনাম রয়েছে। অভিন্ন সড়কে দুর্গাপ্রতিমা এবং তাজিয়া নিয়ে যাত্রা করা দুটি ভিন্ন মানবমিছিল একে অপরটির প্রতি কোন বিরূপ আচরণ করার শঙ্কা অমূলক বলেই মনে হয়। মসজিদের খুবই কাছে পূজাম-প নির্মাণের দৃষ্টান্ত বিশ্বে শুধুমাত্র আমাদের দেশেই রয়েছে। তবু প্রশাসন থেকে ছিল প্রথাগত রুটিনমাফিক সতর্কতা। অপরাজনীতি এসে ধর্মপালনের ওপর হামলে পড়ার কিছু উদাহরণ সত্ত্বেও আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘেœ পালন করে থাকে। এক ধর্মের অনুষ্ঠানে অপর ধর্মাবলম্বীরাও যোগ দিয়ে থাকে। একটু আগেই বলেছি, ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’। আরও বলেছি, পূজাম-পে প্রতিমা দর্শনে গেছেন হিজাব পরিহিতা মুসলিম নারীরা।

হোসেনী দালান থেকে পবিত্র আশুরার দিন তাজিয়া মিছিল বের হয়ে আসছে বহুকাল ধরে। শিয়াদের এই বহুকাক্সিক্ষত ও অবশ্যপালনীয় অনুষ্ঠান মুসলিম সুন্নী সম্প্রদায়ের মানুষ শুধু নয়, হিন্দু-খ্রীস্টান-বৌদ্ধ সব ধর্মের মানুষই বিশেষ আগ্রহ নিয়ে অবলোকন করে থাকে। এবার ইমামবাড়ার হোসেনী দালানে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। ছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশ, যা তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণেচ্ছু বহুজনের কাছেই কিছুটা বিরক্তিকরই মনে হয়েছিল। পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবক দলের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাও ছিল অন্যান্য বছরের মতোই। রাত গভীরে এসবের ভেতর দুর্বৃত্তরা গ্রেনেড ফাটিয়ে পালিয়ে যেতে পারল! নিহত কিশোর সাজ্জাদ হোসেন সাঞ্জু আমাদের অপরাধী করে গেল। ঢাকার ললাটে আঁকা হয়ে গেল আরেকটি কলঙ্ক-তিলক।

সারমেয় সমাচার

সারমেয় শব্দের অর্থ অনেক পাঠক নাও জানতে পারেন, কিন্তু কোন লেখকের এ ব্যাপারে অজ্ঞতা অনাকাক্সিক্ষত। চতুষ্পদ প্রাণী কুকুরকে কুকুর না ডেকে, সারমেয় বলা হয়েছে অনেক গল্প ও কবিতায়। অবশ্য বহু সাধারণ মানুষ রেগে গিয়ে তারই সমগোত্রীয় কাউকে ‘কুকুর’ বলে সম্বোধন করে থাকেন। শোনা কথা, তবু বলি। এক সিনিয়র ব্যক্তি বিরক্ত হয়ে তার এক শিষ্যকে কুকুর বলায় সেই শিষ্যটি নির্লজ্জ ও চটপটে উত্তর দিয়ে বলেছিলেনÑ স্যার, জানেন তো কুকুররা কিন্তু খুব প্রভুভক্ত হয়। এ উত্তর শুনে সেই প্রভুটি হেসেছিলেন নাকি কেঁদেছিলেন সেই খবর আর জানতে পারিনি। আসলে এই ঢাকা শহরে সত্যিকার কুকুর নিয়ে দু’কথা বলার জন্য এই গৌরচন্দ্রিকা।

ঢাকায় কি কুকুরের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে? প্রশ্নটি হঠাৎ মনে আসেনি, অনেক দিনের পুরনো এ জিজ্ঞাসা। বাণিজ্যিক এলাকায় তেমন একটা দেখা যায় না সারমেয়, এমনকি অভিজাত অনেক আবাসিক এলাকায়ও কম দেখি তাদের। একটু ভুল হলো। অভিজাত এলাকায় কুকুরের সংখ্যা বেড়েছে, যদিও সে সবই বিদেশী কুকুর। গৃহপালিত এবং গৃহহীনÑ দু’ ধরনের কুকুরই যে রাজধানীতে বাস করে থাকে, সে কথা না বললেও চলে। আধ হাত জিভ বার করা বিকটদর্শন বিদেশী কুকুরকে শিকলে বেঁধে হাঁটতে বেরুনো লোকগুলোকে মাঝেমধ্যে গলদঘর্ম হতে হয় প্রিয় পোষা প্রাণীকে সামাল দিতে। সাংবাদিক এবং আড্ডাবাজ নিশাচরেরা বেশ রাত করে ঘরে ফেরার সময় দুয়েকটা পথের কুকুরের উপস্থিতি দেখে কিছুটা স্বস্তি বোধ করেন বৈকি। যে কোন অস্বাভাবিক তৎপরতা ও আচরণের ঘ্রাণ কুকুরদল আগেভাগেই যেন পেয়ে যায়। আর তাৎক্ষণিকভাবে নিজস্ব ভঙ্গিতে প্রতিবাদ করে ওঠে।

