২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঢাকার দিনরাত


স্বাধীনতা দিবস পেরিয়ে এলাম। এবার স্বাধীনতা দিবসও বাদ গেল না অপরাজনীতির কবল থেকে; সেদিনও বহাল ছিল অবরোধ। অবশ্য তার আগের দিন থেকে হঠাৎ উবে গেল হরতাল। মানে হরতালের ঘোষণা এলো না বিগত সপ্তাহগুলোর মতো। পরবর্তী সপ্তাহের প্রথম দিন হরতালের ঘোষণা এলেও ঢাকা মহানগরীকে ছাড় দেয়া হলো সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের কারণ দেখিয়ে। তবে সত্যি সত্যি হরতাল তো উবেই গেছে রাজধানী ঢাকা থেকে। হরতাল থাকলেও কি, না থাকলেও কি। যানজট ঢাকার নিত্য রূপ। তবে বুধবার হরতালের ঘোষণা না থাকায়, আর সেদিন যানজটও খানিকটা তীব্রতা পাওয়ায় হরতালঅলারা আত্মশ্লাঘা বোধ করতেই পারে। বলতে পারে, দেখ দেখ হরতাল নেই বলেই ঢাকায় এত যানজট!

আসল কথা হলো বৃহস্পতি থেকে শনিÑ তিন দিনের ছুটি পাওয়া গিয়েছিল ঈদের ছুটি যেমন মেলে। তাই ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে রাজধানীজুড়ে ছিল তীব্র যানজট। নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে দিনভর। তীব্র যানজটের সঙ্গে ছিল চৈত্রের অসহনীয় তাপ। দিনভর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন ঠাসা থাকায় ঘর থেকে বেরুনো মানুষের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। রাতেও ছিল একই ধারাবাহিক যন্ত্রণা।

আলিয়ঁসে আড্ডা

ঢাকার পশ্চিম পাশে ধানমণ্ডি এলাকায় প্রবেশের মুখেই যান আর মানুষের ভিড়ে আক্রান্ত জায়গাটায় অবস্থান এই আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের। এটিকে ফরাসী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও বলা চলে। ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই অন্যরকম এক স্বস্তি। শুধু ফরাসী ভাষা শেখা বা আর্ট ফিল্ম দেখা নয়, এখানে বসে হরেক রকম শিল্পের আসর। সায়েন্স ল্যাবের ওদিকটায় গেলে একবার ঢুঁ মারি আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে সেই ছাত্রাবস্থা থেকেই। এখন অনেক রমরমা হয়েছে জায়গাটা। নিচতলার ক্যাফেতে সন্ধেবেলা আসন মেলাই ভার। মাত্র দশ টাকায় এক পেয়ালা চা খাওয়া যায় রাজধানীর আর কোন্ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্যাফেতে? আজকাল ঢাকায় এই এক চল হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোন ক্যাফে বা রেস্টুরেন্টেই আর চা পাই না। পাওয়া যায় কফি। গলাকাটা দাম তো আর রাখা যায় না এক কাপ চায়ের জন্য, ওটা কফিতেই সম্ভব। ভাল জায়গায় কফির দাম ভ্যাট ছাড়াই কমপক্ষে এক শ’ টাকা। যা হোক এই আলিয়ঁসে এক পেয়ালা চা নিয়ে কোন বন্ধুর সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী আড্ডা দেয়ার সুযোগ আছে। ফ্রি পেপার-ম্যাগাজিন পড়া যায়। সেদিন ঢুকে দেখি একটা আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলছে। নিচতলার প্রদর্শন কক্ষে সারা মাসই বোধহয় কোন না কোন এক্সিবিশন হয়। কক্ষটির পশ্চিম দিকের দরজা দিয়ে বেরুলে বড় উঠোন। এখানেও আড্ডা দেন অনেকে। নিচতলা ঘুরে বোঝা যাবে না যে আলিয়ঁসে পিয়ানো আর ভায়োলিন শেখার ব্যবস্থা আছে। অল্পবয়সী তরুণ-তরুণীদের সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে দেখে বোঝা যায় তাদের নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে এখানে। মাঝেমধ্যেই কবিতা বা সঙ্গীতসন্ধ্যার আয়োজন করা হয় আলিয়ঁসে। বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানও হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে বেশ একটা শিল্পম-িত স্থান।

ঢাকায় আলিয়ঁসের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। সেই পঞ্চাশের দশকের শেষভাগে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এটি, কালে কালে এটির আরও দুটি শাখা চালু হয়েছে গুলশান ও উত্তরায়। আগে শুধু তরুণ ও বয়স্করা ফরাসী ভাষা শেখার সুযোগ পেতেন। এখন সদ্য স্কুলে যাওয়া শিশুরাও শিখতে পারছে ফরাসী ভাষা। প্রতি বছর কমপক্ষে ছ’হাজার শিক্ষার্থী এখান থেকে ফরাসী ভাষা শিখছেন। কাল এপ্রিলের প্রথম দিন থেকেই সপ্তাহব্যাপী নতুন সেশনে ভর্তির কাজ শুরু হচ্ছে রাজধানীর তিনটি শাখাতেই। এখানকার লাইব্রেরির সদস্য হতে পারেন যে কেউ। একজন সদস্য দুই সপ্তাহের জন্য চারটি বই, একটি ম্যাগাজিন এবং একটি জার্নাল বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন।

ফরাসী কবি লুই আঁরাগ, পল এলুয়ার, স্যাঁ ঝন পের্স, অঁরি মিশো এখানকার কবিদের কাছে বেশি পঠিত। কেউ কেউ অনুবাদও করেছেন কিছু কিছু। ফরাসী ভাষা-জানা সৃষ্টিশীল মানুষের সংখ্যা একেবারে কম নয় ঢাকায়। তাছাড়া ফ্রান্সে বসবাসের সূত্রেও বাংলাদেশের অনেক লেখক-শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী কমবেশি বাংলা ও ফরাসী সংস্কৃতির ভেতর মেলবন্ধন গড়ায় ভূমিকা রেখেছেন। শিল্পী শাহাবুদ্দীন, চলচ্চিত্রকার কবীর আনোয়ারের কথা বলা যায়। ফরাসী ভাষাচর্চা করে বাংলা সাহিত্যে তার সুবাস এনে দেয়ায় কাজ করে চলেছেন দেশের বেশ ক’জন লেখক। মাহমুদ শাহ কোরেশী, শিশির ভট্টাচার্যসহ অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রসঙ্গত প্রখ্যাত ফরাসী লেখক দার্শনিক অদ্রেঁ মালরো (১৯০১-১৯৭৬) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীতে যোগদানের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন এবং একটি ট্যাংক ইউনিটে যুক্ত থাকার অভিপ্রায় প্রকাশ করেন। ১৮ অক্টোবর মালরো একটি বিবৃতি দেন, যা সারা বিশ্বে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে।

নারী শিল্পীদের মিলনমেলা

আর্ট কলেজ থেকে সদ্য বেরুনো শামীম সুব্রানার সঙ্গে পরিচয় সেই আশির শেষার্ধে। তাঁর শ্বশুর ড. খান সারওয়ার মুরশিদের ধানম-ির বাসায় ছিল ‘এদেশ একাল’ পত্রিকার অফিস। এক সময় কবি নির্মলেন্দু গুণ পত্রিকাটি দেখাশোনা করতেন। পরে বছরখানিক আমিও ছিলাম সেটায়। তখন নয়, তার অনেক পরে শামীম ওই বাড়িটির নিচতলায় ‘গ্যালারি টোয়েন্টিওয়ান’ নামে আর্ট গ্যালারি প্রতিষ্ঠা করেন। সেটাই ছিল দেশে কোন নারীর উদ্যোগে প্রথম আর্ট গ্যালারি। বহু বছর বাদে সেই গ্যালারিটি আবার যাত্রা শুরু করেছে। এবার সেটির স্থান ওই বাড়ি থেকে দক্ষিণে কিছুটা পিছিয়ে সাত মসজিদ রোডেরই তাজ-লিলি গার্ডেনের বারো তলায়। তাজউদ্দীন-কন্যা সিমিন হোসেন রিমি যুক্ত হয়েছেন গ্যালারিটির পরিচালনার সঙ্গে। শনিবার এখানেই উদ্বোধন হলো দেশের ৪১ জন নারী চিত্রশিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষেই ‘যাত্রা’ শিরোনামে এ প্রদর্শনীর আয়োজন। নারী শিল্পীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল প্রদর্শন-শালাটি। জ্যেষ্ঠ শিল্পী ফরিদা জামান, নাইমা হক থেকে শুরু করে তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের রোকেয়া সুলতানা, কনক চাঁপা চাকমা এবং অধুনা গুলশান হোসেন, সুলেখা চৌধুরীসহ কে না ছিলেন! ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। শিল্পী শিল্পীই, তাঁরা নারী কিংবা পুরুষ তা বিবেচ্য নয়। কিন্তু নারী শিল্পীদের অনুষ্ঠান বলে পুরুষ শিল্পীদের প্রবেশাধিকারে তো কোন বাধা ছিল না। অথচ অনুষ্ঠানে মাত্র তিন-চারজনের দেখা পেলাম। সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করার জন্য আরও বেশি পুরুষ শিল্পীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করেছিলাম। তাছাড়া আরও একটি কথা না বললেই নয়। সাহিত্যিকদের অনুষ্ঠানে শিল্পীদের তেমন দেখি না, যেমন চিত্রশিল্পীদের প্রদর্শনীতে লেখকদের দেখা খুব সামান্যই পাই। এ প্রদর্শনীতে একজনই সাহিত্যিক এসেছিলেন- তিনি সেলিনা হোসেন।

নাট্যজনদের উৎসব

দেশের নাট্যাঙ্গনের মানুষদের বিশেষ একটি উৎসবের উপলক্ষ হলো বিশ্ব নাট্য দিবস। বর্তমান সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর জনপ্রিয় নাট্যশিল্পী। বর্তমানে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীও এককালের খ্যাতিমান মঞ্চনাট্যকর্মী। আর রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুসহ অনেকেই খ্যাতিমান নাট্যব্যক্তিত্ব। এবারে ২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষে এঁদের এক মঞ্চে (জাতীয় নাট্যশালা) উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি নাট্য দর্শকদের জন্য ছিল এক সৌন্দর্যমথিত দৃশ্য। সেই সৌন্দর্য, আনন্দ দর্শকদের আপ্লুত করেছিল অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার সংবর্ধনা দেয়ার সময় যখন অনুজপ্রতিম সংস্কৃতিমন্ত্রীকে আলিঙ্গনে বেঁধে আশীর্বাদ করেন। বিষয়টা নাটকীয়ও বটে। দেশের বাইরে হাগ দেয়া বা আলিঙ্গনে বেঁধে সৌজন্য প্রকাশ একটি স্বাভাবিক রীতি। মানুষের মন তাঁর প্রিয় বা স্তহাষ্পদ জনকে জড়িয়ে ধরার আকাক্সক্ষায় আপ্লুত হলেও কোথায় যেন একটা সংকোচ কাজ করে যায়। বিশেষ করে ওই দুটি মানুষ বিপরীত লিঙ্গের হলে মনের উষ্ণতাকে হৃদয়ের প্রকোষ্ঠেই নিভিয়ে ফেলতে হয়। কোথাও ব্যতিক্রম দেখা গেলে সেই অনাবিল শান্তি ও উষ্ণতা আশপাশের মানুষদেরও ছুঁয়ে যায়।

বিশ্ব নাট্য দিবসের স্মারক বক্তৃতা দিলেন ফেরদৌসী মজুমদার। বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) বাংলাদেশ কেন্দ্র, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ও বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ। আলোচনা শেষে কুষ্টিয়ার লালন গবেষণা ও চর্চাকেন্দ্র পরিবেশন করেন লালনের গান।

ভিআইপি রোডের দুর্দশা

ভিআইপি রোডে ভিআইপিরা বিলক্ষণ চলাচল করেন। সেইসঙ্গে আমজনতাও ব্যবহার করেন ভিআইপি রোড। ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার হয়ে বাংলা মোটর পর্যন্ত সড়কটি রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। বিশেষ করে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার মোড়টি হয়ে উঠেছে নগরীর ব্যস্ততম ট্রাফিক মোড়ের প্রতীক। কমপক্ষে এক হালি করে টিভি সেন্টার ও সংবাদপত্রের কার্যালয়, বিরাট কাঁচাবাজার, বিশাল ও বাহারি শপিং সিটি, এমনকি পাঁচতারা নামজাদা হোটেল একে কেন্দ্র করেই অবস্থান করছে। অথচ এই সিকি কিলোমিটার সড়কটুকু দুর্গন্ধ, আবর্জনা, খোলা ম্যানহোল ইত্যাদিতে বস্তির গলির চেহারা নিয়েছে। ক’দিন আগে থেকে দেখছি রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছে, এবড়ো খেবড়ো ইট-সিমেন্টের চাপড়গুলো পেভমেন্টের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে বালুর স্তূপও গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বলে এইসব দেখভালের জন্য একটা কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তারা সব কোথায় গেল? রাজধানীর ভিআইপি রোডের এমন এতিম-দশা হলে অন্য ছোট সড়কগুলোর কী দুর্দশা তা সহজেই অনুমান করা যায়।

