মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

আল বিদা

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫
আল বিদা

মাহে রমজান ॥ অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ পবিত্র মাহে রমজানের আজ ২৩তম দিবস। সপ্তাহখানেক ব্যবধানে সিয়াম ভাঙ্গার উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। মাহে রমজান ও পবিত্র ঈদের তাৎপর্য বিধানে মুসলিম নরনারী সকলে সমান গতিতে এগিয়ে। এ মাসে পুরুষের কিছু নির্দিষ্ট দায়-দায়িত্ব ও ইবাদতের পাশাপাশি মা বোনদেরও স্পেশাল কিছু দায়-দায়িত্ব রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে এ মৌসুমকে তাৎপর্যম-িত করতে মহিলাদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। এ মাস হচ্ছে পারিবারিক একতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির এক সুন্দর সময়। আমাদের গৃহকর্ত্রীরা এ সময় পারিবারিক সদস্য স্বামী সন্তানদের একটু বেশি কাছে পেয়ে থাকে। ইফতারের সময় সেহরির পবিত্র সময় একত্রিত হয়। অত্যন্ত সদালাপ সুপরামর্শ সম্পন্ন হয় এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। মহিলারা পাঞ্জেগানা নামাজের পাশাপাশি দানে আপ্যায়নে সময় দেন। কখনও কখনও এদিক ওদিক আপনজনদের বাসায় হাদিয়া ইফতারি প্রেরণ করতে ভালবাসেন। এ এক আমাদের বড় ঐতিহ্য এবং সওয়াবের কাজ। সেহরির সঙ্গে মা বোনরা চর্চা করেন তাহাজ্জুদ নামাজের। কর্মজীবী মা বোনরা বছরের অন্যান্য সময় পবিত্র কোরান শরীফ তিলাওয়াতের সময় কম পান। এ সময় তারা ফজর নামাজের আগে পরে কোরান খতম করেন, অতিরিক্ত তাসবিহ তাহলীল দরুদ শরীফ পাঠে সময় দেন। আমাদের সন্তানরা বর্তমানে ভোরেই নিজের ওজনের চেয়ে বেশি ওজনের একটি স্কুল ব্যাগ নিয়ে রওনা দেয় নানা সাধারণ শিক্ষার স্কুলে। এতে চরমভাবে ব্যাহত আজ ধর্মীয় ঐতিহ্যম-িত প্রাথমিক মক্তব শিক্ষাব্যবস্থা। মা বোন ও অভিভাবকরা আন্তরিক হলে মাহে রমজানের ছুটির সময় সন্তানদের একটি মাসের জন্য হলেও মক্তবমুখী কিংবা বিশেষ ব্যবস্থায় কায়দা আমপারামুখী করতে পারে।

কোন কোন মহিলা প্রচুর পরিমাণে ইফতার সামগ্রী তৈরি করা এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য রসালো সেহরি পরিবেশন করার ক্ষেত্রে বেশি সময় দেন। আমরা মনে করি এটি অনেকটা ব্যক্তিগত ইবাদত বন্দেগী করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। এজন্য যতটুকু সম্ভব প্রয়োজনীয় খাওয়া-দাওয়ার বাইরে অতিরিক্ত আয়োজন পরিহার করা উচিত। একই কথা আসে ঈদ সামগ্রী ক্রয় ও পরিবেশনের বেলায়। মা বোনরা একটু ক্রয় পটিয়সী। সিয়াম কিন্তু আমাদের সংযম ও কৃচ্ছ্র সাধনের শিক্ষা দেয়। কোন কোন নারীর মধ্যে পরচর্চা, অহেতুক তর্কে জড়ানো ও ঝগড়াটে স্বভাবেরও উদ্রেক হয়। এ আচরণ পরিহার করার জন্য নারী-পুরুষ সকলকেই হাদিসে তাগিদ করা হয়েছে। এমনিতেই বাকসংযতা অনেক বড় মানবীয় গুণ। আমরা অনেকেই প্রয়োজনের সময়ে তা ভুলে যাই। মাহে রমজানে মানবীয় কুপ্রবৃত্তিসমূহ দূরীকরণে পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদের ইতিকাফ পালন একটি বড় নিয়ামক শক্তি।

অবক্ষয়ের যুগে আমরা অনেক কিছু হারিয়েছি। তবে মাহে রমজান এলে মা বোনরা একটি ফরজ কাজকে বেশি করে অনুভব করেন ও আমল করেন। তা হলো পর্দাপ্রথা। আমরা বেমালুম ভুলে বসি নামাজ, রোজা ও হজের মতো পর্দা প্রথাও একটি ফরজ কাজ। এ মাসে আমাদের মা-বোনরা মা খাদীজা, মা ফাতিমা ও মা আয়িশার (রা.) অনুপম জীবনচরিত যদি সংগ্রহ করে এবং অধ্যয়ন করে তাহলে আমাদের ঘরে ঘরে সেই সোনালি যুগের মহীয়সী নারীদের সুশোভিত জীবনের আবার প্রতিধ্বনি হবে। এজন্য ইসলামে নারীদের প্রতি এসব বিষয়গুলো অনুধাবনের আহ্বান জানিয়েছে পবিত্র কোরান ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে।

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০১৫

১১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: