মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২২.৮ °C
 
২৬ মে ২০১৭, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ব্রিটেনে নিখোঁজ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পরিবার আইএসের কাছে

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৫

বিডিনিউজ ॥ যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পরিবারটি আইএসের কাছে রয়েছে বলে জঙ্গী সংগঠনটির পক্ষে দাবি করা হয়েছে। বিবৃতির সঙ্গে ওই পরিবারের সদস্যদের দুটি ছবিও ইসলামিক স্টেট (আইএস) পাঠিয়েছে বলে শনিবার বিবিসি জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্য থেকে স্বদেশ ঘুরে ফেরার পথে গত মে মাসে সিরিয়ায় ১২ সদস্যের ওই বাংলাদেশী পরিবারটি উধাও হয়ে যাওয়ার পর থেকে ব্যাপক গুঞ্জন চলছিল। ওই পরিবারের কয়েকজনের সঙ্গে উগ্রবাদীদের সম্পর্ক থাকার ঘটনা জানার পর যুক্তরাজ্য পুলিশ ধারণা করছিল, পরিবারটি আইএসের সঙ্গে ভিড়েছে। এখন ওই পরিবারের পক্ষে আইএসের এক সদস্যের পাঠানো বিবৃতি সেই সন্দেহকে ভিত্তি দিল। তবে এই বিবৃতির যথার্থতা যাচাই করা যায়নি বলে বিবিসি জানিয়েছে।

পাঁচ পুরুষ, চার নারী এবং তিনটি শিশুর ওই পরিবারটি ইসলামিক স্টেটসের সঙ্গে ‘বেশ নিরাপদে’ রয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। তাদের অপহরণ কিংবা জোর করে নেয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিবৃতিদাতা বলেন, আইএস কাউকে বাধ্য করে না। আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পিত করার আহ্বান জানায়।

আল কায়েদার পর ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে নামা আইএস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সঙ্কটের সৃষ্টি করছে। ইসলামী দলটির সঙ্গে সিরিয়ায় কিছু অংশের দখলও নিয়েছে, সেখানে যুদ্ধ চলছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিবারটি এমন একটি ভূমিতে পৌঁছেছে, যা ‘দুর্নীতি ও আগ্রাসনমুক্ত’ এবং যেখানে ‘মুসলমানদের খলিফা’ ছাড়া আর কারও কর্তৃত্ব নেই। এই পরিবারটি থাকত বেডফোর্ডশায়ারের লুটন শহরে। এর কয়েক নারী সদস্য উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন জানিয়ে স্থানীয়রা বলছিল, গ্রেফতার এড়াতে তারাই পুরো পরিবারটি নিয়ে যুক্তরাজ্য ছাড়েন।

পরিবারটির সদস্যরা হলেন- মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান (৭৫), তার স্ত্রী মিনারা খাতুন (৫৩), তাদের মেয়ে রাজিয়া খানম (২১), ছেলে মোহাম্মদ জায়েদ হুসাইন (২৫), মোহাম্মদ তৌফিক হুসাইন (১৯), মোহাম্মদ আবিল কাশেম সাকের (৩১) এবং তার স্ত্রী সাঈদা খানম (২৭), মোহাম্মদ সালেহ হুসাইন (২৬), তার স্ত্রী রশানারা বেগম (২৪) এবং তাদের তিন সন্তান, যাদের বয়স এক থেকে ১১ বছর। মিনারা ক্যান্সারের এবং মান্নান ডায়াবেটিস রোগী বলে যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যমের খবর।

যুক্তরাজ্য পুলিশ জানায়, গত ১০ এপ্রিল পরিবারটি বাংলাদেশে যায়। এক মাস পর ১১ মে তারা ফেরার জন্য রওনা হয়। ১১ মে তারা ইস্তাম্বুল নামে, তিনদিন পর তাদের লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা থাকলেও তারা আসেনি।

আইএসে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য থেকে অন্তত ৪২ জন ইতোপূর্বে সিরিয়ায় পাড়ি জমানোর পর এই ঘটনাটি জেনে ইতোমধ্যে তদন্তে নেমেছে দেশটির পুলিশ। মান্নানের আগের স্ত্রীর দুই ছেলে (তারাও লুটনে থাকেন) পরিবারটির নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশকে জানায়।

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৫

০৫/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: