১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

শেখ রাসেলের কাছে আবারও হার মোহামেডানের


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেডের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং লীগের প্রথম পর্বে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের কাছে হারার প্রতিশোধ নেয়াÑ দুটো সুযোগই দারুণভাবে নষ্ট করল দেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল পরাশক্তি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। ‘মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ’ ফুটবলে বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একমাত্র খেলায় ‘ব্ল্যাক এ্যান্ড হোয়াইট’ খ্যাত মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারায় ‘বেঙ্গল ব্লুজ’ খ্যাত শেখ রাসেল। প্রথমার্ধে বিজয়ী দল এগিয়ে ছিল ১-০ গোলে। লীগের প্রথম পর্বে গত ১৭ এপ্রিল খেলাতেও দুই দলের মোকাবেলায় জিতেছিল রাসেল। ওই ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল ১-০। বুধবারের খেলায় রাসেলের অষ্টম জয়। ২৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা পঞ্চম থেকে উঠে এলো তৃতীয় অবস্থানে। পেছনে ফেলল ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবং ঢাকা আবাহনীকে। পক্ষান্তরে নিজেদের ত্রয়োদশ ম্যাচে এটা মোহামেডানের তৃতীয় হার। তাদের পয়েন্টও ২৬। তবে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় রাসেলের ওপরেই অবস্থান করছে তারা (দ্বিতীয় স্থান)।

বুধবারের খেলায় এটা হতাশার হার ছিল মোহামেডানের। কারণ তুলনামূলক বেশি আক্রমণ করেও প্রাপ্ত সুযোগ নষ্ট করে তারা। আর রাসেল সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করে। খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে মোহামেডান একটি গোল করলেও সেটা অফসাইডের অজুহাতে বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি। এরপর খেলা শেষ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে এক গোল করে সাদা-কালোরা। তারপরই খেলা শেষ হয়ে গেলে আক্ষেপে পুড়তে হয় মোহামেডান দলকে। কেননা, ওই অফসাইডের গোলটি বৈধ হলে তারা ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট কুড়িয়ে নিতে পারত। কিন্তু ভাগ্যদেবী মুখ তুলে না তাকানোয় তা আর হয়নি।

ম্যাচের আগে তুমুল বৃষ্টি হলে আশঙ্কা দেখা দেয় ম্যাচ না আবার প- হয়ে যায়। কিন্তু খেলা শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে বৃষ্টি থেমে যায় (খেলা শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট পর)। তবে খেলা শুরু হলে দেখা যায় মাঠে জল জমে আছে এবং কর্দমাক্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে উভয় দলের ফুটবলারদেরই স্বাভাবিকভাবে খেলতে সমস্যায় পড়তে হয়। ১৩ মিনিটে মোহামেডানের বক্সের কাছে ফ্রি কিক পায় রাসেল। কিন্তু মিডফিল্ডার জাহিদ হোসেনের ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়াল তৈরি করে দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেয় মোহামেডান। ২০ মিনিটে রাসেলের জাহিদের ক্রস বক্সে পেয়েও মিস করেন ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলি। ২৫ মিনিটে রাসেলের অধিনায়ক-ফরোয়ার্ড মিঠুন চৌধুরীর কর্র্নার বিপদমুক্ত করেন বক্সে থাকা মোহামেডানের একাধিক ডিফেন্ডার। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে (৪৫+১ মিনিট) রাসেলের জাহিদ হোসেনের ফ্রি কিকে বল পেয়ে চমৎকার শটে গোল করেন রাসেল অধিনায়ক মিঠুন (১-০)। ৭০ মিনিটে রাসেলের সীমানার বাঁ প্রান্ত থেকে মোহামেডান মিডফিল্ডার জুয়েল রানার শট ঝাঁপিয়ে আটকান রাসেলের গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটন। ৭৮ মিনিটে রাসেলের বক্সে ঢুকে তীব্র শট নেন মিডফিল্ডার মোহাম্মদ ইব্রাহিম। গোলরক্ষক লিটন বল ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে অরক্ষিত গোলপোস্ট পেয়ে আবারও শট নেন ইব্রাহিম। কিন্তু বল চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। ৮৩ মিনিটে রাসেল ডিফেন্ডার সোহেল রানার ক্রসে দর্শনীয় হেডে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস (২-০)। এই হেমন্তই গত মৌসুমে খেলেছিলেন মোহামেডানে! ইনজুরি টাইমে (৯০+৩ মিনিট) রাসেলের লেফট ব্যাক ওয়ালী ফয়সালের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় মোহামেডান। আর তা থেকে সান্ত¡নার গোল করেন গিনি ফরোয়ার্ড ইসমাইল বাঙ্গুরা (১-২)। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মোহামেডান-রাসেল ম্যাচে বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। বুধবারের ম্যাচেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: