২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র


জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদের উৎপাদক, সরবরাহকারক এবং মদদদাতা দেশ পাকিস্তান ক্রমশ পরমাণু শক্তিধর দেশে পরিণত হচ্ছে। আতঙ্কের বিষয় বটে। যদি জঙ্গীদের হাতে এই অস্ত্র উঠে আসে, তবে তার পরিণতি মারাত্মক হবে শুধু নয়, এক ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হবে উপমহাদেশ জুড়ে। বাংলাদেশের দুই প্রতিবেশী ও সার্কভুক্ত দুটি দেশ ভারত ও পাকিস্তান ক্রমশ পারমাণবিক শক্তিধর দেশে পরিণত হচ্ছে। আর এই দুটি দেশ দীর্ঘদিন ধরেই বৈরী অবস্থানে রয়েছে। যুদ্ধবিগ্রহ যেমন হয়েছে, তেমনি সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা প্রায়শই ঘটছে। এমনকি জঙ্গী হামলাও ঘটানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জানান দেয়া হয়েছে যে, পাকিস্তান আগামী ১০ বছরে অর্থাৎ ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম পরমাণু ক্ষমতাধর দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। আর পাকিস্তান এটাও বলছে, ভারতের আক্রমণ ঠেকাতেই কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে তারা। সম্ভাব্য ভারতীয় ‘আগ্রাসন ও আধিপত্য’ ঠেকাতে পাকিস্তান স্বল্পপাল্লার পরমাণু যুদ্ধাস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। এর মধ্যে বেশ কিছুসংখ্যক পরমাণু সক্ষমতাসম্পন্ন উৎক্ষেপক মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। পাকিস্তানের বর্তমানে ছয় ধরনের পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। মার্কিন এটমিক সায়েন্টিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে পাকিস্তানের কাছে ৯০ থেকে ১১০টি পারমাণবিক বোমা মজুদ ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে ১১০ থেকে ১৩০টিতে পৌঁছেছে। উৎক্ষেপণ প্রযুক্তির অগ্রগতি, চারটি চলমান প্লুটোনিয়াম রিএ্যাক্টর ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত থাকায় আগামী ১০ বছরে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদের পরিমাণ আরও বাড়বে। ২০২৫ সাল নাগাদ পাকিস্তানের কাছে ২২০ থেকে ২৫০টি পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ থাকতে পারে। দেশটিতে বর্তমানে প্লুটোনিয়াম উৎপাদনে নিয়োজিত চারটি পরমাণু চুল্লি এবং ইউরেনিয়াম স্থাপনা রয়েছে। পাকিস্তান বেশ কিছুসংখ্যক পরমাণু সক্ষমতাসম্পন্ন উৎক্ষেপক মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। পাকিস্তান যে হারে তাদের পরমাণু অস্ত্রের ভা-ার শক্তিশালী করছে তা প্রতিবেশী দেশ তথা সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য আতঙ্কের বিষয় বৈকি। ক্ষুদ্র পরমাণু অস্ত্রের কারণে পারমাণবিক শক্তিধর বৃহৎ প্রতিবেশী ভারত পাকিস্তানে আকস্মিক হামলা চালাতে নিরুৎসাহিত হবে বলে মনে করছে পাকিস্তান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, ক্ষুদ্র আকারের কারণে প্রচলিত যুদ্ধেও এ ধরনের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে প্রলুব্ধ হতে পারে পক্ষগুলো। এতে ইতোমধ্যেই অস্থিতিশীল হয়ে থাকা ওই এলাকার পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়তে পারে। সম্ভাব্য হামলা থেকে ভারতকে বিরত রাখতে পাকিস্তান বিকল্প ব্যবস্থা জারি রাখতে চায়। তাই তারা ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে, কৌশলগত ক্ষুদ্র পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ মানবে না পাকিস্তান। তাই এমন কথাও বলছে যে, পাকিস্তান কোন্্ ধরনের অস্ত্র তৈরি অথবা ব্যবহার করবে কেউ তার নির্দেশনা দিতে পারে না। তাই পাকিস্তান পারমাণবিক ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিন তৈরির কাজও করছে। এই জাহাজ পরমাণু অস্ত্র বহন করতে ও ছুড়তে পারবে। স্থলভিত্তিক পরমাণু অস্ত্র আক্রান্ত হলে সমুদ্রভিত্তিক বিকল্প হামলার সুযোগ হাতে রাখতে এ প্রকল্প নিয়েছে।

পাকিস্তান ও ভারত দুই বৈরী দেশ পরমাণু অস্ত্রশক্তিতে বলীয়ান হয়ে ওঠা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য যেমনি তেমনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্যও বিপজ্জনক। তাই এই দুটি দেশকে এগিয়ে আসতে হবে এই অস্ত্রবিস্তার রোধে। বাংলাদেশ চায় এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধের বিপরীতে শান্তি।