বসন্তের ফুল

কাল থেকে শুরু হচ্ছে এপ্রিল- বসন্ত ফুরোবে, গ্রীষ্মের দাপট প্রকৃতিতে এনে দেবে পরিবর্তন। সেই সঙ্গে বহু সংবেদনশীল মানুষের মনের গভীরেও অজ্ঞাত শুষ্কতা এসে ভর করবে। বিশ্বখ্যাত কবি টি এস এলিয়ট তাঁর ওয়েস্ট ল্যান্ড (পোড়ো জমি) কবিতায় এপ্রিলকে ক্রুরতম মাস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এপ্রিল নিয়ে বাংলার কবিরাও পঙ্ক্তি রচনা করেছেন। মাত্রাবৃত্তে রচিত ‘এপ্রিল’ কবিতার কটি লাইন : ‘আবার এপ্রিল!- দুপুর নির্মম, বিকেল বরাবর চুলোর তন্দুর/বিদায় বসন্ত, দেরাজে চাপা থাক সুবাস সুখকর, পত্র অপঠিত/স্বপ্ন অগঠিত ঝিমোক সিঁড়িঘরে, বাতাস অভিজাত, উদাস স্পর্ধিত/টবের সবুজাভা ক্রমশ ম্রিয়মাণ, সন্ধ্যা স্ননার্থী, তারারা আরো দূর...।’

এলিয়টের কবিতার শুরুতেই রয়েছে লাইলাক ফুলের কথা।

April is the cruellest month, breeding

Lilacs out of the dead land, mixing

Memory and desire, stirring

Dull roots with spring rain.

ঢাকার উদ্যানে বা বাসাবাড়িতে লাইলাক ফোটে কিনা জানি না, এপ্রিল আসার আগেই ফুটছে নাম না জানা অনেক ফুল। ভার্চুয়াল জগতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘উদ্ভিদ চত্বর’। তাতে উদ্ভিদপ্রেমীরা এই বসন্তে ফোটা ফুলের ছবি তুলে দিয়ে তার নামপরিচয় জানার ব্যাকুলতা প্রকাশ করছেন। কেউ বা সযত্নে বাগানে ফোটানো ফুলের সৌন্দর্য বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে চাইছেন।

ফেসবুকে ঢাকার কড়চা

স্বাধীনতার কবিতা আবৃত্তি

ফেসবুকে ঢাকা মহানগরীকেন্দ্রিক আলোকপাত করার চেষ্টা থাকে এই কলামে। বিজয় দিবসে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত নানা আয়োজনের কথা উঠে এসেছে যথারীতি ফেসবুকে নানাজনের পোস্টে। একজন আবৃত্তিকার জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত আবৃত্তিসন্ধ্যার খবরটি শেয়ার করেছেন বন্ধুদের সঙ্গে। তিনি আবৃত্তিকারদের নাম উল্লেখ করলেও বলেননি কার কার কবিতা তাঁরা আবৃত্তি করেছিলেন। জাদুঘরের আমন্ত্রণপত্রে অবশ্য কবি বা আবৃত্তিশিল্পী কারোরই নাম ছিল না। কিন্তু আবৃত্তিকারদের পক্ষ থেকে যখন আমন্ত্রণপত্রের আঙ্গিকে প্রচারণাপত্র তৈরি করে ফেসবুকে প্রচার চালানো হলো, তখন তাতে কেবল আবৃত্তিকারদের কথাই উল্লিখিত হলো। আমাদের কোন কোন কবি কখনও কখনও আবৃত্তিকারদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলে থাকেন- ‘ওরা পরের ধনে পোদ্দারী করেন।’ ওই আপ্তবাক্য উচ্চারণে কিছুটা তাচ্ছিল্য প্রকাশ হয়ে পড়ে বৈকি। পাশাপাশি এটাও তো অস্বীকার করা যাবে না যে, একটি কবিতা পাঠক-শ্রোতা সমীপে আবেদনময় করে উপস্থাপনের জন্য ব্রতী হন আবৃত্তিকার। সেই স্বীকৃতিটুকু কবিদের পক্ষ থেকে দেয়াটা নিশ্চয়ই জরুরী। একইভাবে আবৃত্তিকাররাও যদি তাঁদের কৃতজ্ঞতার মূল স্থানটিকে এড়িয়ে না যান তাহলে সেটা উত্তম দৃষ্টান্তই হবে। যা হোক, কবি, মানে কবিতার রচয়িতা এবং তার আবৃত্তিকার- এ দুটি পক্ষ একে অপরের সঙ্গে যথোপযুক্ত প্রীতিময় সম্পর্কে আবদ্ধ থাকবেন- এটা কবিতার পাঠক-শ্রোতারাও নিশ্চয়ই প্রত্যাশা করেন।

৩০ মার্চ ২০১৫

marufraihan71@gmail.com