সেদিন নর্দমার পাশে শয্যা গ্রহণকারী এক নিঃসঙ্গ কুকুরের দেখা পেলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম মৃত বুঝি। ভনভন করে মাছি উড়ছে, একদঙ্গল মাছি বসেও আছে কুকুরটার শরীরে। পীড়িত চোখের অতিসামান্য প্রতিক্রিয়া দেখে নিশ্চিত হলাম বেওয়ারিশটির দেহে প্রাণ এখনও ধুকপুক করছে। অত্যন্ত অসুস্থ কুকুরদের দিকে তাকানোর সময় কোথায় আমাদের? পথের পাশে অসহায় কোন মানুষ মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকে, আমরা ফিরেও তাকাই না। আর কুকুরের বেলা...! কে জানে হয়ত এখানেই কুকুরটি মরে পড়ে থাকবে, পচে গন্ধও ছড়াবে। উৎকট দুর্গন্ধের কারণেই পথচারীরা ফিরে তাকাবে একঝলক, আর শাপশাপান্ত করবে সিটি করপোরেশনকে তাদের দায়িত্ব পালনে দীর্ঘসূত্রতার জন্য।

সুনীল বিস্মরণ

কুকুর প্রসঙ্গটি দারুণভাবে উঠে এসেছে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি কবিতায় (আমি কী রকমভাবে বেঁচে আছি)। তিনি লিখেছেন, আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে থাকিÑ তার ভেতরের কুকুরটা দেখব বলে। বহুল উচ্চারিত পঙক্তি। একবার জাতীয় কবিতা উৎসবে সুনীলকে বিদেশ থেকে আগত কবি হিসেবে পরিচয় দেয়ায় ভারি কষ্ট নিয়ে তিনি বলেছিলেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে আগত বাংলা ভাষার কবি কি বলা যায় না? মনে রাখা দরকার তাঁর জন্ম এই বাংলাদেশেরই ফরিদপুরে। বাংলাদেশের পরম মিত্র ছিলেন তিনি। গত সপ্তাহেই তার প্রয়াণের দিনটি চলে গেল। খুব বেশিকাল আগে তিনি বিদায় নেননি। মাত্র তিন বছরই তো হলো। অথচ ঢাকায় দিনটি স্মরণে কোন আয়োজনই হলো না। অবশ্য একই দিন, অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর ছিল কবি শামসুর রাহমানের জন্মবার্ষিকী এবং এ উপলক্ষে ঢাকায় একাধিক অনুষ্ঠান হয়। কবি-সাহিত্যিকদের জন্ম-মৃত্যুর দিনটি তাঁদের স্মরণের একটি প্রধান উপলক্ষ হয়ে ওঠে। শামসুর রাহমান ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন সমসাময়িক কবি, উভয়ের মধ্যে ছিল দারুণ সখ্য। দু’জন দু’জনকে তুমি বলে সম্বোধন করতেন। যাহোক সুনীলস্মরণ উপলক্ষটিকে নীরবে চলে যেতে দেয়াটা ঢাকার জন্য অসমীচীন হয়েছে। এই ঢাকাকে একদিন তিনি কতই না ভালবেসেছিলেন!

প্রাণ ছিনতাই!

ঢাকায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ঢাকাকে ছিনতাইয়ের শহর হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন অনেকেই। সাধারণত ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিদের ভেতর সামান্য অংশই থানায় যান। ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিতে অনেক থানা অনেক সময় অপারগতা প্রকাশ করেÑ এমন অভিযোগের কথাও শোনা যায়। ছিনতাইয়ের খবর সংবাদপত্রে তেমন একটা আসে না। অবস্থাদৃষ্টে এমন ধারণা হওয়াই স্বাভাবিক যে, ঢাকাবাসী ছিনতাইয়ের শিকার হওয়াকে স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছেন। ঢাকায় থাকলে যানজটের দুর্ভোগ পোহাতেই হবে, এক আধবার ছিনতাইকারীর পাল্লায়ও পড়তে হবে। বাসের ভেতর বা বাইরে থেকে জানালার পাশে বসা যাত্রীর কাছ থেকে ঘড়ি/ মোবাইল ছিনতাই করে নেয়ার ব্যাপারটি এখন ডালভাত হয়ে গেছে। ছিনতাইকারীর হাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে মাঝেমধ্যে। ছিনতাইয়ে প্রাণ খোয়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ঢাকায় এমনই একটি মর্মস্পর্শী মৃত্যুর ঘটনা ঘটল রবিবার। রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় সেদিন ভোরে ছিনতাইকারীদের হামলায় অনন্ত বিশ্বাস (২৮) নিহত হন। অনন্ত বিশ্বাসের স্ত্রী কাকলী বিশ্বাসের ভাষ্য, পূজার ছুটি শেষে তারা গাইবান্ধা থেকে বাসে করে ভোর পাঁচটার দিকে ঢাকায় আসেন। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় নেমে মিরপুর যাওয়ার জন্য অন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। এমন সময় ঘটনাস্থলে একটি প্রাইভেট কার আসে। প্রাইভেট কার থেকে কয়েকজন লোক নেমে তাঁর স্বামীর ওপর হামলা করে। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। পরে ওই দুর্বৃত্তরা সোনার গয়না ও টাকাপয়সা নিয়ে চলে যায়। অপঘাতে মৃত্যুর ঘটনা রাজধানীতে প্রতি সপ্তাহে ঘটছে। কোন কোন অপমৃত্যু আমাদের মনে বিশেষ রেখাপাত করে যায়। গত বুধবার কালশী সড়কে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মারা যান শারমীন আক্তার সিদ্দিকী (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী। এলাকাবাসীর দাবি, দুই বছরে কালশী সড়কে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২০ জন। এদের মধ্যে বাসচাপায় নিহতের সংখ্যা বেশি। বিপজ্জনক বাঁকে ভরা কালশী সড়ক দ্রুত বিপন্মুক্ত করার ব্যবস্থা নিক কর্তৃপক্ষÑ এটাই চাওয়া।

নিভৃত গুণীজন

আমলাদের পেশাগত দক্ষতার বাইরে অন্য কোন গুণের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে একটু নাক সিঁটকানো ভাব থাকে। নিশ্চয়ই আমলারা অর্থ ও ক্ষমতার জোরে কিছু গুণপনার প্রচার-প্রসার ঘটান বলেই এমন নেতিবাচক ধারণা আমাদের অনেকেরই। অবশ্য কোন কোন আমলা তাদের কর্মকা-ের কারণে আমাদের মনে এমন ধারণার বীজ রুয়ে দেন বটে। একজন আমলা ও লেখক ভ্রমণকাহিনী ও জীবনীভিত্তিক উপন্যাস রচনার জন্য দৃষ্টি কাড়েন সাহিত্যিকমহলে। অথচ ‘গণজাগরণ মঞ্চ’-কে কটাক্ষ করে এক প্রতিক্রিয়াশীল গল্পের জন্ম দেন। আরেক কবি ও আমলা পাঠ্যপুস্তকে নিজের লেখা কবিতার অনুপ্রবেশের অপপ্রয়াস চালান। যাহোক, আজকে যে আমলার কথা বলব, তিনি আমলাদের সত্যিকারের সাধনা ও গুণ সম্পর্কে আমাদের চোখ খুলে দেয়ার মতোই বিরল উদাহরণ। ইংরেজী ও বাংলা উভয় ভাষাতেই তিনি সাহিত্যচর্চা করেন। ডাস্ক ডন এ্যান্ড লিবারেশন নামে তাঁর লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ব্রিটেনের অথার হাউজ পাবলিশার্স প্রকাশ করেছে। তিনি যে গানও করেন সেটা জানা থাকলেও শোনা হয়নি তার গান। সুরধ্বনির উদ্যোগে তার, অর্থাৎ মাসুদ আহমেদের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হলো শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে। হারানো দিনের একগুচ্ছ গান শুনে মনে হলো চাইলে তিনি পেশাদার শিল্পীও হতে পারতেন। তোমারে লেগেছে এত যে ভাল, এ জীবনে যত ব্যথা, সারাদিন তোমায় ভেবে, আমার এ গানেÑ গানগুলো কান পেতে শুনবার মতোই। বর্তমানে এ লেখক-গায়ক দায়িত্ব পালন করছেন কম্পট্রোলার এ্যান্ড অডিটর জেনারেল হিসেবে।

প্রিয় মেয়র,

আপনাকেই বলছি

আমরা এই কলামে ঢাকার দুই মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান ও অনিয়মের সুরাহা চাইছি। এটা নিছক অনুরোধ নয়, সমাজেরই দাবি। আজ আমরা তুলে ধরব ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক সংলগ্ন আবাসিক ভবনের কা-জ্ঞানহীনতার বিষয়টি। একটু খোঁজ নিলেই এমন বেহাল চিত্র নজরে পড়বে। সুনির্দিষ্টভাবে বিজয় সরণি থেকে ফার্মগেট অভিমুখী রাস্তার বাঁ-ধারের ফুটপাথের কথাই বলছি। ফুট ওভারব্রিজের পাশের ভবনের ছাদ থেকে ধাতুনির্মিত দীর্ঘ পানির পাইপ চোখে পড়ে। ভবনটির ছাদধোয়া পানি (নাকি বাশিন্দাদের গোসলের পানি!) সটান এসে পড়ে পথচারীর মাথায়। মেয়র চাইলে এসব অনিয়ম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিকার করা সম্ভব।

২৫ অক্টোবর

সধৎঁভৎধরযধহ৭১@মসধরষ.পড়স

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৫

২৭/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: